logo
প্রকাশ: ০৪:০৯:২৫ PM, মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮
চুল বিক্রি করে মাসে আয় ২৫ হাজার টাকা
আলোকিত ডেস্ক

ফয়জুর রহমানের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে নারীদের মাথার চুল সংগ্রহ এবং তা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। নওগাঁ শহরে ভাড়া বাসায় থেকে সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্নে বিভোর তিনি। খবর বাসসর

আত্মপ্রত্যয়ী যুবক ফয়জুর রহমান আগে গ্রামে থেকে অন্যের জমিতে মজুরি দিয়ে সংসার চালাতেন। দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হতো। তবে যেদিন কাজ জুটত সেদিন। কাজ না হলে বসেই দিন কাটাতেন। ভাগ্যে জুটত অনাহার বা অর্ধাহার।

কিন্তু দিন পাল্টেছে তার। সাইকেলে করে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মহল্লা, এ গ্রাম সে গ্রাম ঘুরে নারীদের মাথার পরিত্যক্ত চুল সংগ্রহ করে থাকেন। সেলুন বা বিউটিপার্লারে ছেঁটে ফেলা চুল নয়। প্রত্যহ চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে চিরুনির সঙ্গে যে চুলগুলো উঠে আসে সেগুলো। এর বিনিময়ে কাউকে মূল্য বাবদ নগদ টাকা, কাউকে বিভিন্ন প্রসাধনীদ্রব্য দিয়ে থাকেন। আবার কোনো কোনো নারী চুলের বিনিময় মূল্য নিতে রাজি হন না। সেগুলো বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন তিনি।

চিরুনি দিয়ে মাথা থেকে উঠে আসা চুল বিক্রি হয় এ কথা এরই মধ্যে জানাজানি হয়েছে। যার ফলে বাড়িতে বাড়িতে নারীরা সে চুল সংরক্ষণ করে রাখেন কখন আসবেন এসব চুল ক্রেতা।

ফয়জুর জানান, এভাবে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২ থেকে আড়াই কেজি চুল সংগ্রহ হয়ে থাকে। সে হিসাবে মাসে তার চুল সংগ্রহ হয় কমপক্ষে ১০ কেজি। এ পরিমাণ চুল সংগ্রহ করতে মাসে তার খরচ হয় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

এদের মতো চুল সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে পাইকারিভাবে চুল কেনার জন্য আড়ত রয়েছে মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া হাটে। সেই আড়তে তারা প্রতি কেজি চুল ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করে থাকেন। সে হিসাবে তিনি মাসে তার সংগৃহীত চুল বিক্রি করে থাকেন ৫০ হাজার টাকায়। এতে প্রতি মাসে নিট মুনাফা হয় ২৫ হাজার টাকা। ফলে তার সংসার থেকে অভাবের কালোছায়া দূর হয়ে গেছে। 

ফয়জুর এখন তার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়ার মতো অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করেন। দুই সন্তানকে শহরের ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলে একটি সোনালি স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখন আর বেশি দূরে নয়। 

নওগাঁ শহরের মৃধাপাড়ার আনিছুর ও কিবরিয়া, আনন্দনগর এলাকার হাফিজুরসহ বেশ কিছু যুবক এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, বর্তমানে মানুষের আয়বর্ধক অনেক কাজের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন আর বসে অলস জীবনযাপন করেন না। কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনধারণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে অনেক। এভাবেই মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]