logo
প্রকাশ: ১২:৪০:৫২ AM, রবিবার, জুলাই ১, ২০১৮
প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা
মো. জাভেদ হাকিম

 প্রত্যেক মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হলো পারিবারিক শিক্ষা। সর্বপ্রথম পরিবার থেকেই রপ্ত করতে হবে মানবীয় সব গুণ, সুশিক্ষা। কারণ সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতাবোধ, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ ও পরোপকার এবং উদার মানসিকতাÑ এসব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব একটা অর্জন করা যায় না। একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়ে, মেধাবী হলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিনদেশেও তার নাম ছড়াতে পারে; কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে একসময় সব মøান হয়ে যেতে পারে। 

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে পরিবার থেকে শিক্ষা নেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া যায়। গ্রাম্য ভাষায় একটা প্রবাদ চালু আছেÑ থলি যদি ভালো হয়, তাহলে সেখানে ভালো কিছু থাকবে। আম যদি মিষ্টি হয়, তাহলে তার আঁটিও মিষ্টি হবে। অর্থাৎ একজন আদর্শ পরিবারের সন্তান সুসন্তান হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। শিশু যখন নিজ থেকেই হাত-পা নাড়তে শেখে, তখন থেকেই মূলত সে পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। আর তখন থেকেই তার সামনে বাবা-মা ও বড়দের কথাবার্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হবে। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হবে। শিশুদের মনমানসিকতা থাকে খুবই কোমল; তাই খুব সহজেই যে-কোনো বিষয়ে তারা শিখে নিতে পারে। অনেক শিশুই দুষ্টুমির ছলে মিথ্যা বলতে পছন্দ করে। বড়রা যখন বুঝতে পারবেন, তখন তাদের কর্তব্য হলো আদরস্নেহের মাধ্যমে বুঝিয়ে তার এই বদভ্যাস থেকে বিরত রাখতে হবে। কোনো অবস্থায়ই শিশুকে গালমন্দ করা যাবে না। এতে সে আরও বেশি উৎসাহী হয়ে উঠবে। বড়দের দেখলে সালাম, ছোটদের প্রতি স্নেহ, সমবয়সিদের প্রতি সুসম্পর্ক, অন্যকে তাচ্ছিল্য না করাÑ এগুলো শেখাতে হবে। বিশেষ করে মাদের খেয়াল করতে হবে, তার সন্তান অন্যদের প্রতি কতটুকু উদার। ছোট্ট বয়স থেকেই মুক্ত মনমানসিকতা গড়ে না উঠলে তা আর পরবর্তী জীবনে আয়ত্ত করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তাই একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সন্তানকে গড়ার জন্য বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিবারের সবাই মিলে মাঝে মধ্যে কাছে কিংবা দূরে কোথাও প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়াতে যেতে পারেন। ভ্রমণেও অনেক কিছু শেখা যায়। বর্তমান শহুরে সমাজে পরিবারের বাবা-মা দুজনই থাকেন নিজ কর্মস্থলে ব্যস্ত। ফলে যতটুকু সময় সন্তানের প্রাপ্য, তা থেকে সে বঞ্চিত হয়। যৌথ পরিবারের অভাবে, গৃহকর্মীর সান্নিধ্যে, ভার্চুয়াল জগতে মেতে থেকে শিশু হারায় তার সুশিক্ষা পাওয়ার মতো সোনালি সময়। মনিটরে কার্টুন দেখা আর অ্যাডভেঞ্চার গেম খেলে শিশুর মস্তিষ্কে ধারণ করে যত সব উদ্ভট চিন্তা। ধারণ করা সেই চিন্তাচেতনা থেকেই শিশু চায় তার বাস্তবায়ন। 
ছোট থেকেই যেন শিশু পেতে পারে পারিবারিক শিক্ষা, সেই লক্ষ্যে কর্মব্যস্ত ও প্রত্যেক পরিবারের সন্তানের বাবা-মা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের কর্তব্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সন্তানকে জিজ্ঞেস করাÑ তার সন্তান ধর্মীয় কর্ম পালন করেছে কি না। শুধু জিজ্ঞাসার মধ্যেই দায় সারলে হবে না, রীতিমতো তাদের বাধ্য করতে হবে। যেমন আমরা অফিসে থেকেও বাড়িতে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিতে পারি, সন্তান স্কুলের হোমওয়ার্ক ঠিকমতো করেছে কি না। প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসনেই আদর্শ, সভ্যতা, নৈতিকতার শিক্ষা রয়েছে। আর ইসলামের আসমানি কিতাব কোরাআন তো পূর্ণাঙ্গ জীবণবিধান। সুতরাং একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশাসন মেনে চলার মাঝেই সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি অভিভাবকদের কর্তব্য তার আদরের সন্তানকে সেগুলোর চর্চা করানো। 
সংসারের দুজনকেই আজকাল চাকরি বা ব্যবসা করতে হয়। বাবা-মায়ের এই পরিশ্রম আদরের সন্তানদের নিষ্কণ্টক ভবিষ্যতের জন্য। তাই তাদের ব্যক্তিজীবনও আলোকিত করার লক্ষ্যে শত ব্যস্ততার মাঝে কঠোর পরিশ্রমের মাঝেও সন্তানকে সকালে স্কুলে পাঠানোর আগে বলে দিন শিক্ষক-শিক্ষিকা বা বড়দের দেখলে সালাম এবং তাদের সঙ্গে নম্রতার সঙ্গে শ্রদ্ধা-ভক্তি নিয়ে কথা বলার জন্য। তাদের বলুন সহপাঠীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ ও সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে। যদি কোনো ভুল করেও ফেলে, তারপরও যেন সে মিথ্যার আশ্রয় না নেয়Ñ সে বিষয়ে তাকে অভয় দিন। সে যদি কোনো বিষয়ে তার বন্ধুদের সহযোগিতা পায়, তাহলে যেন সে তার বা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। 
রক্তচক্ষুর বদলে পরম সোহগের সঙ্গে সন্তানের ভুলত্রুটি শুধরে দিলে অনেক বেশি কাজে আসে। তাই বাবা-মাকে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করতে হবে। তাহলে দেখবেন সন্তান সবকিছুই আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে, সেই সন্তান কখনও আদর্শহীন হবে না। বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে, ঘরের পরিবেশ ভালো বলেই যে সন্তান সভ্য, ভদ্র ও আদর্শবান হবেÑ এমন আত্মতৃপ্তিতে ভোগা ঠিক হবে না। কারণ সবসময় গ্রাম্য সেই প্রবাদ কাজে না-ও আসতে পারে। তাই সন্তান কাদের সঙ্গে মিশল বা বন্ধুত্ব করল, সেদিকেও অনুসন্ধানী খোঁজ রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, খোঁজ রাখতে গিয়ে যেন আবার সন্তানের সম্মানে আঘাত না আসে। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মনে রাখবেন, ছোট থেকেই সন্তানকে সুশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা ও তার মাঝে চর্চার প্রচলন ঘটাতে হবে। শিক্ষিত হওয়ার জন্য যেমন একাডেমিক শিক্ষার প্রয়োজন, তেমনি সন্তানকে, সুষ্ঠু মানসিকতার ধারক ও বাহক হওয়ার জন্য সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো মননের অধিকারী যেন হয়, সেই বিষয়ে বাবা-মাকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। মোদ্দাকথা, বিচক্ষণ বাবা-মা বা অভিভাবকদের সন্তানরাই সমাজে আদর্শবান শ্রেণির তারুণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]