logo
প্রকাশ: ১২:২৯:৩৯ AM, রবিবার, জুন ১০, ২০১৮
প্রয়োজন মানসিক বিকাশ
তারুণ্য প্রতিবেদক

তরুণরাই সব ক্ষমতার উৎস। তারুণ্যই শক্তি। আমাদের তরুণ অর্থাৎ যুবসমাজই এ জাতির জন্য অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের সব কল্যাণকর আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের তরুণসমাজের ভূমিকা ছিল সবসময় অগ্রগণ্য। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের তরুণসমাজকে আরও সুযোগ্য ও সুনীতিপরায়ণ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত বা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নে চাই সুশিক্ষিত ও মানবিক গুণসম্পন্ন দক্ষ তরুণ প্রজন্ম।
যদিও অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে তরুণসমাজের শিক্ষার হার বেশি। শিক্ষার প্রতি গণমানুষের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিক্ষা লাভের সুযোগ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের ফলে আমাদের তরুণসমাজ কর্মযোগ্য বা অধিকতর দক্ষ হয়ে উঠছেÑ এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে আবশ্যকীয়ভাবে যেটা দরকার, তা হলো নৈতিকতা ও মানবিকবোধ। কেবল শিক্ষা হলেই চলবে না, দরকার সুশিক্ষা, মানসিক বিকাশ। আবার শুধু সার্টিফিকেটে যোগ্য হলেই চলবে না, হতে হবে উৎকৃষ্ট মানবিক গুণসম্পন্ন ও সুযোগ্য। আর এজন্য দরকার যথাযথ নৈতিক শিক্ষা। নৈতিক শিক্ষা ছাড়া সব শিক্ষাই অর্থহীন হতে পারে। 
কেননা একজন শিক্ষিত, যোগ্য বা দক্ষ মানুষ যদি অনৈতিক বা নীতিভ্রষ্ট হয়, অশুভ মানসিকতা দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ সে। একজন অশিক্ষিত ও অদক্ষ মানুষের চেয়ে সমাজ তথা দেশের অধিকতর অকল্যাণ বা ক্ষতি করতে পারে। তাই তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে সবরকম শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে তাদের নৈতিক শিক্ষা প্রদানের কোনো ঘাটতি না থাকে। কেবল তরুণদের শিক্ষায়ই নয়, শিশু শিক্ষা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার সর্বস্তরেই যথাযোগ্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা দরকার। 
উন্নত চরিত্র গঠন : চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ। চরিত্র একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। সুন্দর চরিত্র অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তি-ক্ষমতা কোনোকিছুর বিনিময়ে পাওয়া যায় না। এটা সততা ও সৎকর্ম দ্বারা অর্জন করতে হয়। নষ্ট স্বাস্থ্য ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য ও বায়ু পরিবর্তন দ্বারা ফিরে পাওয়া যায়। নষ্ট সম্পদ কর্মকুশলতার দ্বারা উদ্ধার করা যেতে পারে। কিন্তু চরিত্রে কোনো কালিমা পড়লে বা চরিত্র একবার নষ্ট হলে তা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই চরিত্রের প্রতি যতœবান হওয়া উচিত। উন্নত চরিত্র গঠনের নিমিত্তে তরুণরা ভালো ভালো লেখকের বই, মহামানবের জীবনী পড়তে পারেন। এসব বই তরুণদের পথ দেখাবে, চলার পথ মসৃণ করবে। 
বিশ্বস্ত ও আস্থাশীল হওয়া : নিজেকে সবার কাছে বিশ্বস্ত ও আস্থাশীল করে গড়ে তুলুন, যাতে পরিবারের লোক ও বন্ধুবান্ধবরা আপনাকে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারে এবং আপনার ওপর নির্ভর করতে পার্।ে
সততার সঙ্গে কাজ করুন : সততা একজন মানুষের মূলধন হিসেবে বিবেচিত হয়। পৃথিবীতে যারা জ্ঞানী-গুণী ও খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেছেন, তাদের জীবন আদর্শ লক্ষ করলে এটাই প্রমাণিত হয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠিত মানুষকে প্রশ্ন করলেই জবাব পাওয়া যায়, সততাই আমাকে এই অবস্থানে এনেছে। সৎ মানুষকে সবাই বিশ্বাস ও সম্মান করে। সফলতার জন্য সততার বিকল্প নেই। সবসময়ের জন্য সৎ থাকতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সৎভাবে নিজেকে প্রমাণ করুন। নিজের কাছে সততা সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাস। কাউকে কথা দিয়ে তা কখনও ভঙ্গ করবেন না। সততা থাকতে হবে সব বিষয়ে। সত্যবাদী হতে হবে এবং কমিটমেন্ট করলে সেটা যে কোনো মূল্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। সবার সব ক্ষেত্রে যেটা ঠিক সততার সঙ্গে সেটাই করবেন।
দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন : দায়িত্বজ্ঞান থাকা ও দায়িত্বশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সবার সব ক্ষেত্রে আপনার বাবা-মার জন্য, পরিবারের জন্য, বন্ধুদের জন্য এবং নিজের জন্য যে কাজটা করা ঠিক, নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করবেন।
শৃঙ্খলিত জীবনযাপন : এলোমেলো ছন্নছাড়া জীবন হয় যাযাবরদের। তরুণদের জীবনে থাকবে শৃঙ্খলা; যেমনÑ ঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, সময়মতো খাওয়াদাওয়া করা, সময়মতো ঘুমানো ইত্যাদি। এছাড়া রাত জাগাটা স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ। সব কাজ গুছিয়ে করার চেষ্টা করবেন সবসময়।
সামাজিক ক্ষেত্রে তরুণসমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য : একটি দেশের সচেতন নাগরিক হচ্ছে তরুণসমাজ। অধ্যয়ন ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তারাই দেশকে সঠিক পথ অনুসরণে সহায়তা করতে পারে। আমাদের দেশে এমন অনেক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার রয়েছে, যেখানে একটি মাত্র সদস্য শিক্ষিত। সেই সদস্যটি পুরো পরিবারে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলে। শুধু পরিবার কিংবা সমাজ নয়, ছাত্রসমাজকে পুরো জাতির নিরক্ষরতা দূরীকরণে সহায়তা করতে হবে। সমাজকে এবং শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করার দায়িত্ব ছাত্রদেরই কাঁধে নিতে হবে। 
তরুণদের দায়িত্ব ও কর্তব্য : ছাত্রজীবনে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তার পাশাপাশি মানুষ্যত্ববোধও অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ছাত্রেরই অবশ্যই শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, বড়দের সম্মান করা ও গুরুজনদের আদেশ পালন করাÑ এসব ভালো গুণের অধিকারী হতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অনেক। শিক্ষকই একটি ছাত্রকে সৎ ও মেধাবী করে তোলেন। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ÔNone but those who have the spirit of forbearance are fit to be teaehcr. তাই শিক্ষককে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করতে হবে। ছাত্রদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না থাকা। পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে, যা তাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]