logo
প্রকাশ: ১১:৩৫:৫৩ PM, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮
মানবহত্যা মহাপাপ
মুফতি এহছানুল হক মোজাদ্দেদী

ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্ম মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানবহত্যা কিংবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোনো কারণে যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সব মানুষকেই হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারও জীবন রক্ষা করল, সে যেন পৃথিবীর সব মনুষের জীবনই রক্ষা করল।’ (সূরা মায়েদাহ : ৩২)। অন্যায়ভাবে কোনো মুসলমানকে হত্যার পরিণাম নিশ্চিত জাহান্নাম। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে কোনো মোমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও লানত বর্ষিত হতে থাকবে। আল্লাহ তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।’ (সূরা নিসা : ৯৩)।

নিরীহ মানুষকে হত্যা করার চরম পন্থা গ্রহণ বা বাড়াবাড়ির অবকাশ ইসলামে নেই। দুনিয়ায় অহেতুক কারও প্রাণনাশ বা হত্যা করা সামাজিক অনাচার ও অত্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে মানবহত্যাকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা করো না।’ (বনি ইসরাইল : ৩৩)। একবার হজরত হামজা (রা.) নবী করিম (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমাকে এমন পথ বলে দিন যা আমাকে সুখী করবে। হুজুর (সা.) বললেন, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ধ্বংস করাÑ এ দুটির মধ্যে তুমি কোনটি পছন্দ করো? হামজা (রা.) বললেন, মানুষের জীবন রক্ষা করা। রাসুল (সা.) বললেন, দুনিয়া ও আখেরাতে সুখী হওয়ার জন্য তুমি এ কাজই করতে থাক। (মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৬০)। 
যখনই কেউ অন্যায় ও অবৈধভাবে মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয় তার ওপর থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায়। নরহত্যা, বর্বরতা ও নাশকতার ফলে পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট হয় এবং ভূপৃষ্ঠে একের পর এক শাস্তি ও বিপর্যয় আপতিত হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘একজন প্রকৃত মোমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ প্রশান্ত থাকে, যে পর্যন্ত সে অবৈধ হত্যায় লিপ্ত না হয়।’ (বোখারি : ৬৮৬২)।
পৃথিবীতে যত পাপ আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? একাধিক হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, সাতটি মহাপাপ থেকে বেঁচে থাক। এ সাতটি মহাপাপের প্রথমটি হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক বা অংশীদার করা। আর তৃতীয়টি হলো অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। (বোখারি : ৬৮৫৬; মুসলিম : ১২৯)। ইমাম কুরতুবী (রহ.) মুসনাদে বাযযারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর সব মানুষ একসঙ্গে যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকেই জাহান্নামে দেবেন। তারপরও অন্যায়ভাবে হত্যাকে কখনোই মেনে নেবেন না।’ ইমাম কুরতুবি আরেকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষ যদি আরেকজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যায় মুখের একটি কথা দিয়েও সাহায্য করে, তাহলে কেয়ামতের দিন তার কপালে লেখা থাকবেÑ এ ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে মাহরুম। (আকদিয়াতুর রাসুল (সা.) পৃষ্ঠা : ১)। 
কেয়ামতের দিন মানুষ হত্যার বিচার করা হবে সবার আগে। তারপর অন্যান্য অপরাধের বিচার করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকদ্দমার ফয়সালা হবে, তা হলো রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত।’  (বোখারি : ৬৩৫৭; মুসলিম : ৩১৭৮)। অন্য একটি হাদিসে নূরনবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে নিয়ে আসবে। হত্যাকারীর চুলের অগ্রভাগ ও মাথা নিহতের হাতের মুষ্টিতে থাকবে আর তার কণ্ঠনালি থেকে তখন রক্ত ঝরতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার রব, এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে তাকে আরশের কাছে নিয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ২৯৫৫; মুসনাদ আহমদ : ২৫৫১)।
ভয়াবহ হত্যাকা- থেকে সমাজ ও দেশকে মুক্ত রাখতে হলে আমাদের সবাইকে আল্লাহর বিধান এবং রাসুল (সা.) এর নির্দেশ মেনে চলতে হবে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও যাবতীয় পাপাচার থেকে একনিষ্ঠভাবে তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে হবে। নিজেদের ও নিজেদের সন্তান তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুত্তাকি ও নবী প্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমেই সম্ভব হানাহানি ও নৈরাজ্যমুক্ত দেশ উপহার দেওয়া। তবেই আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা আমাদের জান্নাতের দরজায় পৌঁছে দিবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মোমিন বান্দা যদি আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় হাজির হয় যে, সে কারও রক্ত ঝরায়নি, অর্থাৎ কোনো হত্যাকা-ে জড়ায়নি, তাহলে আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া।’ (মুসলিম : ১৩৯)। আসুন, আমরা সবাই কোরআন সুন্নাহ মেনে চলি। জবান ও হাত থেকে সব মুসলমানকে ভালোবেসে নিরাপদে রাখি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]