logo
প্রকাশ: ০১:২৮:৪২ AM, শনিবার, জুলাই ১৪, ২০১৮
রহস্যময় স্কুল
মূল : ওমর ঝারাহ ভাষান্তর : সালাহ উদ্দীন

তারা কুকুরটাকে ধন্যবাদ জানাল এবং তার কথামতো কাজ করল। আর অমনি দরজা খুলে গেল। কিন্তু ঘোৎ ঘোৎ শব্দটি আরও বেড়ে গেল এবং সবাই ভয় পেয়ে গেল। তারপর তারা অন্ধকার পথে দ্রুত দৌড়াতে লাগল এবং গুহার প্রবেশ পথে এসে থামল। যখন তারা নিজেদের রহস্যময় স্কুলের মাঠে দেখতে পেল এমিলি উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলে 
উঠল, ‘হ্যাঁ, আমরা পেরেছি।’

 

ওই দিনটি ছিল সারাহর ‘সিডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে’ প্রথম দিন। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সারাহ পুরানো স্কুল ছেড়ে এ স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সে ভেবেছিল এ স্কুলটি তার মোটেই পছন্দ হবে না।
দুপুরের খাবারের সময় তাদের ক্লাসের অলিভিয়া ও এমিলি নামের দুই মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। তারা স্কুলের খেলার মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা একটা গাছের কাছে সারাহকে নিয়ে গেল।
‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে রহস্যময় গুহার মধ্যে যাবে?’ এমিলি সারাহকে বলল। ‘রহস্যময় গুহা! সেটা কোথায়।’ সারাহ বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করল।
‘ওই গাছটির কাছেই খড় এবং কাঠি দ্বারা আবৃত একটা গর্ত ছিল। এটা হলো রহস্যময় গুহা।’ অলিভিয়া বলল। ‘চলো আমরা গুহা দেখতে যাই।’ এমিলি বলল।
এমিলি, সারাহ ও অলিভিয়া পরস্পরের হাত শক্ত করে ধরে গুহায় নামল। তারা যতই গভীরে চলে যাচ্ছিল গুহা ততই অন্ধকার হতে লাগল। তারপর হঠাৎ গর্তটি আলোকিত হয়ে উঠল। সেখানে অনেক মোমবাতি জ্বলছিল। সারাহ ভয় পেয়ে গেল। তা দেখে এমিলি হেসে উঠল। একটি খরগোশ কীভাবে মোমবাতি জ্বালাচ্ছিল অলিভিয়া তা সারাহকে দেখাল।
‘এ খরগোশটির নাম বিংকি’, এমিলি বলল। ‘সে আমাদের সব দুঃসাহসিক কাজের পরিকল্পনা করে থাকে।’ ‘হাই বিংকি!’ অলিভিয়া বলল। ‘এ হলো আমাদের নতুন বন্ধু সারাহ। আজ আমাদের জন্য কি কোনো রহস্যময় এবং দুঃসাহসিক অভিযান আছে?’ বিংকি হেসে বলল, ‘হাই সারাহ, রহস্যময় গুহায় তোমাকে স্বাগতম।’ ‘দুঃখিত, আজ তোমাদের জন্য ছোট্ট একটা দুুঃসাহসিক কাজ আছে। মনে রেখ, এটি সহজ কাজ নয়। তোমাদের খুব সতর্কতার সঙ্গে এ কাজটি করতে হবে। যে প্রাণিটি কথা বলতে পারে খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাকে বের করতে হবে এবং তার কথামতো কাজ করতে হবে। এখন আমাকে অনুসরণ কর। এখান থেকে বের হওয়ার পথ তোমাদের খুঁজে নিতে হবে।’ বিংকি সামনে এগিয়ে গেল।
অলিভিয়ারা তিনজন বিংকিকে অনুসরণ করে ছোট একটা ঘরে প্রবেশ করল। ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই বিংকি উধাও হয়ে গেল। তারপর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেল। ওই ঘরে বিরাট পানপাত্রের মধ্যে একটা বিড়াল, একটা কুকুর ও একটা মাছ ছিল। তারা ঘরের বাইরে অনেক জোরে ঘোৎ ঘোৎ শব্দ শুনতে পেল।
সারাহ ভয়ে ভয়ে বলল, ‘আমার মনে হয় আশপাশে কোনো দৈত্য আছে।’
‘এখান থেকে বের হতে হলে আমাদের এ প্রাণীগুলোর কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে।’ অলিভিয়া বলল। ‘অন্যথায় আমাদের চিরদিনের জন্য এখানে থেকে যেতে হবে।’ এমিলি বলল।
‘আমরা এখান থেকে কীভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজে বের করব?’ সারাহ বিচলিতভাবে জিজ্ঞেস করল। ‘চল গভীরভাবে চিন্তা করি’ অলিভিয়া বলল।
‘তুমি কি লক্ষ করেছ, আমরা এখানে আসার পর প্রাণীগুলো কি ধরনের আচরণ করছে? বিড়ালটা তার মাথা নাড়ছে ও নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। মাছটা লেজ নেড়ে নেড়ে ছোট ছোট ঢেউ তৈরি করছে ও কুকুরটি অস্বাভাবিকভাবে লেজ নাড়ছে। আমার মনে হয় কুকুর অথবা মাছ এ দুটোর মধ্যে যে কোনো একটিই হবে আমাদের উপকারী বন্ধু। চল আমরা অনুসন্ধান করে দেখি।’ এমিলি মাছের কাছে গিয়ে বলল, ‘তুমি কি আমাদের সাহায্য করতে পারবে?’ মাছটিকে মনে হলো সে কোনো কথা শুনতে পায়নি। সে আগের মতোই পানির মধ্যে তার লেজ নাড়তে লাগল। তারপর সারাহ কুকুরটাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার নাম কী?’
‘স্পাইক’ কুকুরটা উত্তর দিল। ‘তোমরা যদি এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা কোনটি তা জানতে চাও, আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারব।’ 
‘তুমি কি আসলেই কথা বলতে পার?’ মেয়েরা কুকুরটাকে জিজ্ঞেস করল। 
‘হ্যাঁ পারি’, কুকুরটা বলল। ‘এখন তোমরা ওই দরজাটাকে খুব জোরে ধাক্কা দেবে এবং ‘অসন্টি’ শব্দটি তিনবার সমস্বরে খুব জোরে জোরে উচ্চারণ করবে। যখন দরজাটি খুলে যাবে তখন সবাই খুব দ্রুত দৌড়াতে দৌড়াতে গুহার মুখে চলে যাবে। একবারের জন্যও পেছন ফিরে তাকাবে না।’
তারা কুকুরটাকে ধন্যবাদ জানাল এবং তার কথামতো কাজ করল। আর অমনি দরজা খুলে গেল। কিন্তু ঘোৎ ঘোৎ শব্দটি আরও বেড়ে গেল এবং সবাই ভয় পেয়ে গেল। তারপর তারা অন্ধকার পথে দ্রুত দৌড়াতে লাগল এবং গুহার প্রবেশ পথে এসে থামল। যখন তারা নিজেদের রহস্যময় স্কুলের মাঠে দেখতে পেল এমিলি উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, আমরা পেরেছি।’
‘প্রাণীগুলোর কি হবে’, সারাহ জিজ্ঞেস করল। ‘তারা খুব সম্ভবত আমাদের পরবর্তী দুঃসাহসিক অভিযানের পরিকল্পনা করার জন্য বিংকিকে সাহায্য করছে।’ ‘ওয়াও’, সারাহ বলল। আমার মনে হয় ‘সিডার স্কুলে’ আমি শ্রেষ্ঠ সময় পার করছি। এমন সময় ঘণ্টা বেজে উঠল। তারপর সবাই রহস্যময় স্কুলে ফিরে গেল। হ 
 

[ওমর ঝারাহ জর্ডানের আম্মান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জর্ডান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি শিশুদের জন্য গল্প লিখেন। তার বিখ্যাত গল্প হলো ‘থার্টি ডেইজ অব নাইট’; ‘দি মিষ্টিরিয়াস অব জঙ্গল’ এবং ‘দ্য মিস্টিরিয়াস অব স্কুল’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য]

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]