logo
প্রকাশ: ০৪:৪৪:৩৬ PM, বৃহস্পতিবার, মে ১৭, ২০১৮
প্রযুক্তি আসক্তি যেন ডিজিটাল কোকেন
মিজান রহমান

সামিয়া সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-মা দুইজনই  সরকারি চাকরিজীবী। তারা অফিসে চলে যাওয়ায় দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে একা থাকতে হয়। তাই সময় কাটানোর জন্য মা শখ করে তাকে ট্যাব কিনে দেন। আর এ ট্যাবই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটির। কারণ সামিয়ার দিনরাত এখন ওই ট্যাবেই সময় কাটে। গেম, ফেইসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তার অবাধ বিচরণ। এখন বাস্তব জীবন নিয়ে তার ভাবনাটাই কম। ভার্চুয়াল জগৎটায় গুরুত্ব বেশি। এ নিয়ে এখন তার পরিবার এখন বেশ অসহায়। কারণ মেয়েটির তার পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তার ভাই বাসায় ফিরল কিনা সে খবর তার কাছে নেই অথচ বলিউডের নায়ক ডাস্টি বিবার কোথায় আছেন, কি করছেন সে খবর তার জানা। এত গেল টিনেজ সামিয়ার খবর, আরও অবাক হবেন প্রবাসী মিল্কি রহমানের খবর শুনে ৪৫ বছর বয়সে প্রবাস কাটিয়ে বেশ কিছু অর্থসম্পদ করে দেশে ফিরেছেন। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে বেশ আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপন করছিলেন।  শখ করে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তরুণ একটি ছেলের ছবি দিয়ে ফেঁক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। ফেঁক আইডিতে তিনি স্মার্ট একটি ছেলের ভূমিকায় পোস্ট দিতেন। সময়-অসময় কবিতা ও ছন্দ দিয়ে নিজের পুরানো দিনের না বলার কথাগুলো প্রকাশ করতেন। সুন্দর সুন্দর তরুণ-তরুণীদের অ্যাড রিকোয়েস্টে পাঠাতেন। কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য, অতীত সে তরুণ বয়সের সময়টা উপভোগ করা। কিছুদিন যেতেই তার আচরণে ব্যাপক প্রভাব পড়ল।  আচরণ যেন সে ২৫ বছরের যুবক। কারণ তিনি ভাচুর্য়াল জগতে এক তরুণীর প্রেমে পড়ে গেছেন। যদিও তিনি বুঝতে পারছেন এটা সম্ভব নয়। কিন্তু ভার্চুয়াল আসক্তি তাকে পেয়ে বসল। সর্বনাশ ঘটল তার পরিবারের। ছেলেমেয়ে, পরিবারই তখন ঘরের বড় কর্তার আচরণে অবাক হওয়ার পাশাপাশি পরিত্রাণের জন্য কাউকে যে বলবে সে সাহসও পাচ্ছিল না। 

ঘটনা দুটি গল্প মনে হলেও শুধু সামিয়া ও মিল্কি নন, আমাদের সমাজের এখন অনেকেই এ ভার্চুয়াল জগতে আসক্ত। এটাই বাস্তবতা। সত্যি এখন ভাবার বিষয়। সমাজবিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে এটিকে নীরব ঘাতক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশেও  সমাজের  নানামুখী কল্যাণ নিয়ে কাজ করা অন্যতম প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন তাদের বুলেটিনে এনিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে এটিকে নীরব ঘাতক আখ্যায়িত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে আজ যেখানে যত অস্থিরতা, হিংস্রতা, নেতিবাচকতার একটি বড় কারণ এই ভার্চুয়াল ভাইরাস। যে মড়কে আজ পৃথিবীব্যাপী একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিমানুষের নৈতিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও বিশ্বস্ততা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমমর্মিতার মতো মানবিক উৎকর্ষের চিহ্নগুলো। বিশ্বজুড়ে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা-প্রতিবেদনগুলো বলছে, স্মার্টফোন-ইন্টারনেটের লাগামহীন ব্যবহার আর গেম-ইউটিউব-সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আসক্তি জীবন ঘাতক মাদকে আসক্তির মতোই ভয়াবহ। যাকে গবেষকরা অভিহিত করেছেন ‘ডিজিটাল কোকেন’ হিসেবে! তাদের মতে, মাদকাসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট মাদকের চাহিদা সৃষ্টি হলে যে রাসায়নিক নিঃসরিত হয়, ঠিক একই ঘটনা ঘটে এসব প্রযুক্তিপণ্যে আসক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও। আর এ আসক্তির শিকার আজ ধনী-গরিব নির্বিশেষে লাখো কোটি শিশু-কিশোর-তরুণসহ প্রায় সব বয়সি মানুষ।

শুধু তা-ই নয়, দেশে দেশে এখন জটিল মনোদৈহিক রোগব্যাধির প্রধানতম কারণ হিসেবেও এ ভার্চুয়াল ভাইরাসকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যা শুধু ব্যক্তির জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বিষহ করে তুলছে না, হুমকির মুখে ফেলেছে মানব সভ্যতার চিরায়ত মূল্যবোধগুলো। সামাজিক যোগাযোগ নামধারী অবক্ষয়ের নিঃশব্দ ঘুণপোকা আজ ক্রমাগত ধ্বংস করে দিচ্ছে মানুষে মানুষে সম্পর্কের শাশ্বত ভিত্তি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ভার্চুয়াল গেম ও সাইটে আসক্তি আর সেলফি হুজুগ আজকের তরুণদের করে তুলছে আত্মকেন্দ্রিক, বিষন্ন, পরিবার-বিচ্ছিন্ন ও হতাশাগ্রস্ত। এদের সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন রীতিমতো চালু করতে হচ্ছে স্মার্টফোন রিহ্যাব সেন্টার!

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ক্লাসের স্মার্ট ছেলেটি, অফিসের করিৎকর্মা সহকর্মী, প্রতিবেশী ভাবি- কার নেই ফেইসবুক আইডি! সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন! অতএব আমারও চাই। ব্যস, এভাবেই শুরু হয়ে গেল একঝাঁক ফেইসবুক বন্ধু নিয়ে ভার্চুয়াল জীবন। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত তথ্য-উপাত্তগুলো বলছে, ফেইসবুক চালাতে চালাতে কখন যে আপনি আসক্ত হয়ে যাবেন, টেরই পাবেন না। হুঁশ ফিরবে যখন, ততক্ষণে শরীর-মন আর পরিবারে অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেছে। ফিরে পাবেন না আপনার ক্ষয়ে যাওয়া সময়-মেধা-অর্থ। তথাকথিত সামাজিক যোগাযোগের বিধ্বংসী মাধ্যমগুলো তৈরির উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনি যেন এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দিনরাত। আর এদিকে ভারি হতে থাকবে তাদের পকেট। 

বিশ্বব্যাপী নানা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, এটি একটি বায়বীয় জগতে নিঃসঙ্গ প্রজন্ম। ফেইসবুক ও ইউটিউবসহ ১১টি ভার্চুয়াল যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে গবেষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পিটাসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা। এতে অংশ নেন ১৯ থেকে ৩২ বছর বয়সি ১ হাজার ৭৮৭ জন, যারা দিনে ২ ঘণ্টার বেশি সময় এসব বায়বীয় মাধ্যমে ব্যয় করে। পরবর্তী সময় তাদের মধ্যে দেখা দেয় প্রবল একাকিত্ব। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ভার্চুয়াল জগতে যারা যত বেশি সময় কাটায়, তাদের নিঃসঙ্গতা তত বেশি। তারা তত বেশি সমাজবিচ্ছিন্ন। 

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর। জার্নাল সাইকোলজিক্যাল রিপোর্ট : ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ট্রমাতে প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ফেইসবুক ব্যবহার করার দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করে এমন মানুষের মস্তিষ্কের প্যাটার্নের সঙ্গে মিলে গেছে মাদকদ্রব্য ও জুয়ায় আসক্ত মানুষের মস্তিষ্কের প্যাটার্ন। ছবিতে লাইক পাওয়ার আগ্রহ মস্তিষ্কে নিঃসরণ করে ডোপামিন নামক হরমোন। ড্রাগ গ্রহণের সময় বা জুয়ায় জিতলে মস্তিষ্কে এই একই হরমোন নিঃসরণ হয়ে থাকে।  

মেধাশূন্য ও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন তরুণরা : ভিডিও গেম খেলার সময় ব্যক্তির মনে হয়, গেমের জগৎটাই বাস্তব, এখানকার সবকিছু সে-ই নিয়ন্ত্রণ করছে। গেমে আসক্ত ব্যক্তি বাস্তবতা ও কল্পনার মাঝে পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অথচ বোঝে না- সে সাজানো নাটকের অংশমাত্র। এ কথাগুলো বলেছেন, আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাইকোলজিস্ট ডগলাস জেনটাইল। আঁৎকে ওঠার মতো একটি ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক দম্পতি অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে সারা দিন সাইবার ক্যাফেতে পড়ে থাকত। এক পর্যায়ে গেমের মধ্যে কাল্পনিক একটি শিশুকে নিয়ে তারা এতই মনোযোগী ছিলেন যে, বাস্তবে নিজেদের তিন মাস বয়সি সন্তানকে দিনে খাবার দিত মাত্র একবার। অনাহারে-অযত্নে শেষ পর্যন্ত মারা যায় ছোট্ট শিশুটি। জার্মানির মিউনিখে ১৮ বছরের এক তরুণ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৯ জনকে নিহত ও ১৬ জনকে আহত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় সে ছিল সহিংস গেমে আসক্ত। দীর্ঘ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, সহিংস গেমগুলো কিশোরদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও হিংস্র করে তুলছে।  

শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে : শিশু-কিশোর সন্তান সামলাতে এখন ঘরে ঘরে মা-বাবার নাজেহাল অবস্থা। সন্তান আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। থাকবে কীভাবে? সন্তানকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে মা-বাবারই কিনে দেওয়া স্মার্টফোন আর ভিডিও গেম! ২০১৬ সালের ইউনিসেফ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজনই শিশু। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকায় স্কুল থেকে ঝরে যাওয়া, পরিবারবিচ্ছিন্ন হওয়া, সমাজের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা তরুণদের এ সমস্যাগুলোর নেপথ্যে আছে ইন্টারনেট আসক্তি।  

বিষন্নতায় আক্রান্ত কৈশোর : বিষন্নতা আক্রান্ত কৈশোর পরিণতি হতে পারে আত্মহত্যার একটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য হলো, ২০১০ সাল থেকে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের বিষন্নতায় ভোগা ও আত্মহত্যা-প্রবণতা বেড়ে গেছে। কিশোরীদের ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলক বেশি। পরবর্তী ৫ বছরে যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬৫ ভাগে। আর বিষন্নতায় ভোগার হার বেড়েছে ৩৩ ভাগ। গবেষকদের মতে, এজন্য দায়ী স্মার্টফোন ও প্রযুক্তিপণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহার। যেসব কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিভাইসে দিনে ৫ ঘণ্টার অধিক সময় ব্যয় করছে, তাদের ৪৮ শতাংশ অন্তত একবার হলেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে। 

সাইবার বুলিং নৃশংসতার নতুন ফাঁদ : অনলাইনে অশালীন কথা ও ছবি, অকথ্য গালগাল, এমনকি হত্যার হুমকির নামই সাইবার বুলিং। আমাদের দেশেও ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হওয়া পাঁচটি গ্রুপের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। পারস্পরিক বিবাদ প্রথমে ফেইসবুকে অশোভন ভাষায় হুমকি দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময় তা রূপ নেয় বাস্তব নৃশংসতায়। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি একটি গ্যাংয়ের কিশোররা খুন করে তাদেরই সহপাঠীকে।

মানসিক রোগ ‘সেলফিটিজ’ : ঘন ঘন সেলফি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার জন্য ব্যাকুল হওয়ার নামই সেলফিটিজ। মনোবিজ্ঞানীরা এটাকে মানসিক রোগ বলে চিহ্নিত করেছেন। সাধারণত যারা হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং অনুকরণপ্রিয় (ট্রেন্ডি), তারাই মূলত সেলফি রোগে আক্রান্ত। 

মনোদৈহিক স্বাস্থ্য সমস্যা : দ্য স্পাইনাল জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে ফেইসবুক ব্যবহারে ঘাড়ে ক্রমাগত চাপ পড়ে। এ চাপের পরিমাণ একজন ব্যক্তির মাথার ওজনের প্রায় ছয়গুণ। ফলে ফেইসবুক আসক্তরা আক্রান্ত হচ্ছে ‘টেক্সট নেক’ নামক ঘাড় ব্যথায়। আবার আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়া, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের কারণও হচ্ছে দীর্ঘ সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনের দিকে এভাবে ঝুঁকে থাকা। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]