logo
প্রকাশ: ১২:১৪:০০ AM, বৃহস্পতিবার, জুন ৭, ২০১৮
ইতেকাফের ফজিলত
মো. মাসুম বিল্লাহ বিন রেজা

ইতেকাফ, এটি আরবি শব্দ। অভিধানে এর অর্থ আবদ্ধ রাখা। কোনো জিনিসকে বাধ্যতামূলক ধরে রাখা, আটকে রাখা, আবদ্ধ রাখা। কোনো স্থানে অবস্থান করা ইত্যাদি। পরিভাষায়, মসজিদে কোনো বিশেষ ব্যক্তির অবস্থান অবস্থিতি গ্রহণ করার নাম ইতেকাফ। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে নির্দিষ্ট সময় মসজিদে পূর্ণাঙ্গ অবস্থানকে ইতেকাফ বলে।

আল্লামা আইনি লিখেছেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে থাকা ও অবস্থান গ্রহণ করা হলো ইতেকাফ। 
আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকার উদ্দেশ্যে মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থান গ্রহণ করা ইতেকাফ। যে ইতেকাফ করে তাকে মুতাকিফ (অবস্থান গ্রহণকারী) বলে। ইতেকাফের বিশুদ্ধতা পবিত্র কোরআন, হাদিস ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি নির্দেশ করলাম ইবরাহিম ও ইসমাঈলের (আ.) প্রতি, তোমরা পবিত্র রাখ আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য।’ (বাকারাহ-১২৫)। এ আয়াত প্রমাণ করে, পূর্ববর্তী নবীদের যুগেও ইতেকাফ ছিল।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা যখন মসজিদগুলোতে ইতেকাফ অবস্থায় থাক তখন আপন স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়ো না।’ (বাকারাহ-১৮৭)।
‘নবীজি ১০ দিন ইতেকাফ করতেন, মৃত্যুর বছর ২০ দিন ইতেকাফ করেন।’ (বোখারি)। 
রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইতেকাফকারীর জন্য নেকিগুলো লেখা হয় ওই ব্যক্তির মতো যে যাবতীয় নেক কাজ করে বাইরে থেকে।’ (ইবন মাজাহ)।
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) রমাজান মাসের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত এ আমল অব্যাহত ছিল।’ (তিরমিজি)।
‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করবে তার বদলে সে ২টি হজ ও দুই ওমরার সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত ইতেকাফে বসে নামাজ ও কোরআন পাঠে মগ্ন থাকবে ও কারও সঙ্গে কথা বলবে না, তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি সুন্দর মহল বানিয়ে দেবেন।’ (দুর্বল বর্ণনা, কাশফুল গুম্মার)।
পুরুষেরা মসজিদে আর মহিলারাও মসজিদে (বিশেষ পর্দায়) ইতেকাফ করবে। মহিলা ইতেকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি নেবে। ‘নবীর (সা.) বিবিরা ইতেকাফ করেছেন।’ (বোখারি)। ইতেকাফকারীর স্ত্রী সাক্ষাতের জন্য আসতে পারবে। স্বামীও স্ত্রীকে ঘর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে পারবে। 
নবী (সা.) ফজরের নামাজের পরই ইতেকাফের স্থানে প্রবেশ করেছেন। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, সূর্য ডোবার একটু আগে। (মুসলিম)। মুহাদ্দিসরা বলেন, নবীজি (সা.) সূর্য ডোবার আগে মসজিদে ঢুকতেন। ফজরের নামাজের পরই ইতেকাফে বসতেন। (ফাতহুল বারী)।
ইতেকাফ অবস্থায় আল্লাহর জিকির, তসবিহ, ইস্তেগফার, দরুদ, কোরআন তেলাওয়াত ও জ্ঞানচর্চা  করতে পারবে। ইতেকাফকারী নিচের কাজগুলো বর্জন করবেÑ ১. অসুস্থকে দেখতে যাবে না, ২. জানাজায় যাবে না, ৩. স্ত্রী সহবাস করবে না, ৪. স্ত্রীর শরীরের সঙ্গে শরীর লাগাবে না, ৫. আবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না, ৬. রোজা ছাড়া ইতেকাফ হয় না, ৭. যে মসজিদে জামাত হয় না সে মসজিদে ইতেকাফ হবে না (আবু দাউদ), ৮. গালি দেবে না, ৯. অশ্লীল ভাষায় কথা বলবে না এবং ১০. কারও সঙ্গে গল্প করবে না। (আহমাদ)।
ইতেকাফ তিন ধরনের হয়ে থাকে, ক. ওয়াজিব। খ. সুন্নত (রমজানের শেষ ১০ দিন) গ. মুস্তাহাব। ইতেকাফ স্থান থেকে নিষ্প্রয়োজনে বের হলে, ইসলাম পরিত্যাগ করলে, পাগল হলে, (মহিলার) মাসিক হলে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে, গর্ভপাত হলে, সহবাস করলে, বীর্যপাত ঘটালে এবং ইতেকাফকারীকে জোরপূর্বক মসজিদ থেকে বের করে দিলেও ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]