logo
প্রকাশ: ০৫:৫৬:৪৫ PM, শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮
এবার রংপুরে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা
আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর

রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন উন্নত হওয়ায় রংপুরের খামারিদের মুখে হাসি ফুটেছে। আগামী এক সপ্তাহ ভারতীয় গরু প্রবেশ না করলে তাদের পালিত গরুর ভাল দাম পাবেন বলে খামারি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করেছেন। 
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, এবার রংপুর বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। পশুর মধ্যে রয়েছে, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। গতবার পশু কোরবানি হয়েছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯টি। এবার এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা অনেকের। 

সূত্র জানায়, আট জেলায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২১ জন খামারি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১টি গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি এবং ২ লাখের বেশি গৃহস্থ প্রায় ৯ লাখ পশু হাটবাজারে বিক্রির  জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। 

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা জাহিনুর ইসলাম  বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ডোমার ও আশপাশের অনেক সচ্ছল মানুষ দেশি গরু কিনে বিভিন্ন মানুষকে বর্গা দেন। ঈদের ৬ মাস থেকে এক বছর আগে এই গরুগুলো দেয়া হয়। এমন মানুষও আছেন যিনি প্রায় ২০০র মতো গরু বিভিন্ন জনকে দিয়েছেন বিভিন্ন শর্তে। গরুগুলোর বেশির ভাগই মাঠে চড়ে খায় বলে গরুর পালন খরচ খামারের গরুর চেয়ে অনেক কম হয়। 

জাহিনুর বলেন, প্রতি ঈদে তিনি নিজেও ১০ থেকে ১৫টি গরু এভাবে পালন করেন। কোনবারে তার লোকসান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে কিছুদিন আগে ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে কিছুটা শংকিত হয়েছিলেন। কারণ বাইরের বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা না আসলে গরুর ভাল দাম পাওয়া যায় না। এই ঈদের জন্য তিনি ১৫টি গরু বর্গা দিয়েছেন। আশা করছেন ভাল দাম পাবেন।

রংপুর ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম জাদু বলেন, ঈদ যত কাছে আসবে গরুর চাহিদা তত বৃদ্ধি পাবে। কারণ সকলে কমবেশি পশু কোরবানিতে অংশগ্রহণ করবেন। 

তিনি বলেন, আগামী ৭ দিন যদি বাজারে ভারতীয় গরু না প্রবেশ করে অবশ্যই গরুর  ন্যায্য দাম পাবেন খামারিরা। তবে যারা বাজারের কেনা গো-খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল তাদের লাভ কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গরুর দাম পাবেন বলে তিনি দাবি করেন। 
তবে হাটবাজারে কোরবানির পশুর দাম কম বলে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা নিতে চাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল- এমন অভিযোগ করেছেন খামারিরা। 

রংপুর সদর উপজেলার খামারি দুলাল চন্দ্র বলেন, এমন গুজবে প্রভাবিত হয়ে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ক্ষুদ্র খামারি আগেভাগেই গবাদি পশু বিক্রি করে দেবেন। আর এর ফায়দা তুলবে বড় বড় ব্যাপারীরা। তিনি এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য খামারিদের পরামর্শ দেন।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব কাছে হওয়ায় কোরবানির পশু জবাই বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করেন। কয়েক বছর থেকে কোরবানি ঈদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে বেশ কিছু গরু কোরবানি করে পার্টির কর্মীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। তবে এ বছরের শেষে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায় এই ঈদ অনেক রাজনৈতিক নেতার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যারা নির্বাচন করবেন বলে মনস্থির করেছেন তারা নির্বাচনী এলাকার ভোটার বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত অস্বচ্ছল মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার কৌশল হিসেবে পশু কোরবানি বেছে নিতে পারেন।

রংপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের প্রার্থী। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতবারের চেয়ে পশু কোরবানির সংখ্যা বাড়বে। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,  নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন তারাই ভোটারদের খুশি করতে বেশি বেশি পশু কোরবানি দেবেন। তার মতো অনেক প্রার্থী এমন মত পোষণ করেন। তবে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ উপপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার পশু কোরবানি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চাহিদা পূরণে সক্ষম। এরপরও উদ্বৃত্ত থাকবে পশু। যা দিয়ে দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটানো সম্ভব। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের কোরবানির পশুর একটি বিরাট অংশের যোগান যাচ্ছে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ থেকে বলে তিনি দাবি করেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]