logo
প্রকাশ: ১১:৩৮:১৭ PM, বুধবার, এপ্রিল ১১, ২০১৮
তারুণ্যে বৈশাখ
সৈয়দা সাবা-ই-জান্নাত (দ্যুতি)

বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারায় বৈশাখ মাসের প্রথম দিন দেশব্যাপী চলে বর্ষবরণ উৎসব। গ্রাম থেকে শহরে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে পালিত হয় বাংলা সনের প্রথম দিন। আর সেই উৎসবে সব বয়সি জনতার সঙ্গে তরুণরাও অংশগ্রহণ করে বিপুল উৎসাহে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনভর চলে নানা আয়োজন। তেমনি নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। 

বৈশাখের সকাল
ভোর থেকে টুং-টাং চুড়ির আওয়াজ আর হইচইয়ে মুখর হয়ে ওঠে মেয়েদের হলগুলো। শাড়ি-চুড়ি-আলতায় পুরোদস্তুর বৈশাখি সাজে সাজতে ব্যস্ত সবাই। লালপেড়ে শাড়ি আর ফুলের মালায় সাজে স্নিগ্ধ তরুণীরা। কেউ কেউ যোগ দেয় শোভাযাত্রায়। ছেলেরা কেউ লাল-সাদা পাঞ্জাবি পরে, কেউবা পরে ফতুয়া। মাথায় রঙিন গামছা বাঁধতেও দেখা যায় অনেককে। সবাই সেজে ওঠে বৈশাখী সাজে। দলবেঁধে ছোটে বৈশাখি চত্বরে। বৈশাখি মঞ্চে অনুষ্ঠান চলে সকাল থেকেই।
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানে আহ্বান জানানো হয় নতুন বছরকে। দেশীয় সংস্কৃতির আবহকে বজায় রেখে নাচ-গান-আবৃত্তিতে জমে ওঠে পরিবেশ। বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্টল বসানো হয়। পান্তা-ইলিশ, হরেকরকম ভর্তার পাশাপাশি বাতাসা, মুড়িমুড়কিরও সমাহার থাকে। গরমে বিভিন্ন ধরনের জুস কিংবা কুলফি মালাইয়েরও থাকে সমান চাহিদা। হাতপাখা, বাঁশি, মাটির পুতুল আর বিভিন্ন খেলনার পসরা সাজিয়ে বসে দোকানিরা। বছরের প্রথম দিনের প্রথম সকালটা যেন লাল-সাদার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। 
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ বৈশাখি চত্বরে মানুষের সমাগম থাকে দুপুর পর্যন্ত। 
তপ্ত দুপুর 
সকালের আয়োজনের পর শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজের পালা। জব্বারের মোড় বা শেষ মোড়ের হোটেলগুলোয় বরাবরই কম দামে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের খাবারদাবার। বিশেষ দিনগুলোয় দই-চিড়াও পাওয়া যায়। দলবেঁধে কেউ কেউ যায় শেষ মোড় বা জব্বারের মোড়ে, আবার কেউবা যায় ময়মনসিংহ শহরে। সেখানে ভূরিভোজ ছাড়াও সার্কিট হাউজ মাঠের মেলাটা দেখা হয়ে যায়। নাগরদোলা, লাঠিখেলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে মঞ্চে। 
উচ্ছল বিকাল
বিকালে আবারও মুখর হয়ে ওঠে সবুজ ক্যাম্পাস। ব্রহ্মপুত্রের পাড়, বিজয়-৭১, কৃষি অনুষদের মাঠ কিংবা ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে যাওয়া আমবাগানের রাস্তায় অগণিত মানুষের ভিড় জমে। দৃষ্টিনন্দন ঘোড়ার গাড়িতে চেপে প্রায় ১২৬১ একরের ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখে অনেকেই। শহরবাসীও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে ক্যাম্পাসে। ভার্সিটির বোটানিক্যাল গার্ডেনেও প্রচুর লোক সমাগম দেখা যায়। 
বন্ধুরা মিলে ঘুরে বেড়ায় প্রিয় ক্যাম্পাসে। অনেকেই ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকায় করে ঘোরে। ব্রহ্মপুত্র নদের একপাশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আর অপর পাশে গ্রামাঞ্চল। সবুজ প্রকৃতি, দিগন্তবিস্তৃত আকাশ আর ব্রহ্মপুত্রের জলে গোধূলির আলোয় এক অপূর্ব দৃশ্যের সূচনা হয়। নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে কেউ কেউ গলা ছেড়ে গান ধরে। বিকালের মিষ্টি বাতাস এই ঘোরাঘুরি-আড্ডায় যেন এক নতুন মাত্রা যোগ করে। কখনও কখনও স্টেডিয়ামে হয় ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব।
উৎসবমুখর সন্ধ্যা
সন্ধ্যায় যেন আরও জমজমাট হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। কেআর মার্কেটের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অডিটরিয়ামের সামনে বসা ফুচকা-চটপটির দোকানগুলোয় চলে আড্ডা। বছরের প্রথম দিনের বিদায়লগ্নে গল্পে-আনন্দে-গানে মেতে ওঠে সবাই। 
এমন করে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত প্রতি বছর এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় পহেলা বৈশাখ। পুরানো দিনের সব ক্লান্তি-জরা মুছে আনন্দ-উৎসব আর মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় একটি নতুন বছরের। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]