logo
প্রকাশ: ১১:৪৪:৪৬ PM, বুধবার, আগস্ট ২৯, ২০১৮
স্কুলপড়–য়া মেয়েদের পিরিয়ড সচেতনতা

বাংলাদেশের লাখ লাখ মেয়ে পিরিয়ড নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভয় নিয়ে বড় হয়। সংকোচের কারণে পরিবার থেকে তারা এ বিষয়ে তেমন কিছু জানতে পারে না। যতটুকু জানে তাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নয়। স্কুলেও কারও কাছে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। অনেক সময় স্কুলের শিক্ষিকা সাহায্য করলেও সবার সে সৌভাগ্য হয় না। মা, বড় বোন, বান্ধবী, স্কুলের আয়া এদের কাছ থেকেই যা জানার; অনেক সময় তাও থাকে ভুলে ভরা। আবার তারাও ভুল তথ্যগুলো পৌঁছে দেয় অন্য কারও কাছে। এভাবেই ভুলের একটি চক্র চলতেই থাকে। আর ভুল থেকেই জন্ম নেয় মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। কেউ কেউ স্কুলই ছেড়ে দেয়। অথচ সমাধানটা কতই না সহজ। জীবনের পিরিয়ড শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা যেন কষ্টের আর ভুলের না হয় সে জন্য সেনোরা দীর্ঘ এক যুগ ধরে চালিয়ে আসছে ‘স্কুল প্রোগ্রাম’। লৌহজংয়ের এক গার্লস স্কুলে প্রথম যখন প্রোগ্রামটি শুরু হয় স্কুলের মেয়েরা, শিক্ষিকারা ভাবতেই পারেননি যে, পিরিয়ড নিয়ে এমন স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা হওয়া সম্ভব। স্কুলের সেই শিশু, কিশোরীরা লাজুক মুখে যখন শুনে নিচ্ছিল স্বাভাবিক এই শারীরিক অবস্থার বর্ণনা, কত সহজেই পিরিয়ডের মতো স্বাভাবিক এ  প্রক্রিয়াটি ম্যানেজ করা সম্ভব, তখন তাদের গালে লাল আভার আড়ালেও উঁকি দিচ্ছিল হাঁফ ছেড়ে বাঁচার আনন্দ। তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো স্কুলে সেনোরা চালিয়ে আসছে এ স্কুল প্রোগ্রাম। প্রোগ্রামের দিন পরিচিতিমূলক পর্বের শেষে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল দেখিয়ে ছাত্রীদের বোঝানো হয় নারী শরীরের খুুঁটিনাটি। তারপর একজন গাইনি ডাক্তার পিরিয়ড নিয়ে বিস্তারিত বলেন। ছাত্রীদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। সেনোরার কেয়ার লাইন নম্বর (০৮০০০৮৮৮০০০) ও এ নম্বরের মাধ্যমে ছাত্রীরা কী ধরনের সহায়তা পেতে পারে সে বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। প্রোগ্রামটি শেষে একজন ছাত্রী স্বাস্থ্যকরভাবে পিরিয়ড ম্যানেজ করা শেখে আর শেখে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাÑ পিরিয়ড কোনো ট্যাবু নয়। সেই এক যুগ আগে শুরু হওয়া এ স্কুল প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেনোরা প্রায় ৩৭ লাখ মেয়েকে দিয়েছে পিরিয়ড বিষয়ে সচেতনতা। এবছরও আগস্ট পর্যন্ত তিনশ’রও বেশি স্কুলে এ  প্রোগ্রামটি চলেছে। ভবিষ্যতেও স্কুলগুলোয় প্রোগ্রামটি চলতে থাকবে এমনটাই জানিয়েছেন সেনোরার ব্র্যান্ড কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কথা হয় হবিগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী শমীর সঙ্গে। সে জানায়, বাসায় প্রথম মায়ের কাছেই সে ভাসাভাসা পিরিয়ড বিষয়ে জানে। তবে স্কুল প্রোগ্রামটির পর সে এ বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন হয়। একই সঙ্গে সে জানায় যে, শুধু স্কুলে নয়, বরং ঘরে ঘরেই হওয়া উচিত এমন উদ্যোগ। ‘স্কুল প্রোগ্রামটির মাধ্যমে মেয়েরা পিরিয়ড বিষয়ে যেমন সচেতন হয়েছে একই সঙ্গে পিরিয়ড যে কোনো সংকোচ নয়, এটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে এই উদ্যোগ’Ñ এমনটাই জানালেন কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম।
এক যুগ ধরে নীরবেই চলা সেনোরার স্কুল প্রোগ্রামটি সবাইকে এটাই দেখিয়েছে যে, ইচ্ছা থাকলেই ভালো কিছু করা সম্ভব। যে মেয়েরা একসময় দেশ চালাবে তাদের চলার পথটা যেন মসৃণ হয় এটুকু তো নিশ্চিত করাই যায়। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]