logo
প্রকাশ: ১২:৫৩:০১ AM, রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৬
বিজয়ী তিন তার্কিক
হিমেল হাসান

ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধব, ছোট ভাই, বড় ভাইÑ সবাই অনেক খুশি। তবে তারা এ জয়ের পেছনে তাদের ডিবেট ক্লাবের অবদানকেই রাখেন সবার উপরে। ডিবেট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সব শিক্ষক, তাদের সতীর্থÑ সবার প্রতিই তারা কৃতজ্ঞ

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রেদোয়ান আল হোসাইন অপু, জাহাঙ্গীর আলম ও জালাল মোঃ আশফাক। তিনজনই বেশ আড্ডাবাজ ও বাকপটু। বন্ধুদের সঙ্গে গল্পগুজব হোক কিংবা চায়ের দোকানে বসে থাকা হোক, তিনজনই যেন আড্ডার মধ্যমণি। সমসাময়িক বিষয় থেকে শুরু করে ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক বিষয়েই জানাশোনা বেশ। তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ক্লাবের সদস্য। একসঙ্গে বিতর্ক করে বেড়ান সবখানে। সম্প্রতি এ তিনজন অংশগ্রহণ করেন ‘চুয়েট তারুণ্য উৎসব-২০১৬’ এর বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। এ উৎসব ছিল ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সারা দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় দল। ২৪ দলের এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন তারা। প্রতিযোগিতায় রাউন্ড ছিল চারটি। প্রত্যেক রাউন্ডেই বিতর্ক হয় সংসদীয় পদ্ধতিতে। পুরো প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে দলনেতা রেদোয়ান আল হোসাইন অপু বলেন, ‘আমরা তিনজন মিলে প্রায় প্রতি মাসেই দুই তিনটা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সাতবার সেমিফাইনালে হেরে যাই। তাই অষ্টমবার এসে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আমাদের জন্য ছিল বিশেষ কিছু। আবার এ আয়োজনে সারা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেরা বিতর্ক দলগুলোই অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের হারিয়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন করাÑ এ অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।’
একেবারেই নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বিতর্ক ক্লাবের সহযোগিতায়ই তাদের এতদূর আসা বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর আলম, ‘আসলে আমার বিতর্কের হাতেখড়ি বুটেক্স ডিবেট ক্লাব থেকে। স্কুল বা কলেজজীবনে আমি কখনোই বিতর্ক করিনি, যা শিখেছি তার সবই এ ক্লাব থেকে। ক্লাবের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও নিয়মিত অনুশীলন থেকেই সব শিখেছি। এ প্রতিযোগিতাটির জন্যও আমরা বেশ পরিশ্রম করেছি। পরপর সাতবার সেমিফাইনালে গিয়ে বাদ পড়ার আক্ষেপটা তো ছিলই। অবশেষে পেলাম সেই কাক্সিক্ষত বিজয়।’ পুরো বিতর্ক প্রতিযোগিতার রাউন্ড পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন এই দলের জালাল মোঃ আশফাক। তিনি তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই ছিল ক্যাম্পাসের জন্য ভালো কিছু করা। আমাদের দলনেতা অপু ভাইও আমাদের সেভাবেই দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা যতটা সম্ভব নির্ভার থাকার চেষ্টা করেছি। তবে প্রথমে গিয়ে যখন এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা দলগুলোকে দেখি, তখন কিছুটা নার্ভাস তো লেগেছেই। আর প্রতিযোগিতার শেষে যখন জানতে পারলাম আমি রাউন্ড পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছি, তখন বেশ ভালো লেগেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে যখন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ অনুভূতি ভুলার নয়।’
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাম ঘোষণার পরপরই অসংখ্য ফোনকল, খুদেবার্তা, ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল তাদের। ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধব, ছোট ভাই, বড় ভাইÑ সবাই অনেক খুশি। তবে তারা এ জয়ের পেছনে তাদের ডিবেট ক্লাবের অবদানকেই রাখেন সবার উপরে। ডিবেট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সব শিক্ষক, তাদের সতীর্থÑ সবার প্রতিই তারা কৃতজ্ঞ। একদিন এ তিনজনের হাত ধরেই বুটেক্স ডিবেট ক্লাব অনেক দূর এগিয়ে যাবেÑ এমনটাই আশা করেন তারা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]