logo
প্রকাশ: ০৫:১৭:২০ PM, মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭
টার্কিতে তিন বন্ধুর বেকারত্ব দূর
অনলাইন ডেস্ক

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাজি ডুমুরিয়া নামক পল্লীতে টার্কির খামার গড়ে তিন বন্ধু তাদের বেকারত্ব দূর করেছে। দেড় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও মাত্র দেড় বছরে তাদের পুঁজি দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ টাকা। আর খুলনা বিভাগের মধ্যে সেরা টার্কি মুরগির খামারে পরিণত হয়েছে তাদের খামার। খুব অল্প সময়ে এ খামারের ব্যাপক সফলতা নজর কেড়েছে অনেকের। শিক্ষিত বেকার তিন বন্ধু সোহাগ, রিয়াজ ও শুভ’র পরিশ্রমের ফসল এই খামার।

খামারে কাজের ফাঁকে তারা তুলে ধরেন তাদের সাফল্যের কথা। তিন বন্ধুই সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হয় চাকরির খোঁজে। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে এক পর্যায়ে চাকরি না পেয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, কীভাবে নিজের ভাগ্য নিজে গড়া যায়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুঁজি। এ সময় কথা হয় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি তাদের মুরগি পালনের উপর আড়াই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ৫০ হাজার টাকা করে তিন জনকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেন। সেদিন ছিল ৪ জুলাই ২০১৬। তিন বন্ধু ওই দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছোট একটি টিনের শেডে ২০টি টার্কি মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করে টার্কির খামার। মাত্র এক বছর ৪ মাস যেতে না যেতে তাদের খামারে এখন ছোট-বড় মিলে ২ হাজার ৬০০ টার্কি। এছাড়াও নিয়মিত ডিম, বাচ্চা ও টার্কি বিক্রি করছে তারা।

বর্তমানে তাদের পুঁজি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। মাসে প্রায় ৪ হাজার ডিম দেয় টার্কি মুরগিগুলো। এরই মধ্যে তারা বাচ্চা ফোটানোর জন্য দুইটি ইনকিউবেটর মেশিন ক্রয় করেছেন। প্রতিদিন ফুটছে শত শত বাচ্চা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসেন ফার্ম। কেউ কেউ আসেন তাদের খামারে বাচ্চা কিনতে।

উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় ফার্মের বিস্তার ঘটাতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৯ জন কর্মচারী। তাছাড়া তিন বন্ধু কর্মচারী হিসেবে ফার্মে কাজ করে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে বেতন উত্তোলন করছেন। তারা আরও বলেন, চাকরির প্রয়োজন নেই, বেকার যুবকরা হাতে হাত মিলিয়ে নিজেরাই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আর এতে একটু সদিচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যথেষ্ট।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘তাদের সাফল্যের খবর পেয়ে একদিন খামার পরিদর্শনে গিয়ে চমকে যাই। তাদের সাফল্যের বিষয়টি আমি নিজে থেকে জেলা প্রশাসককে জানিয়ে দিই।’ জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান জানান, তিন বন্ধুর টার্কি খামার পরিদর্শন করেছি, এর চেয়ে বড় টার্কি খামার খুলনা বিভাগে আছে কিনা আমার জানা নেই। ওদের সাফল্য দেখে অন্য বেকার যুবকরাও স্বনির্ভর হতে পারে। 

সূত্র : বাসস

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]