logo
প্রকাশ: ১২:৫৮:৫৫ AM, শনিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৮
বুমেরাং
নাজমুল হাসান মেহেদি

বেজিগুলো স্তন্যপায়ী প্রাণি হওয়ার দরুন যেগুলো মারা পড়েছিল সেগুলোর আর কোনো বংশধর রইল না। আসলে আগে যে সাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে ছিল সেটার কারণ ছিল বেজিগুলো সাপ আর সাপের ডিম খেয়ে এক ধরনের ভারসাম্য অবস্থা বজায় রাখত। সেকথা অসৎ গাছ চোর আর বোকা লাঠিয়ালগুলো জানত না, বুঝতও না। সুতরাং যা হবার হলো, উত্তরের বনে একসঙ্গে শত শত সাপের বাচ্চা ডিম ফুটে বের হতে থাকল

গ্রামটি বনের ধারে। সেই গ্রামে সাপের উৎপাত খুব বেড়ে গেল। সে কি সাপ রে বাবা! ছোট-বড়, গোখরা-মেটে নানান ধরনের সাপ। যখন তখন যাকে তাকে সামনে পেলেই ছোবল দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের উত্তর ধারে বনের পাশে যারা টাকার লোভে গাছ চুরি করতে যেত তারা কমই রেহাই পেত। যারা এ সাপের ছোবল খেত তারা অনেকে সেখানে মারা পড়ত, আবার অনেকে কম বিষধর সাপের ছোবল খেয়ে এসে তাদের গাছ চুরির মতো অসৎ কাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য বলত যে, গ্রামের সর্বত্র সাপ ছড়িয়ে পড়েছে, এখনই সাপ নিধন করতে হবে, নয়তো ছোবল খেয়ে গ্রামসুদ্ধ সবাই মারা পড়বে। 

গ্রামের মোড়ল সবাইকে বাঁচানোর জন্য সাপ মারার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। দায়িত্ব দেওয়া হলো লাঠিয়াল বাহিনীকে। লাঠিয়াল বাহিনী বলল, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে গ্রামের উত্তর ধার, আমরা তো ভালো চিনি না। মোড়ল তখন সেই গাছ চোরদের মধ্য থেকেই কয়েকজনকে কোথায় কোথায় সাপ আছে বা থাকতে পারে তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ দিলেন। গাছ চোরেরা তো খুশি। সাপ মরলে তাদের অবৈধ ব্যবসার জন্য ভালো। পথ প্রদর্শকের কয়েকজনের বাড়ি ছিল গ্রামের উত্তরের কাছেই, তাদের মধ্যে কিছু লোকের ছিল মুরগির খামার। মাঝে মাঝেই বেজি এসে মুরগি ধরে নিয়ে যেত।

মোড়লের লাঠিয়াল বাহিনী সাপ নিধন অভিযান শুরু করল। সাফল্যও বেশ, কয়েকদিনের মধ্যেই অনেক সাপ মারা পড়ল। গ্রামের সবাই খুশি, তার থেকেও বেশি খুশি হলো গাছ চোরেরা। এ অবস্থায় পথপ্রদর্শকদের মধ্যে যাদের মুরগি বেজিতে ধরে নিত, তারা পরিকল্পনা করল মোড়লের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বেজিও নিধন করে ফেলবে। দুষ্টু লোকেরা তাদের বোঝাতেও সক্ষম হলো এই বলে যে, বেজি যেভাবে মুরগি ধরে নিয়ে যাচ্ছে তাতে কিছুদিনের মধ্যে গ্রামে ডিম আগে নাকি মুরগি আগে, এ নিয়ে কোনো বাজি  ধরাই হবে না। মুরগি কিংবা ডিম না থাকলে তো সে প্রশ্নই আসবে না। সুতরাং বেজি মারতে হবে। মোড়ল অবশ্য এসব জানতেন না। তিনি চাচ্ছিলেন যাতে সাপগুলো মারা হয় আর গ্রামের সবার কাছে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে। 

এরপর যেটা হলো, গ্রাম ও গ্রামের আশপাশের সাপ আর বেজি তেমন রইল না। মোড়ল তো বেজায় খুশি। চোরদের চুরি আর খামারিদের মুরগি পালন চলছিল ভালোই। 

ঘটনা এখানেই শেষ হলে তো ভালোই হতো। কিন্তু  হলো না। যে সময়টাতে সাপ নিধন কার্যক্রম চলছিল তখন সাপের প্রজনন মৌসুম ছিল, সাপগুলো বিভিন্ন গর্তে এবং গাছের কুঠুরির মধ্যে ডিম দিয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে বেজিগুলো স্তন্যপায়ী প্রাণি হওয়ার দরুন যেগুলো মারা পড়েছিল সেগুলোর আর কোনো বংশধর রইল না। আসলে আগে যে সাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে ছিল সেটার কারণ ছিল বেজিগুলো সাপ আর সাপের ডিম খেয়ে এক ধরনের ভারসাম্য অবস্থা বজায় রাখত। সেকথা অসৎ গাছ চোর আর বোকা লাঠিয়ালগুলো জানত না, বুঝতও না। সুতরাং যা হবার হলো, উত্তরের বনে একসঙ্গে শত শত সাপের বাচ্চা ডিম ফুটে বের হতে থাকল। কিছু দিনের মধ্যে পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পড়ল। খাটের নিচে, হাঁড়ির পাশে, গোয়াল ঘরে, রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে সাপ দেখা দিল। প্রাণ বাঁচাতে সবাই গ্রাম ছাড়ল। মোড়লও তার জমানো সম্পদ নিয়ে ভাগল শহরে। হ

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]