logo
প্রকাশ: ১২:৫৫:৩১ AM, শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮
স্পেশাল অহনা
লোকমান আহম্মদ আপন

অহনা যেখানে যায় সেখানে এখন বাড়তি আদর পায়। স্কুলে, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, বন্ধুবান্ধবদের মাঝে অহনা থাকে একটু স্পেশাল। এ স্পেশাল থাকার পেছনে মূল কারণ তার স্পেশাল কাজ। আর এ স্পেশাল কাজই হচ্ছে কয়েন সংগ্রহ করা
অহনার কয়েন সংগ্রহের বিষয়টা এখন আর কারও অজানা নয়। এরই মধ্যে কয়েনের ছোটখাটো একটি সংগ্রহশালা হয়ে গেছে তার শোকেসে। এগুলোর বেশিরভাগই আব্বু বিদেশ থেকে এনেছেন। পাশাপাশি আব্বুর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা বিদেশ ভ্রমণে গেলে অহনার জন্য কয়েন নিয়ে আসেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা অহনাদের আত্মীয়স্বজনও দেশে আসার সময় অহনার জন্য কয়েন আনতে ভোলেন না। এভাবে সবার সহযোগিতায় সমৃদ্ধ হচ্ছে অহনার এ সংগ্রহশালা। শুধু কয়েন সংগ্রহ করেই সবার প্রিয় হওয়া যায়, পাওয়া যায় অনেক স্নেহ ভালোবাসা; অহনাই তার প্রমাণ। 
অহনা যেখানে যায় সেখানে এখন বাড়তি আদর পায়। স্কুলে, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, বন্ধুবান্ধবদের মাঝে অহনা থাকে একটু স্পেশাল। এ স্পেশাল থাকার পেছনে মূল কারণ তার স্পেশাল কাজ। আর এ স্পেশাল কাজই হচ্ছে কয়েন সংগ্রহ করা। 
অহনার মাথায় কয়েন সংগ্রহের শখটা ছিল অনেক দিনের। এ শখ বাস্তবায়নের পেছনে একটা মজার গল্প আছে। গল্পটা হচ্ছেÑ অহনার আব্বু সেইবার ভারত সফরে গিয়েছিলেন। দেশে আসার সময় প্রতিবারের মতো অহনাদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসেন। সেবার অহনার আব্বুর ব্যাগে কীভাবে যেন বেশ কয়েকটি ভারতীয় কয়েন চলে আসে। যার জন্য যা কিছু এনেছেন তা তা ঠিকমতো বুঝিয়ে দিয়েছেন আব্বু। একদম শেষে ব্যাগ ঝাড়তে গিয়ে ঝনঝন করে কয়েকটি কয়েন ঘরের মেঝেতে পড়ে গেল। ঝনঝন শব্দ শুনে অহনা দৌড়ে এলো। কয়েনগুলো তুলে আব্বুর হাতে দিতে দিতে বললÑ আব্বু আমি কি কয়েনগুলো রাখতে পারি? 
Ñ হ্যাঁ, অবশ্যই রাখতে পারো। কয়েনগুলো তোমার পছন্দ হয়েছে?
Ñ হ্যাঁ। 
Ñ তাহলে রেখে দাও তুমি।
Ñ না থাক। তোমার লস হয়ে যাবে।
Ñ আরে লস হবে না। তুমি রেখে দাও। তা তুমি কয়েনগুলো দিয়ে কী করবে শুনি?
Ñ কিছুই করব না, এমনিই রেখে দেব।
Ñ ঠিক আছে রাখো। তবে, তুমি চাইলে আমি তোমাকে ভালো একটা পরামর্শ দিতে পারি। দেব?
Ñ দাও তো, তোমার পরামর্শটা শুনি আগে।
Ñ তুমি কয়েন সংগ্রহ শুরু করে দিতে পারো। গড়ে তুলতে পারো কয়েনের একটি সংগ্রহশালা। হয়ে উঠতে পারো সবার থেকে স্পেশাল। 
Ñ মানে? কী বলছ আব্বু তুমি এসব? 
Ñ আমি ঠিকই বলছি। তুমি ভেবে দেখতে পারো।
Ñ আব্বু শোন। সত্যিই কয়েনের প্রতি আমার আকর্ষণ খুব বেশি। আমার কাছে আমাদের দেশের সবগুলো কয়েন আছে। দাঁড়াও আমি দেখাচ্ছি তোমাকে।
অহনা এক দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে ছোট্ট একটি খাম নিয়ে আসে। আব্বুর সামনে থাকা সোফার টেবিলের কাচের ওপর কয়েনগুলো ঝনঝন করে ঢালে। আব্বু দেখেন সেখানে আমাদের দেশের প্রায় সবগুলো কয়েন আছে। এক টাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা এমনকি কিছুদিন আগের পঞ্চাশ পয়সার কয়েনও আছে। কয়েনগুলো দেখে আব্বু বেশ আশ্চর্য হয়ে বললেনÑ এগুলো তুমি পেলে কী করে?
Ñ টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে আব্বু। 
Ñ এই তো এভাবেই সংগ্রহ করবে কয়েন। 
Ñ কী যে বলো না তুমি আব্বু। এভাবে তো আমাদের বাংলাদেশের কয়েন সংগ্রহ করেছি। আগামীতে নতুন যে কয়েন আসবে সেটাও সংগ্রহ করে নিতে পারব। কিন্তু নিজের দেশের কয়েন দিয়েই তো আর সংগ্রহশালা তৈরি করা যাবে না। অন্য আরও অনেক দেশের কয়েন লাগবে। সেগুলো না পেলে তো আর কয়েন সংগ্রহে নেমে লাভ নেই। 
Ñ ঠিক বলেছ তো। 
Ñ কয়েন সংগ্রহের শখ আমার আগেই হয়েছিল আব্বু। সংগ্রহ করতে পারব না বলে শখটা কারও সঙ্গে শেয়ার করিনি। আর করবও না। মানুষের সব শখ তো আর সব সময় পূরণ হয় না, তাই না আব্বু?
Ñ তোমার কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয় আম্মু। সঠিক উদ্দেশ্য, আন্তরিক শ্রম আর একাগ্রতা থাকলে শখ পূরণ হয়। তোমারটাও হবে। তুমি তোমার শখ সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পারো।
Ñ কী যে বলো না তুমি আব্বু। শেয়ার করে কী হবে? আগে চিন্তা করো বাস্তবায়ন করা যাবে কী না?
Ñ আমি বললাম তো যাবে। শোন, এখন থেকে আমি তোমাকে কয়েন সংগ্রহে সাপোর্ট দেব। আমি তো গড়ে প্রতিমাসেই বিভিন্ন দেশে যাই। এখন থেকে যে দেশে যাব তোমার জন্য সে দেশের কয়েন নিয়ে আসব। পাশাপাশি সাপোর্ট নেব পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা আমাদের আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের। 
Ñ সত্যি আব্বু?
Ñ হ্যাঁ, সত্যি।
আব্বুর কথা শুনে খুশিতে নেচে উঠে অহনা। আব্বুর গলা জড়িয়ে ধরে অনেক আদর করে। হাতের কয়েনগুলো দিয়ে সোফার টেবিলের কাচে ঝনঝন শব্দ তোলে। বাপ-মেয়ের এমন খুশির জোয়ারে ঘরের অন্য সবাই ছুটে আসে। অনন্যা, ছড়া, দিদা, দাদুভাই, আম্মু এসে খুশিতে শামিল হয়। দিদা জানতে চানÑ তোরা বাপ-মেয়ে কী শুরু করলি? এত খুশির কী হলো রে?
আব্বু বললোÑ কিছু না আম্মা, অহনার সামান্য একটি শখ আছে। সেটা বাস্তবায়ন করব ঠিক করেছি। এ জন্য সে খুশি হয়েছে। খুশি হয়েছি আমি নিজেও। 
অহনা বললোÑ না দিদা। শখটা সামান্য নয়, অনেক বড় মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এখন আব্বুর সাপোর্ট পেয়ে মনে হচ্ছে সম্ভব। হুররে...।
দিদা অনেকটা রাগ করার ভান করে বললেন
Ñ আরে রাখ তোর হুররে...। আগে শুনি শখটা কী?
Ñ কয়েন। 
দিদা অবাক হয়ে ভ্রƒ কুঁচকে বললেনÑ কয়েন!!
Ñ হ্যাঁ দিদা, কয়েন। আমি কয়েন সংগ্রহ করব। এটা আমার অনেক দিনের শখ। 
Ñ কয়েন কেউ  সংগ্রহ করে নাকি পাগল, কয়েন তো মানুষ খরচ করে। 
Ñ সবাই খরচ করলেও কেউ কেউ কয়েন সংগ্রহও করে দিদা। আমিও করব। কয়েন সংগ্রহ করেই একদিন সবার কাছে স্পেশাল হবো। দেখো তুমি।
আব্বুসহ অন্য সবাই কোনো কথা না বলে মিটমিট করে হাসছে। অহনার কথা শুনে দিদা কি বুঝলেন জানি না, বিড়বিড় করতে করতে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন। অন্যরাও চলে গেল যে যার রুমে। আব্বু আর অহনা আরও কতক্ষণ কথাবার্তা বলল। যার বেশিরভাগই ছিল কয়েনের সংগ্রশালা তৈরির বিষয়ে। হ

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]