logo
প্রকাশ: ০৬:১৬:১৪ PM, সোমবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৬
হেরে গেলাম তোমার কাছে
শেখ জাহিদুজ্জামান

কথার শুরুটা না হয় একটু রোমান্টিক কিংবা কাছে পাওয়ার তীব্রতার আকাঙ্খার মধ্য দিয়ে সূচনা হোক। জানি এভাবেই সব নিঃশেষ হবে। তবে অনেক কথা যে আছে জমা। আমি ভুলতে পারি না সেই সম্পর্কের কথা। কি অদ্ভুত মানুষ তুমি। সেই যে গেলে আর ফিরে এলে না। জানি না কি ছিলো আমার ভুল। যা হোক আসি নতুন কথায়, সেদিনটার কথা আজও আমার অনেক মনে পড়ে।যখন বলতে তোকে দিয়ে অনেক কিছু হবে। তুই একদিন অনেক বড় হবি। আর আমি তোর কাছে ইন্টারভিউ দিব। কি নিবি না আমার স্বাক্ষাৎকার?
সেদিন দুচোখ গড়িয়ে গড়িয়ে অশ্রু ঝরছিলো। বলেছিলে বোকা ছেলের মত কাঁদছিস কেন? আরে গাঁধা তোর মধ্যে অনেক মেধা আছে। তুই পারবি এই পৃথিবী জয় করতে। এভাবেই শুরু হয়েছিলো একটি সম্পর্ক। অতপর সম্পর্কের মধ্যে কখনো খুনসুটি হয়নি। অজপাড়া গায়ের একটি ছেলে আমি। আভিজাত্যের কোনো ছোঁয়া লাগেনি আমার গাঁয়ে। গ্রামের সেই সহজ সরল ছেলেটি আজ পরিচয় দিতে জানে। মানুষের প্রাপ্য সম্মান দিতে জানে। সে জানে কিভাবে সবাইকে আপন করে কাছে টানতে হয়।
হঠাৎ একদিন অফিস শেষে রাতে বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এমন হয় বলা হলো, আজ সারারাত তুই আমার সাথে থাকবি। কি সমস্যা আছে তোর? সেদিন মনে হয়েছিলো যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছি।তখন আমি যেন নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সারারাত অনেক তালিম পেয়েছিলাম।রাতে না ঘুমিয়ে সারাদিন অফিসে ডিউটি করি।কেউ বুঝতে পারেনী আমি সারারাত জেগে ছিলাম।
আমাদের সম্পর্ক দেখে অফিসের অনেকের হিংসা হতো। তারা অনেক কথা বলতো আমাদের নিয়ে। বলতো মায়ের চেয়ে নাকি মাসির দরদ বেশি। সব অপবাদ অবজ্ঞা করে আমি ভালোবেসে ছিলাম আপনাকে। বসিয়ে ছিলাম নিজের সিংহাসনে। কিন্তু হঠাৎ একটি ঝড় বয়ে যায় আমার উপর দিয়ে। শত্রুদের কাছে হেরে যায় আমি। অপবাদ আর লাঞ্চনার মধ্য দিয়ে আমার বিদায় ঘটে। জানি না সেদিন কি অপরাধ ছিলো আমার। আমি বলেছিলাম আমি নিরপরাধ। আমি অপরাধী নয়। সেদিন কেউ আমার কথা বিশ্বাস করেনি। হয়তোবা আপনিও না।
আপনি কি জানেন সেদিন বাসায় এসে অনেক কেঁদে ছিলাম আমি। এমন অবস্থা হয়েছিলো আমার,যেন আমি পাগল হয়ে গেছি। সেদিন  রাতে কথা হয় আপনার সাথে, আমি বলেছিলাম আমি নিরপরাধ। আমি কোনো অন্যায় করেনি। আমাকে পাঠার বলি বানানো হয়েছে। আপনি শুধু বলেছিলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি দেখছি বিষয়টা। হয়তো এর মধ্য দিয়েই সম্পর্কের ইতি ঘটল। অতপর দেখা হতো মাঝে মধ্যে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতো।
এইতো সেদিন আপনি বলেছিলেন তুই এতো মানুষের ভুল ধরিস কেন? আমি বলেছিলাম, যে ভাষা আমার মায়ের ভাষা সে ভাষা কেন ভুল হবে। আমি বলেছিলাম, শেখ হাসিনার স্থানে যদি মেথ হাসিনা লেখা হয় তাহলে সেই ভুল ধরা কি আমার অপরাধ? তখন আপনার সেই মিষ্টি কথা আর গাল ভেঙ্গে হাঁসি সব কিছু ভুলিয়ে দিয়েছিলো আমাকে।

অতপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফোনের উপর ফোন কোন হদিস নেই। জানিনা কেন এমন হলো। হয়তো বৈশাখের কাল বৈশাখী ঝড় সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে। কেন এমন হলো সেটি নিজেও জানি না।যে মানুষটি আমায় বলত, গরীব হয়ে জন্মালেই গরীব হয় না। যার সুন্দর মন আছে সে কখনো গরীব নয়। তোর তো সবই আছে কি নেই তোর। ভালোবাসা বুঝি একেই বলে। হঠাৎ আসে আবার হঠাৎ করেই চলে যায়। কি নিষ্ঠুর এই ভালোবাসা। অফিসে যখন সবাই বলতো এরা বুঝি একই মায়ের সহোদর। তখন আপনি বলতেন, হলেও হয়তোবা।
একদিন গাড়িতে যেতে যেতে বলেছিলাম, কখনো ভুলে যাবেন না তো আমায়? আপনি বলেছিলেন ধূর বোকা। তোকে কখনো ভুলে থাকা যায়। তোর মুখের কথা না শুনলে কি বেঁচে থাকা যায়। সেদিন বলেছিলাম, আপনি কি জানেন? এই চাকুরি করে আমার পড়ালেখা চলে। আমার কিছুই নেই। সহায় সম্বল বলতে এখন আমার এই চাকুরিটাই। বাবা থেকেও না  থাকার মত। আমার মায়ের হাতেই সংসারের চাকা। এই মায়ের জন্যই আজ আমার এতো দূর আসা। আমার কথা গুলো শুনে সেদিন আপনি কেঁদেছিলেন। বলেছিলেন, আগে তো কথনো শুনিনি এসব কথা। আগে কেন বলিসনি আমায়। যে মানুষটি আমার কষ্টের কথা শুনে কেঁদেছিলো সেই মানুষটি আজ আমায় ভুলে গেছে।ভুলে গেছে তার দেয়া কথাটি। তাই বলতে হয় জীবনটা একটা আয়না। ভেঙ্গে গেলে জোড়া লাগে তবু দাগ মুছে ফেলা যায় না।
কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে খুব তাড়াতাড়িই চলে যায়।রেখে যায় গভীর কিছু কথা।হয়তো সেই সম্পর্ক মানুষের দেওয়া কোনো নামে বন্দি করা যাবে না।হয়তো তাকে নিয়ে লেখা অনুভূতি ভাষায় লিখে প্রকাশও করা যাবে না।হয়তো কাওকে বোঝানো যাবে না সেই অনুভূতির তীব্রতার ভাষা।তবে সেই দুটি মানুষ উপলব্ধি করতে পারে তাদের নামহীন দুটি সম্পর্কের কথা।এভাবে না গেলেও পারতেন। আর কয়টা দিন থাকলে কি বড়ই অসুবিধা হতো।অভিমান করেই চলে গেলে।হঠাৎ এলে আবার হঠাৎ করে চলে গেলে। চলে গিয়ে তুমি কি জিতে গেছ নাকি জয়ী হয়েই চলে গেলে। আমারতো মনে হয় আমি হেরে গেলাম তোমার কাছে।  
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]