logo
প্রকাশ: ০৩:৫৯:৫৫ PM, সোমবার, আগস্ট ২৭, ২০১৮
ইউএস-বাংলার পাইলটকে দায়ী করল নেপাল
অনলাইন ডেস্ক

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার সময় পাইলট প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি রিপোর্ট বলা হয়েছে।

পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এতে পাইলট আবিদ সুলতান প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল নির্দেশনার কোনো কথা উল্লেখ নেই।

দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরিভাবে পাইলটকেই দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নেপাল সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনটির একাংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নেপালের কাঠমাণ্ডু পোস্টে। রিপোর্টে দেখা যায়, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে পাইলট প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এছাড়াও কম ঘুমের কারণে তাকে অবসাদগ্রস্ত ও ক্লান্ত বলে মনে হয়েছে। ককপিটে বসে তিনি একাধিক বার কান্নাকাটি করেছিলেন।

অবতরণের ছয় মিনিট আগে আবিদ নিশ্চিত করেছিলেন বিমানের ল্যান্ডিংগিয়ার নিচে নেমে আটকে গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটের ইলেকট্রিক নির্দেশক লাইটের উল্লেখ করে পাইলট বলেন, গিয়ার নিচে নেমেছে, তিনটি সবুজ বাতি জ্বলছে। সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদ যখন চূড়ান্ত ল্যান্ডিং তালিকা পরীক্ষা করছিলেন তখন ধরা পড়ে গিয়ার নিচে নামেনি। কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় অবতরণ চেষ্টার সময় বিমানটি রানওয়েতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগুন ধরে যায়।

তদন্তকারীরা বলছেন, এক ঘণ্টার ওই ফ্লাইটে সুলতান ক্রমাগত ধূমপান করেছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক এই পাইলটের সাড়ে ৫ হাজার ঘণ্টার উড্ডয়নের রেকর্ড ছিল। তবে তিনি তার ধূমপানের অভ্যাস থাকার তথ্য বিমানসংস্থাকে জানাননি। এ থেকে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ককপিটে থাকার সময়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর দিন ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলারের সঙ্গে কথোপকথনের যে অংশ ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে পাইলট আবিদ সুলতানের কথা বা আচরণ উদ্বিগ্ন বা বেপরোয়া বলে মনে হয়নি। উড়োজাহাজটি রানওয়ের কোন দিক থেকে অবতরণ করবে সেটিই ছিল তাদের কথোপকথনের বিষয়। তবে তার আগের কথোপকথনকে ভিত্তি ধরে নেপালের এ রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে।

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১, ৭১ জন আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় চারজন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হন নয়জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল সরকার প্রকাশ করেনি। এমন সময় সম্পূর্ণ দায় পাইলটের ওপর চাপিয়ে রিপোর্ট প্রকাশকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]