logo
প্রকাশ: ১২:৩৩:৩৩ AM, শনিবার, মে ১৯, ২০১৮
টুপুনের বাবার রবিঠাকুর
আহমেদ জাকির

বাবাটা আবার কবিতা-টবিতা অনেক পছন্দ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, আরও আরও অনেক কবির কবিতা পছন্দ করেন। টুপুন বাবার দিকে তাকাল। বাবা, রবিঠাকুর এখন কোথায় আছেন? রবিঠাকুর? বলে একটু ভাবলেন বাবা। তারপর বললেন। তার বই তো সব রেখে গেছেন। আর তিনি হয়তো আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা হয়ে

তিনটা গড়াগড়ি খেল টুপুন। তিনটা গড়াগড়ি খেল বাবা। মাঝে মাঝেই বাপ- বেটা ছাদে চাদর বিছিয়ে গড়াগড়ি খায়। চাঁদ-তারা দেখে, গল্প করে। আকাশে ভরা পূর্ণিমার চাঁদ। টুপুন চাঁদকে একটা চুমু খেল। চাঁদ কি চুমু নিল? নিল। পাতলা মেঘগুলো সরতেই মিষ্টি করে হাসল চাঁদ। জোছনার ঢল পড়ল ছাদে। টুপুনের চোখে মুখে।
টুপুনের আলো পড়ল চাঁদে! টুপুনের আলো কি চাঁদ পর্যন্ত যায়? হয়তো যায়। হয়তো যায় না। টুপুন বাবার দিকে তাকাল। চাঁদ দেখলে বাবা চাঁদের ছড়াটা বলেন। ‘আয় আয় চাঁদ মামা’র সঙ্গে বাবা আরও দুই লাইন নিজে বানিয়েছেন।
‘আয় আয় চাঁদ মামা’, ‘আমরা গাই সারে গামা’, ‘রবি মামা রবি মামা’।
বাবাটা আবার কবিতা-টবিতা অনেক পছন্দ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, আরও আরও অনেক কবির কবিতা পছন্দ করেন। টুপুন বাবার দিকে তাকাল। বাবা, রবিঠাকুর এখন কোথায় আছেন? রবিঠাকুর? বলে একটু ভাবলেন বাবা। তারপর বললেন। তার বই তো সব রেখে গেছেন। আর তিনি হয়তো আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা হয়ে। দাদু বলতেন...। বলে একটু থামলেন বাবা।
কী বলতেন তিনি? দাদু বলতেন রবিঠাকুর মেঘ হয়ে ঘুরে বেড়ান। কোথায়? কোথায় আবার, আকাশে আর পাহাড়ে। হবে হয়তো, পাহাড় তার খুব পছন্দ। 
আমাদের স্কুলে আমার যখন ঘুম ঘুম আসে। রবিঠাকুর তখন আসেন। জানালার বাইরে দেখি তাকে। মেঘ হয়ে ঘুরছেন। আবার কখনও দেখি আমার পাশে বসে আছেন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। আমি ভাবতাম, রবিঠাকুর হাসতে জানেন না। কিন্তু সেদিন দেখলাম তিনি হাসলেন। খুব সুন্দর হাসি তার। আর সেদিন ঘুম ঘুম চোখে দেখলাম। আমি আর রবিঠাকুর। ছাদের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে আছি। আমার হাতে একটা কবিতার কাগজ ধরিয়ে দিলেন। সব কবিই তাই করে। কাউকে পেলেই তার পাঠক ভাবেন। কবিতা শোনায়। রবিঠাকুরও আমায় পড়তে দিল। আমি পড়লাম তোমার সেই প্রিয় কবিতা। ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে। মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়, একেবারে উড়ে যায়; কোথা পাবে পাখা সে।...’
ঠিক তখনই আমি পেলাম। কী? পাখা। আর আমার স্বপ্নগুলো দেখলাম। দেখলাম আমারও পাখা আছে। রবিঠাকুরেরও পাখা আছে। সেই পাখায় ভর দিয়ে রবিঠাকুর উড়ে বেড়ান। মেঘে মেঘে। আর মেঘ আঁকেন। আকাশে। স্বপ্ন থাকলে তা সত্যি করার একটা প্রবল ইচ্ছেও থাকে। সেই ইচ্ছে পূরণ পাখা। রবিঠাকুরের ছিল। আমারও আছে। আমিও পারব। আমার স্বপ্নগুলো সত্যি করতে। এবার চল দেখি। কী? তারা। তুমি না বললে রবিঠাকুর এখন তারা হয়ে গেছেন। চলো দেখি। টুপুন তাকাল। বাবাও তাকালেন। আকাশে। আকাশে তখন তারায় তারায় ঝিকমিক করছে। 
বাবা হাত তুলে বললেন, ওই তারাটা! ওই তারাটাই রবিঠাকুর। ফের বললেন, না। পাশেরটা। না, পাশেরটা না। উপরেরটা। ওই তারাটার আলো বেশি। ওটাই রবিঠাকুর। ওটাই।
বাবার কা- দেখে মিটিমিট হাসছে টুপুন। তিনিও হাসছেন। মেঘের ভাঁজে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন তিনি। তিনিটা আবার কে? কে আবার রবিঠাকুর। বাবা তখনও একটার পর একটা তারা দেখে যাচ্ছেন। টুপুন ভাবে, বাবাটা কী বোকা। রবিঠাকুর কী কখনও তারা হবেন। কখ্খনও না! হ

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]