logo
প্রকাশ: ১০:৫৮:১৯ PM, শুক্রবার, আগস্ট ৩, ২০১৮
টুম্বা ভূত আর আসে না
সোহেল বীর

দাদা বলেন, দাদু ভাই কি আর বলব! এভাবে প্রতিনিয়ত আমরা গাছ কেটে সবুজ উজাড় করে ফেলছি। আমাদের উচিত, একটি গাছ কাটলে দুটি গাছ লাগানো। কারণ, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন পাই, সেই অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। দাদার কথায় টুটুন বুঝতে পারে, গাছ আমাদের অনেক ভালো ও উপকারী বন্ধু। তাই তো টুটুন দাদার সঙ্গে ভূতবন্ধুর দেওয়া গাছ লাগায়। প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা করে

টুটুন আর টুম্বা ভূত দুই বন্ধু। তাদের বন্ধুত্ব ভালোই চলছিল। এতদিনে টুম্বা অনেক কিছু শিখেছে। অনেক বাংলা ভাষা শিখে ফেলেছে। টুটুনও ভূতদের অনেক কিছু জেনেছে। একদিন টুটুনের খুব জানতে ইচ্ছে হলো, তাদের নাম ভূত হলো কেন? টুম্বা ভূত টুটুনকে বলল, শোনো বন্ধু, আমাদের শরীর নেই কিন্তু অস্তিত্ব আছে। ভূতরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে খুব মজা পায়। আর ভয় থেকেই নাম হয়েছে ভূত। তোমাদের মতো আমাদেরও স্কুল আছে। সেই স্কুলে বছরে একবার করে পরীক্ষা হয়। যে যত বেশি মানুষকে ভয় দেখাতে পারে, সে তত বেশি নম্বর পায়। আমি আগামী বছর স্কুলে ভর্তি হব। 
টুটুনের ভূতবন্ধুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা শুনে তারও খুব ভালো লাগে। কিন্তু পরীক্ষার বিষয়টা জেনে মনে মনে ভয় পায়। টুটুনের মুখের দিকে তাকিয়ে টুম্বা ভূত সব বুঝতে পারে। টুটুনকে বলে, আরে তোমার কোনো ভয় নেই। তুমি তো আমার বন্ধু। আমি আমার দাদাভূতকে তোমার কথা আগেই বলেছি। দাদাভূত সবার সর্দার। তাকে সবাই খুব মানে। সে সবাইকে বলে দিয়েছে। কেউ তোমাকে ভয় দেখাবে না।
টুম্বা ভূত ক’দিন ধরে টুটুনের কাছে আসে না। ভূতবন্ধুর সঙ্গে ক’দিন কথা না হওয়ায়  টুটুনের মনট খারাপ। মন খারাপের কথা সে কাউকে বলে না। আজ টুটুনের খুব করে টুম্বা ভূতের কথা মনে পড়ছিল। সন্ধ্যায় টুম্বা ভূত আসে টুটুনের সঙ্গে দেখা করতে। টুম্বা ভূতের আগমনে টুটুনের মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু টুম্বা ভূত টুটুনকে যা বলল, তাতে টুটুন রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। অনেক কষ্টও পায় সে। কয়েকদিনের মধ্যে বাবুদের কালীবাড়ি ভেঙে ফেলা হবে। রাস্তার পাশের পুরানো বটগাছটাও কেটে ফেলা হবে। সেখানে বহুতল ভবন তৈরি করা হবে। এতে ভূত পরিবারের সবাই খুব উদ্বিগ্ন। তারা আর এখানে থাকবে না। হাজার হাজার মাইল দূরে চলে যাবে। 
নতুন ঠিকানা খুঁজতে এ ক’দিন দাদাভূতের সঙ্গে টুম্বা ভূতও ছিল। তাই এতদিন তার আসা হয়নি। তবে আজই টুটুনের সঙ্গে তার শেষ দেখা। আগামীকাল তারা নতুন ঠিকানায় চলে যাবে। এ কথা শুনে টুটুনের মন আরও খারাপ হয়ে যায়। টুম্বা ভূত টুটুনকে বলে, মন খারাপ করো না বন্ধু। আমাদের বন্ধুত্ব কোনোদিন শেষ হবে না। তোমার কথা আমার সবসময় মনে থাকবে। যাওয়ার বেলায় টুটুনকে একটা ম্যাজিক কলম দিয়ে যায়। সেই কলম দিয়ে টুটুন ইচ্ছে মতো ছবি আঁকতে পারবে। মনে মনে ভেবে ম্যাজিক কলম কাগজে রাখলেই ছবি এঁকে দেবে। টুটুনের ভূতবন্ধু বলে, যখন তার কথা মনে পড়বে, তখন টুটুন যেন ম্যাজিক কলম দেখে। সেই সঙ্গে একটা বটগাছের চারা দিয়ে যায়। এ বটগাছ যখন অনেক বড় হবে, তখন হয়তো টুম্বা ভূতের পরের প্রজন্ম এ গাছে এসে আবাস গড়ে তুলবে। এ বলে টুম্বা ভূত তার মানুষবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নেয়। এদিকে টুটুন তার দাদার কাছে সব কথা বলে। 
দাদা বলেন, দাদু ভাই কি আর বলব! এভাবে প্রতিনিয়ত আমরা গাছ কেটে সবুজ উজাড় করে ফেলছি। আমাদের উচিত, একটি গাছ কাটলে দুটি গাছ লাগানো। কারণ, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন পাই, সেই অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি।
দাদার কথায় টুটুন বুঝতে পারে, গাছ আমাদের অনেক ভালো ও উপকারী বন্ধু। তাই তো টুটুন দাদার সঙ্গে ভূতবন্ধুর দেওয়া গাছ লাগায়। প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা করে। সে যখনই গাছের পরিচর্যা করে, তখনই ভূতবন্ধুর কথা মনে পড়ে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]