logo
প্রকাশ: ০৭:৪৪:০৬ PM, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
সাথি ফসল চাষীদের সুদিন ফিরছে
বেনাপোল সংবাদদাতা

যশোরের শার্শা উপজেলার চাষীরা তুলাক্ষেতে সাথি ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন । শার্শায় এবার তুলার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ বছর বীজ বপনের সময় অতিবৃষ্টির কারণে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও চাষীরা তুলার সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। গেল বছরের তুলনায় এ বছর তুলা চাষ কিছুটা কম হলেও ফলনের ব্যাপারে চাষীরা এবার বেশি লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

শার্শা উপজেলা কটন ইউনিট অফিসার মীর শহিদুল ইসলাম জানান, শার্শা উপজেলা তুলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফলনও হয় আশানুরূপ। এ বছর উপজেলায় ২৪০ একর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। গেল বছর চাষ হয়েছিল ২৬৭ একর জমিতে। গেল বছরের তুলনায় এ বছর তুলা চাষ কিছুটা কম হয়েছে। কারণ বীজ বপনের সময় জুলাই-আগস্ট মাসে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এতে জমিতে পানি জমে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ওইসব জমিতে তুলা চাষীরা আবার তুলা বীজ বপন করতে পারেননি। বর্তমানে যেসব জমিতে তুলা আছে, খুবই ভালো অবস্থায় আছে। তবে স্থানীয় চাষী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর শীত দেরিতে এলে তুলার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগাম শীত হলে ফলনে মারাত্মক প্রভাব পড়ত। উপজেলার মাটিপুকুর, জিরেনগাছা, বেনাপোল, কাগজপুকুর, পুটখালী চরের মাঠ, ত্রিমোহিনী, নারাণপুর, কাঠুরিয়া, উলাশী, সম্বন্ধকাঠি গ্রামসহ অর্ধশত মৌজা তুলা চাষের জন্য উপযোগী। এজন্য শার্শার চাষিরা তুলা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। মৌসুমি আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য চাষীরা তুলার সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে প্রতি বিঘা জমিতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। এ বছর ২০ একর জমিতে সাথিফসল চাষ হয়েছে।

মাটিপুকুর গ্রামের তুলা চাষী আবু তালেব ও ত্রিমোহিনী গ্রামের শরিফুল এ প্রতিনিধিকে জানান, তুলা ৬ মাসের ফসল হলেও খুবই লাভজনক ফসল। এ অঞ্চলে কিছু উঁচু জমি আছে, যেখানে তুলা চাষ ছাড়া অন্য আবাদ ভালো হয় না। এজন্য তুলা চাষ লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতি বছরের মতো তারা তুলা চাষ করেছেন।

 একই গ্রামের ফজলু রহমান ও বেনাপোলের আবদুর রহমান বলেন, তুলার সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে সবজি চাষ করলে তুলার কোনো ক্ষতি হয় না, বরং প্রতি বিঘা জমিতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়।

আবদুর রহমান বলেন, গেল বছর আমরা তুলার আশানুরূপ ফলন পেয়েছিলাম। প্রতি মণ তুলা ২ হাজার ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করি।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের দাবি, চাষীদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা ভেবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতি মণ তুলার মূল্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করলে ভালো হয়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]