logo
প্রকাশ: ১২:৫৭:০৪ PM, মঙ্গলবার, মে ৮, ২০১৮
মিষ্টিকুমড়ায় দিন বদল
আবদুস ছামাদ খান, চৌহালী

যমুনার ভাঙা-গড়ার সঙ্গে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। তারা ভাগ্য নিয়ে দ্বিধায় থাকে। তবে এবার তাদের দিন বদলে দিয়েছে মিষ্টিকুমড়া। চরাঞ্চলে মিষ্টিকুমড়া আবাদ করে ভাগ্য পরিবর্তন করছেন এখানকার শত শত দরিদ্র কৃষক। তাদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কৃষির এ ফসল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। 

জানা গেছে, চৌহালীতে কৃষি অধিদপ্তর এ বছর জেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা ছাড়িয়ে প্রায় একশ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ হয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলের দিগন্তজুড়ে মিষ্টিকুমড়া খেতের সমারোহ। বাম্পার ফলনে কৃষক বেশ খুশি। এ অঞ্চলের অর্থকরী ফসল ধান, ভুট্টা, পাট, তিল, কাউন, বাদাম, কালাই ও গম চাষের ওপর নির্ভরশীল কৃষকের জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ এনে দিয়েছে নতুন গতি। কৃষকের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কৃষির এ সফল পরিবর্তন। এখানে উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। উর্বর বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে উপজেলার খাষকাউলিয়া, ওমারপুর, সহল ও সোদিয়াচাঁদপুরসহ সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে মিষ্টিকুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। 

সোদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের বয়ালকান্দি গ্রামের মিষ্টিকুমড়া চাষি রায়হান আলী জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। তিনি আশা করছেন, অন্তত ৪ লাখ টাকার মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও ওমারপুর ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের মিষ্টিকুমড়া চাষে যারা লাভবান হয়েছেন তাদের মধ্যে আ. ছামাদ, ফকির মোল্লা ও আ. মজিদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় তারা কুমড়া আবাদ করে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন। পাশাপাশি বিক্রিতেও তেমন কোনো ঝামেলা নেই।

চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. গোলাম হাসান মজুমদার জানান, উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। সেই জমিগুলোতে মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে উপজেলার শতশত কৃষক তাদের পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুন মিয়া জানান, এবার উপজেলার চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দ্বিগুণ জমিতে কৃষক মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তারা লাভবান হয়েছেন। প্রতি বিঘায় ১১ থেকে ১২ মণ মিষ্টিকুমড়া হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]