logo
প্রকাশ: ০১:৫০:৫০ AM, রবিবার, জুলাই ২৯, ২০১৮
আচরণবিধি যেমন হওয়া প্রয়োজন
তারুণ্য প্রতিবেদক


 

মানুষের জীবনের কতকগুলো স্তর বা ধাপ থাকে। যেমনÑ শিশুকাল বা বাল্যকাল, তারুণ্য বা যৌবনকাল ও বার্ধক্যকাল। তেমনি রয়েছে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও অবসর জীবন। প্রতিটি ধাপই কিছু নিয়মের মধ্যে প্রবাহিত হয় এবং সেসব ধাপের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। শিক্ষা ও কর্মজীবনের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। শিক্ষাজীবনে পড়ালেখা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে দিয়ে একটা সময় পার হয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে কিছুটা নিয়মের অধীনে চলতে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গেলে সে নিয়মরীতি অনেকটা শিথিল হয়ে আসে। 
এরপর চাকরিজীবনে প্রবেশ করলে নতুন কাজের পরিবেশ, নতুন মানুষের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হয়। কেননা শিক্ষাজীবনের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের কোনো মিল নেই। অফিসের রীতিনীতি, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশÑ সব মিলিয়েই চলতে হয় চাকরিজীবনে। কেবল চাকরির জন্যই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নিয়ম মেনে চলা; সঠিক আচরণ আয়ত্ত করতে শেখা; শিক্ষাজীবনে আমরা যে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করেছি, তার যথাযথ প্রয়োগ করা। সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে বা পথ চলতে প্রয়োজন সঠিক আচরণ করা। 
আচররণবিধি : অফিসে কারও সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে হাসিমুখে কথা বলা। ‘হাউ ডু ইউ ডু’র উত্তরে ‘আই অ্যাম ফাইন, থাংক ইউ’ বা ‘ভেরি ওয়েল’ বলা, হেসে মাথা নাড়া কিংবা ‘হাউ ডু ইউ ডু’ বলাÑ এগুলো খুব প্রাথমিক আচরণবিধির মধ্যে পড়ে। প্রথম পরিচয়ে ‘গ্ল্যাড টু মিট ইউ’ বা ‘প্লিজড টু মিট ইউ’ বলাটাও সাধারণ ভদ্রতা। দেখা হলেই করমর্দন করা, ‘হ্যালো’ বলা, ‘থ্যাংক ইউ’ এর উত্তরে ‘থ্যাংক ইউ টু’ বা ‘ওয়েলকাম’, ‘মাই প্লেজার’ ইত্যাদি বলাটাও চাকরির ক্ষেত্রে সাধারণ আচরণ হিসেবেই স্বীকৃত। এ কথাগুলো বাংলায়ও স্বাচ্ছন্দ্যে বলা যেতে পারে। ‘আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে বা কথা বলে দারুণ আনন্দিত হলাম।’ ‘কেমন আছেন?’ ’ধন্যবাদ’। এই বিষয়গুলো শুরু থেকেই মাথায় রাখতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে।
সাবলীলভাবে ও বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা : সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন সাবলীলভাবে ও বিনয়ের সঙ্গে। কথা বলার সময় গলার স্বর ও বাচনভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখুন। কথা বলুন ধীরে, স্পষ্ট ভাষায়, সুস্পষ্ট শব্দ চয়নে, যাতে সবাই আপনার কথাটি একবার শুনেই পরিষ্কার করে বুঝতে পারে। একই কথা একাধিকবার যাতে বলতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডা ছাড়া খুব জোরে কথা বলা অনুচিত। অফিসের মধ্যে এমনভাবে কথা বলুন, যাতে আপনার কথায় অন্যের কোনো সমস্যা না হয়। কখনও অন্যের কথার মাঝে কথা বলতে যাওয়া উচিত নয়। হঠাৎ কোনো কারণে বলে ফেললে ‘সরি’ বা ‘দুঃখিত’ বলুন। নিজের সম্পর্কে বেশি কথা বলবেন না। অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিন। চেষ্টা করুন অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে। অন্যের কথা বলাকেই বেশি গুরুত্ব দিন। অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাই ভালো।  কথা বলতে বলতে হাঁচি বা কাশি এলে ‘এক্সকিউজ মি’ বলুন।
রীতিনীতি : উৎসব, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী, নববর্ষ ও বিশেষ দিবসে শুভেচ্ছা জানানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। জন্মদিন, পরীক্ষায় সাফল্য, বিশেষ উৎসব ইত্যাদি বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়াও অনেকদিন পর দেখা হলে গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করাটা আমাদের সমাজে ভদ্রতা বলেই পরিচিত। জুতে খুলে ঘরে ঢোকা, বয়স্ক মানুষকে সময় দেওয়া, তাদের কাজে সাহায্য করা, অভিভাবকের সঙ্গে তর্ক না করা, মতের অমিল হলে যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা প্রভৃতির দিকে নজর দিন। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]