logo
প্রকাশ: ০২:০০:৩৯ PM, রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭
সাফল্য: কেঁচো সারে বিষমুক্ত সবজি
সোনা চৌধুরী, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামের নাম বহড়া। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। একসময় এ গ্রামের কৃষক জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল ফলাতেন। এখন সে চিত্র পাল্টে গেছে। গ্রামের প্রায় সব কৃষক এখন ব্যবহার করেন কেঁচো সার। এ সার ব্যবহারে ফসলে কোনো রোগবালাই হয় না এবং মাটির উর্বরশক্তি বজায় থাকে। তাই উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি।

৩ বছর আগে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে প্রথম কেঁচো সার দিয়ে জমিতে ফসল ফলাতে শুরু করেন বহড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ। কম খরচে কেঁচো সার ব্যবহার করে সবজি চাষে সাফল্য পান তিনি। তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন প্রায় সব কৃষকই শুরু করেছেন কেঁচো সারের ব্যবহার।

কৃষক আবদুল হামিদ জানান, রাসায়নিক সারের বিড়ম্বনা থেকে পরিত্রাণ পেতে কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহী হন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কেঁচো সার ও কুইক কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি বাড়ির আঙিনায় একটি খামার তৈরি করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। শুরুর বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে ওই সার দিয়ে সবজি চাষ করেন। এতে আগের বছরের চেয়ে সবজির ভালো ফলন পান। সবজির উৎপাদন খরচ নেমে আসে অর্ধেকে। এর পরের বছর আরও বেশি পরিমাণে এ সার উৎপাদন শুরু করেন। গ্রামের কৃষক এখন তার কাছ থেকেই কেঁচো সার কিনে নিয়ে যান। উৎপাদন বাড়াতে নতুন আরেকটি খামার তৈরি করছেন বলেও জানান আবদুল হামিদ।

গ্রামের আরেক কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আমরা কেউ ভাবতামই না- আমাদের এলাকায় সারা বছরই মৌসুমি সবজি চাষাবাদ করা সম্ভব। বর্তমানে আমাদের গ্রামের ৭৫ কৃষক সারা বছর সবজি চাষ করছেন। পাশাপাশি পাশের বিল্লি, চোরখৈর, কুচিয়ামাড়া ও আলোকছত্র গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষক কেঁচো সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। গ্রামের সব কৃষক বলছেন, আগে রাসায়নিক সার ব্যবহারের পর ফসলের উৎপাদন খরচ হতো বেশি। রাসায়নিক সার কম প্রয়োগে ফলনও হচ্ছিল কম। আবার অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের কারণে মাটির উর্বরশক্তি ও পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছিল। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছিল সবজির স্বাদ। এখন কেঁচো সার ব্যবহারে ফসলে কোনো রোগবালাইও হচ্ছে না। তাই উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। আদর্শ মাটিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব থাকা উচিত। আমাদের দেশের জমিতে ১ ভাগ আছে। জৈব সার মাটির মধ্যে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে। পানির ধারণক্ষমতা বাড়ায়। মাটির প্রাণসঞ্চারে জৈব সার সহায়তা করে। তাই কেঁচো সার খুবই উপকারী। এর কোনো খারাপ প্রভাব নেই। তিনি বলেন, বহড়া গ্রামের আবদুল হামিদের কারণে অনেক কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। তাকে দেখে আশপাশের গ্রামগুলোয় কেঁচো চাষ ও জৈব সার উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষককে মাটিতে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]