logo
প্রকাশ: ০৬:০০:৪৫ PM, সোমবার, জুলাই ৩০, ২০১৮
দূষণ ঠেকাবে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার
অনলাইন ডেস্ক

খাবার থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী অথবা প্রযুক্তিপণ্য- প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ব্যবহার করছে প্লাস্টিক। এ কারণে সমুদ্র ও প্রকৃতি দূষণের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্লাস্টিক। তবে প্লাস্টিক দূষণের হার কমাতে সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাপান।

শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে গৃহস্থালি প্রতিটি ক্ষেত্রে রিসাইকেলের ব্যাপারে বেশ তৎপর তারা। রিসাইকেল বা গৃহস্থালির ফেলে দেয়া জিনিসকে কীভাবে পুনঃব্যবহারের উপযোগী করা যায়, তার উদাহরণ পাওয়া যায় জাপানের নারী কিয়োকো কাওয়ামুরার ঘরে।

তার রান্নাঘরে পাশাপাশি কয়েকটি ঝুড়িতে তিনি প্রতিদিনের ফেলা দেয়া কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাটারি ইত্যাদি আলাদা করে রাখেন। ঝুড়িতে ফেলার আগে ছোট-বড় প্রতিটি বস্তু ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতেও ভোলেন না তিনি।

কিয়োকো কাওয়ামুরার এই পরিপাটি পদ্ধতি দেখলে মনে হয় তিনি হয়তো জাপানের রিসাইক্লিং আর্মির একজন সৈনিক। যিনি নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে এই কাজ করে যান।
 
বিশ্বে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের শীর্ষে রয়েছে জাপান এবং এটি সম্ভব হয়েছে মিসেস কাওয়ামুরার মতো এমন হাজারো দায়িত্বশীল মানুষের কারণে। যারা বিশ্বাস করেন, মানুষ চাইলেই প্রকৃতির দূষণ বন্ধ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শেখানো হয়েছে যেন আমরা পৃথিবীর জন্য ভাল কিছু করতে পারি। এজন্য আমরা আবর্জনা সংগ্রহের জায়গাটি পরিষ্কার রাখি। এবং সবাই ঠিক আবর্জনা ঠিক স্থানে ফেলছে কিনা সেটাও নজরে রাখি। যদি এ নিয়মের হেরফের হয় তাহলে আমরা ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেই।’

জাপানে এ ধরনের মানুষের প্রয়োজনীয়তার অন্যতম কারণ হলো, তারা জাতিগতভাবে প্রচুর প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করে। বিস্কিট থেকে শুরু করে ফল, মিষ্টি বা সেদ্ধ কোনো খাবার, প্রতিটি আলাদাভাবে প্লাস্টিকে মোড়ানো থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরে জাপানেই সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। এ কারণেই মিসেস কাওয়ামুরা রিসাইক্লিং নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন থাকেন।

প্লাস্টিক বর্জ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইউ জং সুর মতে, জাপান রিসাইক্লিংকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। একে রিসাইক্লিং প্রোপাগান্ডা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জাপানের এই প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে আসলেই কী করা হয় সেটা অনেকেরই অজানা। 

তিনি বলেন, ‘জাপানিরা এই রিসাইক্লিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত সিরিয়াস। তাদের ধারণা, তারা তখনই ভাল মানুষ হবে যখন তারা বেশি বেশি রিসাইকেল করতে পারবে। আমি মনে করি, তাদের এমন ভাবাটাই ভুল।’

জাপানের এই প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি বড় অংশ এতদিন রিসাইক্লিংয়ের জন্য চীনে পাঠানো হতো। চলতি বছরের শুরুতে ৭০ শতাংশ বর্জ্য পাঠিয়ে দেয়া হয় সেখানে। শিল্পকারখানার মালিক সোগামিসানও তার প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিকের ৮০ শতাংশই পাঠিয়ে দিতেন চীনে।

পরে চীনা কর্তৃপক্ষ চলতি বছর হঠাৎ করেই এই প্লাস্টিক বর্জ্যের আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় তার কারখানার পাশে জমে ওঠে পাহাড়সমান প্লাস্টিক বর্জ্য। তবে শিল্পকারখানার যে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো রয়েছে সেগুলোর রিসাইকেলের উদ্যোগ নিয়েছেন সোগামিসান। এজন্য তার কারখানার শ্রমিকদের তীব্র শব্দের মধ্যে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়।

সেখানে প্লাস্টিকগুলোকে গলিয়ে, কেটে টুকরো করে পরে চূর্ণ করা হয়। পরে তৈরি করা হয় নানা ধরনের প্লাস্টিক পণ্য। তবে কারখানায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকগুলো উন্নতমানের এবং পরিচ্ছন্ন হওয়ায় এগুলোকে সহজেই রিসাইকেল করা যায়। যেটা কিনা গৃহস্থালির ফেলে দেয়া নিম্নমানের প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এ কারণেই এতদিন গৃহস্থালির প্লাস্টিক বর্জ্য চীনে পাঠিয়ে দেয়া হতো।

তবে চীন এখন সেসব প্লাস্টিকের আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে জাপানের রিসাইক্লিং অর্থনীতি।

মিস্টার সোগামিসান বলেন, ‘যখন প্লাস্টিক রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই জাপানজুড়ে প্লাস্টিকের স্তূপ জমতে শুরু করে এবং এই স্তূপ ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। যেটা আমাদের বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জাপান এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক দিয়ে কী করবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সুরাহা করতে পারেনি। বাস্তবতা হলো, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত এই প্লাস্টিকগুলো মূল্যমান খুবই কম।

এগুলো হয় পুড়িয়ে ফেলতে হবে না হলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। যেটা বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই প্লাস্টিকগুলোর জায়গা হয় সমুদ্রে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]