logo
প্রকাশ: ০৪:৫৬:৪০ PM, শনিবার, আগস্ট ৪, ২০১৮
রিবন রেটিং পদ্ধতিতে আগ্রহ বাড়ছে পাটচাষিদের
আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর

রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আঁশ  ভালো হয়। পাওয়া যায় উৎকৃষ্ট মানের পাট। হাটে এই পাটের দামও বেশি। এ কারণে রংপুরের পাটচাষিরা আধুনিক রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। 

পাটচাষিদের সাথে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

পাট গবেষণা  ইনস্টিটিউট রংপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, তাদের উদ্ভাবন করা  রেটিং পদ্ধতিতে সনাতন পদ্ধতির মতো জলাশয়ের ব্যাপক জায়গাজুড়ে পাট জাগ দেয়ার প্রয়োজন নেই। এতে পাট গাছের পাতা ঝরিয়ে এর গোড়া থেতলে নিতে হয়। এর পর রিবনার মেশিনের সাহায্যে পাট গাছের ছাল ছাড়িয়ে ছোট গর্তে পানিতে সেই ছাল ১০ দিন ভিজিয়ে রাখতে হয়। এভাবে এক বিঘা জমির পাট ছয় মিটার লম্বা, তিন মিটার চওড়া ও এক মিটার  উচ্চতাবিশিষ্ট গর্তের ভেতর পলিথিন বিছিয়ে তা পানি দিয়ে ভরে পচানো যায়। গর্তে প্রতিমণ পানিতে এক কেজি করে ইউরিয়া সার দেয়া হলে পাটের আঁশ খুব ভালো হয়। দিন দশেক পর ওই জাগ দেয়া ছাল ধুয়ে নিলেই পাওয়া যায় উৎকৃষ্টমানের পাট।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে জাতি ও তোষা জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে  রংপুর সদরে ৪০০ হেক্টর,  মিঠাপুকুরে ১০৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জে ১৭৫০ হেক্টর, পীরগাছায় ৬০০ হেক্টর, গঙ্গাচড়ায় ১৪০০ হেক্টর এবং কাউনিয়া উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে  জাতি ও তোষা পাটের আবাদ হয়েছে। আর এসব  জমি থেকে ১৫ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের টার্গেট আশা করছে কৃষি বিভাগ। 

মিঠাপুকুর  উপজেলার পায়রাবন্দের চুহড় গ্রামের চাষি মোঃ আব্দুল মোতালেব  ৩০ শতক জমিতে পাটচাষ করেছেন। তিনি আধুনিক রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে আগ্রহী হয়েছেন। 
কাউনিয়া উপজেলার বালাপারা গ্রামের চাষি মো. আনোয়ারুল ইসলাম ২০ শতক জমিতে পাট চাষ করছেন। তিনিও রিবন রেটিং পদ্ধতি পাট জাগ দেবেন। 

কৃষি বিভাগ জানায়,  গত ২০১০ সালে  রংপুর মহানগরীসহ আট উপজেলায় সহস্রাধিকেরও বেশি চাষিকে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে  চাষিদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে দলপ্রধানদের কাছে মেশিন দেয়া হয়। একটি মেশিনে গড়ে ১০০ জন চাষি পাটের ছাল ছাড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের পাটচাষি ময়নাল হক জানান, কৃষি অফিস থেকে  প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর থেকে  তিনি  কয়েক বছর  থেকে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাচ্ছেন। 

চাষি সারজিল হোসেন বলেন,  রিবন রেটিং পদ্ধতিতে সহজেই পাট ছাড়ানো যায় এবং পাট পচানো যায়। এতে কোনো ঝামেলা নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডক্টর সারওয়ারুল আলম জানান, রংপুর জেলায় আধুনিক রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচানোর ব্যবহার বাড়ছে। এই পদ্ধতিতে পাট পাচানোর ফলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]