logo
প্রকাশ: ১১:১৫:৩৭ PM, বুধবার, জুন ২০, ২০১৮
বিদেশে শিক্ষা প্রসারে নাঈমা খান

প্রবাসী বাঙালিদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে  নিউইয়র্ক সিটির ১৮টি স্থানে নিজস্ব উদ্যোগে নাঈমা খান গড়ে তুলেছেন  টিউটোরিয়াল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম ও অগ্রাহ্য করে তিনি তার প্রতিভার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। শিক্ষাদানের এ মহৎ উদ্যোগ ও কর্মফল তাকে এনে দিয়েছে সম্মান ও খ্যাতি। শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য এ পর্যন্ত তিনি ২৮ বার পুরস্কৃত হয়েছেন। জাতীয় অ্যাকশন নেটওয়ার্ক থেকে ট্রফি লাভের পাশাপাশি মিসেস খান ১২টি বিভিন্ন সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে নাঈমা খান এসেছিলেন বাংলাদেশে। তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেন আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদক বিউটি আক্্তার হাসু। সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। 

নিউইয়র্কের খ্যাতনামা টিউটোরিয়াল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খান’স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান। একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বপ্নের রূপকারের নাম। তিনি প্রবাসে জ্ঞানের মশাল হাতে দুর্দান্ত দাপটে শিক্ষার আলো জ্বেলে চলেছেন। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দুর্নিবার পথচলা দিয়েছে স্বপ্নের বাস্তবতা। নিউইয়র্ক সিটির ১৮টি স্থানে নিজস্ব উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন টিউটোরিয়াল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (টিউটরিং একাডেমি)। তিনি ৪০০ কর্মী ও প্রশিক্ষকের পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করেন এবং তাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবারে শিক্ষা প্রদান করেন (৪০০ কর্মী ও প্রশিক্ষকের মধ্যে ১০ জন ফুলটাইম কাজ করেন)। তার শিক্ষার মশালে সপ্তাহে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হন।
ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম ও অগ্রাহ্য করে তিনি তার প্রতিভার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। শিক্ষাদানের এ মহৎ উদ্যোগ ও কর্মফল তাকে এনে দিয়েছে সম্মান ও খ্যাতি।
শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য এ পর্যন্ত তিনি ২৮ বার পুরস্কৃত হয়েছেন। জাতীয় অ্যাকশন নেটওয়ার্ক থেকে ট্রফি লাভের পাশাপাশি মিসেস খান ১২টি বিভিন্ন সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বাংলাদেশ, ইউক্রেন এবং ইউনাইটেড কিংডমে কয়েক বছর কাটানোর পর মিসেস খান ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৮৮ সালে একটি সার্টিফায়েড এলিমেন্টারি স্কুলশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি নিউইয়র্ক সিটি স্কুল ব্যবস্থায় ১০ বছর অতিবাহিত করেন এবং ইনস্টিটিউট ফর স্টুডেন্ট অ্যাচিভমেন্ট-এ হাইস্কুল ম্যাথ টিউটর হিসেবে কর্মজীবন চালিয়ে যান। পরে তিনি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ইন নিউ স্কুল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। 
নাঈমা খানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন : শিক্ষা প্রসারের এই উদ্যোগ কীভাবে মাথায় আসে? কাকে দেখে এ মহৎ কাজ করায় উৎসাহিত হন?
নাঈমা খান : খান’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকপ্রাপ্ত আমার স্বামী প্রয়াত ড. মনসুর খান। তিনি মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৯৪ সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। ২০০২ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এরপর আমি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরি। ক্যান্সারের সাথে ১২ বছর যুদ্ধ করে তিনি ২০১৪ সালে না ফেরার দেশে চলে যান। তার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতেই ২০১১ সালে আমার একমাত্র সন্তান ডা. ইভান খান যোগদান করে। সে এই প্রতিষ্ঠানের সিইও। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এ অক্লান্ত পথচলা। 
প্রশ্ন : বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার মান নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? এ ব্যাপারে কোনো পরামর্শ আছে কি? 
নাঈমা খান : বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্য তো থাকবেই। ঢাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো। তবে গ্রামের দিকে একটু নজর দিতে হবে। 
প্রশ্ন : দেশে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং আরও সফল হতে হলে আমাদের কী করণীয় বলে মনে করেন?
নাঈমা খান : শিক্ষার প্রসার ও বিস্তার শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে চলবে না, সারাদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। গ্রামের স্কুলগুলোয় ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সেখানে লাইব্রেরির ব্যবস্থা করতে হবে। 
প্রশ্ন : আমাদের দেশের জন্য শিক্ষা নিয়ে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কি?
নাঈমা খান : সত্যি বলতে কী, বিদেশেই আমার কাজের ক্ষেত্র এত বিস্তৃত হয়েছে যে, এখন ইচ্ছা থাকলেও সময় বের করে দেশে এসে কিছু করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্কে ১৮ স্থানে ৪০০ স্টাফ সপ্তাহে ৩ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে শিক্ষা প্রদান করেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়, দেখাশোনা করতে হয়।
প্রশ্ন : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
নাঈমা খান : নিউইয়র্কে বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষিত করতে এবং মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে খান’স টিউটোরিয়ালের আরও ব্রাঞ্চ ওপেন করতে চাই। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে আরও স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাই। স্বল্প আয়ের প্রবাসী ও তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করতে চাই। 
প্রশ্ন : বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কোনো বার্তা (মেসেজ)?
নাঈমা খান : লেখাপড়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের মূল্য দিতে হবে। জীবনে সব গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ভালো করতে হবেÑ বিশেষ করে যেসব পরীক্ষার ভালো ফলের ওপর ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ভর করে। যেমনÑ এএসসি পরীক্ষা। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। তবে সারা বছর ক্লাসে ভালো করে ফাইনালে গিয়ে খারাপ রেজাল্ট করলে এই ভালোর কোনো মূল্যায়ন হয় না। তাই জীবনের সব পরীক্ষায়ই সফল হতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]