logo
প্রকাশ: ১১:৪৬:৫৫ AM, মঙ্গলবার, নভেম্বর ২১, ২০১৭
তাহমিনা অসাধ্যকে সাধন করছে
মো: মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

তাহমিনা আক্তার। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পূর্ব রামশ্রী গ্রামের মোঃ আবিদ মিয়ার স্ত্রী। এসএসসি পাস করার পর বিয়ে হয় তাহমিনার। তার স্বপ্ন ছিল কিছু একটা করার, যা থেকে নিজের ভালো এবং এলাকার উপকার হবে। এমন সিদ্ধান্ত জেনে স্বামী আবিদ মিয়াও তাহমিনাকে উৎসাহ দেন। এতে তিনি ডেইরি ফার্ম করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অর্থসংকট ছিল। কোথা থেকে আসবে অর্থ- এ চিন্তায় তারা মগ্ন। ঠিক এ সময় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান আরডিআরএস বাংলাদেশ শায়েস্তাগঞ্জ শাখার এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ মোমিনুল ইসলাম। ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলায় এ শাখা থেকে তাদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রথমে এ শাখা থেকে ২০ হাজার টাকার একটি ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হয়। এ টাকা ও নিজেদের জমানো টাকা মিলিয়ে গাভী ক্রয় করে ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করেন তাহমিনা। আয়ের টাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করেন তিনি। আগ্রহ দেখে পর্যায়ক্রমে তাকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে এ শাখা। এ টাকা ও আয়ের অর্থ একত্র করে আজ তার ফার্মে ১২টি গরু রয়েছে। এ ফার্ম থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে এ দুধে কোনো ধরনের ভেজাল নেই। এ কারণে এলাকার লোকজন এ ফার্মে এসে দুধ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

তাহমিনা এ প্রতিবেদককে জানান, একটি গাভী দিয়ে ফার্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন তার ফার্মে ১২টি গরু আছে। প্রতিদিন তিনি দুধ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন। গোবর দিয়ে বিষমুক্ত ফসল চাষ করা যাচ্ছে। অনেক সময় গোবর কৃষক ক্রয় করে নিয়ে যান। তিনি বলেন, এ কাজে আমার স্বামী সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে আমার পুঁজি প্রায় ১২ লাখ টাকা। তাহমিনা বলেন, নিজে স্বাবলম্বী হতে পারছি। সেইসঙ্গে এলাকার লোকজনকে নির্ভেজাল গরুর দুধ খাওয়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আবিদ মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী তাহমিনা কঠোর পরিশ্রমী। তিনি অসাধ্যকে সাধন করছেন। আমি তাকে প্রেরণা দিচ্ছি। ফার্মের কাজে সাধ্যানুযায়ী সার্বিক সহযোগিতা করছি। তাহমিনার স্বপ্ন পূরণে এ ফার্মকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই।

আরডিআরএস বাংলাদেশ শ্রীমঙ্গল ইউনিটের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (ক্ষুদ্র ঋণ) মোঃ শাহাদুল হক বলেন, তাহমিনা আমাদের সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারছেনÑ এ কথা জেনে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। সেইসঙ্গে এলাকার লোকজন গুণগতমানের দুধ ক্রয় করতে পারছেন। আমরা তার পাশে আছি। আমরা চাই, নারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলুক। এ লক্ষ্যে আমাদের সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসহাক মিয়া বলেন, তাহমিনার কথা শুনে ভালো লেগেছে। তিনি পারবেন এগিয়ে যেতে। তার ফার্মে গরুর চিকিৎসা প্রয়োজন হলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বলেন, গরু পালনে একাধিক লাভ। গরুর মাংস খাওয়া যায়। দুধ বিক্রি করে অর্থ আসে। গোবর দিয়ে বিষমুক্ত ফসল চাষ করা যায়। তাহমিনা নারী হয়ে ফার্ম গড়ে তুলে দুধ বিক্রি করে অর্থ পাচ্ছেন। গোবর ব্যবহার করে ফসল চাষ হচ্ছে। সত্যিই চমৎকার।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]