logo
প্রকাশ: ০৯:৫৭:৫১ PM, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬
ছোট্ট সুমাইয়ার কথা
মামুন সারওয়ার

ফুটফুটে সুন্দর একটি মেয়ে। নাম সুমাইয়া। ডাগর ডাগর চোখ। টানা টানা ভ্রূ। হাসি হাসি মুখ। লম্বাটে নাক। সব সময় চুপচাপ থাকে। কথা বলার চেষ্টা করে, বলতে পারে না। হাত নাড়িয়ে কথা বলে। চোখ ইশারায় কথা বলে। কখনও কখনও ফিকফিক করে হাসে, তখন দাঁতগুলো মুক্তার মতো চকচক করে। তবে সে হাসিতে কোনো শব্দ নেই। অথচ মেয়েটিকে দেখলে কী যে মায়া হয়! আবার কখনো সখনো দুঃখও হয়। কারণ সুমাইয়া হাত ইশারায় কথা বললেও মুখফুটে কিছু বলতে পারে না।
সুমাইয়ার এক ভাই আছে, নাম কুতুব। ও ছোট বোনকে খুব ভালোবাসে।
সুমাইয়া যখন-তখন ওর পড়ার টেবিলে বসে থাকে। কুতুব কী পড়ে, মন দিয়ে তা শোনার চেষ্টা করে। ভাইয়ার মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। কলমদানি থেকে কলম নিয়ে খাতায় হিজিবিজি আঁকে। ফুল আঁকে। পাখি আঁকে। নদী আঁকে। গাছ আঁকে। পুতুল আঁকে। আঁকতে আঁকতে একসময় হেসে ওঠে।
কুতুব কখনও কখনও পড়া বন্ধ করে বোনের কান্না দেখে। কিছু বলে না। শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়।
আম্মু আড়াল থেকে পর্দা সরিয়ে দেখেন। একনজর দেখেই আবার নিজের রুমে ফিরে যান।
সুমাইয়ার আইসক্রিম খুব পছন্দ। এজন্য মাঝে মাঝে বড় ভাই কুতুব ওকে আইসক্রিম কিনে দেয়। লাঠিওয়ালা আইসক্রিম।
সুমাইয়ার বাবা আহাদ একজন শিক্ষক। বাবা হয়ে মেয়েকে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন। দেশ-বিদেশের বহু ডাক্তার। তাতেও কাজ হয়নি। এখন তিনি সুমাইয়াকে হোমিও ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। মেয়েকে নিয়ে তার মনে অনেক কষ্ট! যে কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারেন না তিনি! শুধু আল্লার কাছে ফরিয়াদ করেনÑ আল্লাহ, আমার মেয়েটাকে ভালো করে দাও। কী জন্য এমন করলে? কী অপরাধ এ নিষ্পাপ মেয়েটির, যার জন্য তাকে তুমি এমন করছে! আল্লাহ, ওকে ভালো করে দাও। এমন কঠিন পরীক্ষা থেকে তুমি সবাইকে রক্ষা করো। শান্তি দাও। তুমি সবই পার। তোমার অনেক ক্ষমতা। বলতে বলতে আহাদ ঢুকরে ওঠেন।
চোখের জলে তার মুখের দাড়ি ভিজে যায়। জামাসহ সেন্টু গেঞ্জিটাও ভিজে যায়। এমনটা তার প্রায়ই হয়।
প্রত্যেক দিন বিকাল হলেই সুমাইয়া ছাদে ওঠে। বাসার ছাদ ওর খুব পছন্দ। পাশেই একটি পেয়ারা গাছ। তার পাশে লম্বা একটা কৃষ্ণচূড়া। গাছের সবুজ পাতাগুলো একটু বাতাস পেলেই নড়েচড়ে ওঠে। পাতার নড়াচড়া দেখলে ওর খুব ভালো লাগে। কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল ওর খুব পছন্দ। মাঝে মাঝে ও ছাদ থেকে ফুলের পাপড়ি কুড়িয়ে শোকেসের ভেতর সাজিয়ে রাখে।
সুমাইয়া পাখি খুব ভালোবাসে। কাক বা অন্য পাখি দেখলে আনন্দে নাচানাচি করে। হাত উচিয়ে উহ্ উহ্ করে ওঠে। পাখিও যেন তার উহ উহ শব্দ শুনে খুশি হয়।
সুমাইয়া রাতের না খাওয়া বাসি ভাতগুলো কাকদের খেতে দেয়। ওরা খাবারের লোভে কা কা স্বরে জড়ো হতে থাকে। কাকে কাকে পুরো ছাদ ভরে যায়। সুমাইয়া চুপচাপ ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে কাকদের কা- দেখে।
ছাদের ওপর যেন কাকের এক বিশাল হাট বসেছে। কাকেরা বাসি ভাতগুলো ভাগাভাগি করে খায়। ওদের দেখে সুমাইয়া মাঝে মাঝে আহ আহ করে কথা বলতে চায়। স্পষ্ট কথা বেরোয় না। তবুও সে আহ আহ শব্দ করে। কিছু কাক মাথা উচিয়ে সুমাইয়ার দিকে তাকায়। আবার ওড়ে যায়।
এরই মধ্যে ছাদে ওঠেন মা। সুমাইয়া দেখেনি তাকে। মেয়ের কা- দেখে তো মা অবাক! মেয়ে কেবলই আঁ-আঁ শব্দ করছে। যেই না মাত্র মায়ের চোখে চোখ পড়ল, ওমনি ওর মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো মা-মা...
মেয়ের মুখে মা ডাক শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন তিনি। সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
মায়ের চোখ তখন সুমাইয়ার চোখে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় বৃষ্টির ফোটার মতো টপ টপ করে তার কাজল কালো চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল আনন্দ অশ্রু।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]