logo
প্রকাশ: ১১:৫০:১৬ PM, বুধবার, আগস্ট ২৯, ২০১৮
অনুগ্রহ ও দয়ার আধার রাসুল (সা.)
মুফতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ

 

মানবতার নবী রাসুলে আরাবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি সব উম্মতের বাদশা, তিনিই আপাদমস্তক অনুগ্রহ ও দয়ার আধার। তিনিই সম্মান-মর্যাদা ও পূর্ণতার চাঁদ, তিনিই সর্বোচ্চ রূপ-সৌন্দর্যের প্রতীক।

- যাঁকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব নবীর আগে সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু পাঠিয়েছেন সবার শেষে।

- যাঁকে রূহের জগতে আল্লাহ তায়ালা যখন জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তদুত্তরে তিনিই সর্বপ্রথম ‘হ্যাঁ, অবশ্যই’ বলে সাড়া দিয়েছিলেন।

- যাঁর সাহায্য-সহায়তার সাক্ষ্য-অঙ্গীকার ‘রূহ জগতে’ সব নবী-রাসুল থেকে নেওয়া হয়েছিল।

- যাঁর আগমনের সংবাদ সব আসমানি ও ইলহামি গ্রন্থে দেওয়া হয়েছে।

- যাঁর দোলনায় ফেরেশতারা দোলা দিতেন।

- যাঁর নূরানি শুভ জন্মলগ্নের জ্যোতি সারা বিশ্বকে আলোকিত করেছিল।

- যাঁর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের আলোচনা পবিত্র কোরআনে স্থান পেয়েছে।

- যাঁর বরকতপূর্ণ লালা তিক্ত পানিকেও সুমিষ্ট করে দিয়েছিল।

- যাঁর বরকতপূর্ণ আঙুল থেকে পানির ঝরনা প্রবাহিত হয়েছিল।

- যাঁর চোখ মুবারক নিদ্রায় বিভোর হলেও অন্তর থাকত সজাগ-সচেতন।

- যাঁর ঘাম মুবারক মিশক-আম্বর থেকেও অধিক সুগন্ধিযুক্ত ছিল।

- যাঁর শরীর মুবারকে মশা-মাছিও বসত না।

- যাঁর শরীর মুবারক থেকে নির্গত অপত্রিতাও পবিত্র ছিল।

- যাঁর শুভ জন্মক্ষণ থেকে জিন-শয়তানদের আকাশে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

- যাঁর সঙ্গী ও কুমন্ত্রণায় নিয়োজিত জিন-শয়তানটিও মুসলমান হয়ে গিয়েছিল।

- যাঁর প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরণ উম্মতের জন্য ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।

- যাঁকে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ রূপে পাঠানো হয়েছে।

- যাঁর মাথায় ‘প্রভাব দ্বারা সাহায্য’ এর মুকুট সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে।

- যাঁকে ‘আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি’ বলে আল্লাহর সুসংবাদ শোনানো হয়েছে।

- যিনি স্বীয় কবর শরিফে আসল হায়াতসহ জীবিত আছেন।

- যাঁর রওজা শরিফে নিযুক্ত ফেরেশতারা, তাঁর কাছে উম্মতের দুরুদ ও সালাম পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

- যাঁর হুজরা শরিফ ও মিম্বরের মধ্যবর্তী অংশটুকু বেহেশতের বাগানগুলোর অংশবিশেষ।

- যাঁকে কেয়ামত দিবসে ‘মাকামে-মাহমুদ’ প্রদান করা হবে।

- যাঁকে ‘হাউজে-কাউসার’ এর মালিক বানিয়ে দেওয়া হবে।

- যাঁর ‘উম্মত’ কেয়ামত দিবসে সব উম্মতের চেয়ে বেশি হবে।

- যাঁর ‘দ্বীন প্রচার’ বিষয়ে কেয়ামত দিবসে কোনো সাক্ষী  তলব করা হবে না।

- যাঁর প্রতি নাজিলকৃত কিতাব জান্নাতেও পাঠ করা হবে।

- যাঁর ভাষা ‘আরবি’কে বেহেশতবাসীর ভাষা বানিয়ে দেওয়া হবে।

- যাঁকে স্বাগতম জানানোর লক্ষ্যে পুরো বিশ্বকে সজ্জিত করা হয়েছে।

কাযী আয়ায ‘শিফা’ নামক গ্রন্থে বলেন, ‘ওই সমস্ত জিনিস-বস্তু যার সংশ্লিষ্টতা-সম্পর্ক হুজুর (সা.) এর সঙ্গে বিদ্যমান সেসবের প্রতি সম্মান ও আদব প্রদর্শন, হারামাইন-শরিফাইন তথা মক্কা-মদিনায় মহানবী (সা.) এর উপস্থিতি, অবস্থান, বাসস্থান সংশ্লিষ্ট সবকিছুর সম্মান করা এবং সেসব জিনিস যা প্রিয়নবী (সা.) এর নামের সঙ্গে উচ্চারণ-উল্লেখ করা হয় কিংবা যা কিছু প্রিয়নবী (সা.) নিজ হস্ত মোবারক দ্বারা স্পর্শ করেছেনÑ তেমন সবকিছুর প্রতি আদব ও সম্মান প্রদর্শন প্রকৃত অর্থে খোদ মহানবী (সা.) এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই নামান্তর।’

‘সালফে সালেহিন’ এর নিয়ম-রীতি ছিল, যেসব মাহফিলে মহানবী (সা.) এর পঠন-পাঠদান হতো সেসব মজলিসে তারা আদব ও সসম্মানে বসতেন; ঠিক তেমনি যেমনটি সাহাবারা নবী করিম (সা.) এর মজলিসে আদব-সম্মানের সঙ্গে বসতেন। এ সবের কারণই ছিল, তারা প্রিয়নবী (সা.) এর হাদিসের প্রতি আদব প্রদর্শন প্রকারান্তরে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন বলে মনে করতেন।

হাদিস শরিফ পঠন বা পাঠদান এবং শোনা বা শোনানোর অনুষ্ঠানের কয়েকটি আদব নিম্নে উল্লেখ করা হলোÑ

- সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে, তা গোসল করে শুরু করা। তেমনটি সম্ভব না হলে, কমপক্ষে অজু করে তাতে অংশগ্রহণ করবে।

- শরীর ও পোশাকে সুগন্ধি লাগাবে।

- দু-হাটু গেঁড়ে তথা (যথাসাধ্য) আত্তাহিয়্যাতু এর সুরতে বসবে।

- পাঠক বা পাঠদানকারী হাদিস গ্রন্থখানাসহ উঁচুতে বসে বা উঁচুতে রেখে পড়বেন, পাঠদান করবেন।

- হাদিস পাঠকালীন আওয়াজ বেশি উঁচু করবে না।

- শ্রোতারা নীরবে হাদিস শুনবেন।

- হাদিস পাঠ ও পাঠদানকালীন যদি কোনো মেহমানও এসে পড়েন তাহলে তার সম্মানার্থে উঠে দাঁড়াবেন না।

- যদি কোনো হাদিস এর আগে পড়া হয়ে থাকে বা শোনা হয়ে থাকে, সেটিও দ্বিতীয় দফা শোনার সময় ঠিক সেভাবেই মনোযোগসহ শুনবে যেমন কি না প্রথম দফা শোনা হচ্ছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]