logo
প্রকাশ: ০৮:০৮:২৭ PM, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩০, ২০১৮
ঝুট কাপড়ের দড়িতে সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য
অনলাইন ডেস্ক

গার্মেন্টের পরিত্যক্ত কাপড় (ঝুট কাপড়) দিয়ে বিশেষভাবে দড়ি তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন নওগাঁ সদর ও রানীনগর উপজেলার ১০ থেকে ১২ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার নারী। দরিদ্রতার কষাঘাত মুছে ফেলে তারা সংসারে ফিরিয়ে এনেছেন সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্য।

তাদেরই একজন নওগাঁ সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী গ্রামের ফেরদৌসি আকতার। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। স্বামী বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ফেরদৌসি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বড় মেয়ে মারা যাওয়ায় দুঃখের আর শেষ নেই ফেরদৌসির পরিবারে। যখন অভাবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিশাহারা ঠিক তখনই এক নিকট আত্মীয়ের পরামর্শে ঝুট কাপড় থেকে বিশেষভাবে দড়ি তৈরি শুরু করেন তিনি। ছয় বছর ধরে দড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে বেশ ভালো লাভ আসতে থাকে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দড়ি তৈরির আয় দিয়ে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, ওষুধপত্র ক্রয়, সংসারের যাবতীয় খরচ এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের পড়াশোনার খরচ সংকুলান সম্ভব হচ্ছে। সংসারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

শুধু ফেরদৌসি আকতার নন, নওগাঁ সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী, মাদারমোল্লা, চকবুলাকী, শিমুলিয়া, বলিরঘাট এবং রানীনগর উপজেলার এনায়েতপুর ও বাহাদুরপুরসহ ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার নারী ঝুট কাপড় থেকে দড়ি তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এ যেন এক জীবনযুদ্ধে জয়লাভের সফল কাহিনি। এসব নারী দড়ি তৈরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এ ঝুট কাপড় থেকে তারা আকর্ষণীয় শিকা, গরু ও ছাগল বাঁধার জন্য দড়ি তৈরি করছেন। এসব দড়ি মজবুত ও টেকসই বলে পানের বরজে বেশি ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় চাহিদাও বেশি। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে অনেক নারী এ দড়ি তৈরির কাজ করছেন। পরে দড়ি বিক্রি করে তাদের ঋণ শোধ করেও লাভের মুখ দেখছেন। তবে তারা বলেছেন সরকারি সহযোগিতা ও স্বল্পসুদে ঋণ পেলে তাদের এ কাজের প্রতি আরও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিটি ঝুট কাপড়ের বস্তার ওজন ৮০ থেকে ৮৫ কেজি। প্রতি কেজি ঝুট কাপড়ের দাম ৪৫ টাকা। সে হিসাবে এক বস্তা ঝুট ক্রয় করতে তাদের খরচ হয় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এক বস্তা ঝুট থেকে তৈরি দড়ি বিক্রি হয় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। একজন নারী প্রতি সপ্তাহে দুই বস্তা ঝুটের দড়ি তৈরি করতে সক্ষম। কাজেই এক বস্তা ঝুট থেকে তৈরি দড়ি বিক্রি করে লাভ হয় প্রায় ৭০০ টাকা। এভাবে প্রতি মাসে একজন নারী গড়ে আট বস্তা ঝুট থেকে দড়ি তৈরি করতে পারেন। সহজেই একজন নারী প্রতি মাসে ৫ হাজারের বেশি টাকা নিট লাভ করে থাকেন। যেহেতু সংসারের অন্যসব কাজের ফাঁকে এ কাজগুলো তারা করে থাকেন কাজেই এটাই অত্যন্ত লাভজনক। এমনকি কোনো কোনো পরিবারের সব সদস্য মিলে এ কাজ করে থাকেন। সেসব পরিবারে লাভের পরিমাণ আরও বেশি।

সদর উপজেলার ইলশাবাড়ী গ্রামের ফেরদৌসি আকতার ও রেবেকা বিবি, মাদারমোল্লা গ্রামের আকলিমা বেগম ও জরিনা আকতার, শিমুলিয়া গ্রামের আয়শা বেগমসহ অনেকেই বলেছেন, প্রতি সপ্তাহে দড়ি বিক্রি করে প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। আর এখান থেকে পরিবারের ওষুধপত্র, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ সংকুলান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সংসার খরচ সহজেই মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার ঝুট কাপড় ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে ঝুট কাপড় কিনে নিয়ে যান নারীরা। এরপর তারা দড়ি তৈরি করে আবার তার কাছে বিক্রি করেন। আর এসব দড়ি বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর থেকে এসে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান।

নওগাঁ শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের (বিসিকি) উপব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র জনগণকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে। জেলার শিল্প উদ্যোক্তাদের বিসিক থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ এবং শিল্পকারখানা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হয়। সূত্র : বাসস

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]