logo
প্রকাশ: ১২:১১:২৩ AM, সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮
সভ্যতা সংস্কৃতি ও ইসলাম
আমিন ইকবাল

ইসলামি সংস্কৃতির মূল হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই এ সংস্কৃতি জীবনের কোনো অংশে, কোনো কার্যক্রমকে অনুমোদন দেয় না, যা আল্লাহপাকের নির্দেশের পরিপন্থি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বিধায় ইসলামি সংস্কৃতিও একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি। ইসলামি সংস্কৃতির পরিধি সমগ্র জীবনব্যাপী বিস্তৃত

যা অসভ্য নয় তাই সভ্য। আর যে সমাজ ও পরিবেশ সভ্য ও অসভ্যের ভেদাভেদ করতে শেখায়Ñ তাই সভ্যতা। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে মানব সভ্যতার অগ্রগতির বর্তমানকাল পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নতিই হচ্ছে সভ্যতা। সভ্যতার সঠিক কোনো সংজ্ঞা নেই। সাধারণ অর্থে, সভ্যতা বলতে বোঝায়Ñ মানবজাতির বিকাশিত অবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সভ্যতা গড়ে উঠেছে। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন সভ্যতার চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানী, ধর্মীয় নেতারা মানবজীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশীল করার জন্য মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় জীবনধারায় উন্নয়ন ঘটাতে গিয়ে সভ্যতা সৃষ্টি করেছেন।

সভ্যতার ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Civilization। এ শব্দটি civis বা civitas থেকে এসেছে, যার অর্থ নাগরিক। দার্শনিক ভলতেয়ার সর্বপ্রথম Civilization শব্দটি ব্যবহার করেন। কোনো অঞ্চল বা অঞ্চলগুলোয় যখন একটি জনগোষ্ঠী নগর তৈরি করে এক উন্নতর জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলে তখন তার অগ্রগতির সহায়ক নিমায়ক হিসেবে উদ্ভাবিত হয় লিখন পদ্ধিত, আইন, সরকারব্যবস্থা, বাণিজ্য, নবপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও সুস্পষ্ট ধর্মীয় দর্শন, তখন তাকে সভ্যতা বলা হয়। এ সভ্যতা সাধারণত মৌলিক ও জটিল সাংস্কৃতিক পরিম-লের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠে।
আর সংস্কৃতি হলো দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। একটি জীবনবোধ বিনির্মাণের কলাকৌশল। এটি মানুষের জীবনের একটি শৈল্পিক প্রকাশ, সমাজজীবনের স্বচ্ছ দর্পণ। এ সংস্কৃতির দর্পণে তাকালে কোনো সমাজের মানুষের জীবনাচার, জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অন্য কথায়, সমাজ মানুষের জীবনাচার, দৃষ্টিভঙ্গি আর বোধ-বিবেচনা থেকেই সে সমাজের সংস্কৃতি জন্মলাভ করে। তবে সংস্কৃতি এমন কোনো জিনিস নয় যে, এটি একবার ছাচে তৈরি হবে, তার কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। বরং সমাজ ও জীবনের পরিবর্তন এবং সময়ের ধারায় এ সংস্কৃতি পরিবর্তিত হতে পারে। এমনকি অন্য কোনো সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নতুন উপাদান সংগ্রহ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারে। 
ব্যক্তির সার্বিক সুস্থতা ও ক্রমপ্রবৃদ্ধির জন্য তার দেহ ও প্রাণ বা আত্মার ভারসাম্যপূর্ণ উৎকর্ষ একান্তই জরুরি। এ যেমন সত্য, তেমনি একটি জাতির উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন তার সংস্কৃতি ও সভ্যতা পুরোপুরি সংরক্ষিত হবে। কেননা সংস্কৃতি হচ্ছে প্রাণ আর সভ্যতা হচ্ছে দেহ। 
সভ্যতা ও সংস্কৃতির নানা দিক, নানা মত থাকলেও ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির উৎস ও ভিত্তি হচ্ছে কোরআন এবং হাদিস। প্রথমে ঈমান অতঃপর ঈমানের ভিত্তিতে গ্রহণ-বর্জনের সংস্কার, সংস্কারের পরিশোধিত অংশই হচ্ছে ইসলামি সংস্কৃতি। আর এর পরিপন্থি যা কিছু তা অপসংস্কৃতি। মিসরের প্রখ্যাত ইসলামি দার্শনিক অধ্যাপক হাসান আইয়ুব নিজের রচিত ‘তাবমিত আল আকায়েদ আল ইসলামি’ গ্রন্থে ইসলামি সংস্কৃতির সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক মানুষের সামষ্টিক জীবনের চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস প্রত্যয়, আবেগ-অনুভূতি, অনুরাগ, মূল্যবোধ, ক্রিয়াকা-, আচরণ, পরিমার্জিত ও পরিশোধিত, সৎকর্মশীলতা, উন্নত নৈতিকতা তথা জীবনের সব কর্মকা- তথা মানুষের পরিপূর্ণ জীবনধারা ও পরিম-লই ইসলামি সংস্কৃতির আওতাধীন।
ইসলামি সংস্কৃতির মূল হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই এ সংস্কৃতি জীবনের কোনো অংশে, কোনো কার্যক্রমকে অনুমোদন দেয় না, যা আল্লাহপাকের নির্দেশের পরিপন্থি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বিধায় ইসলামি সংস্কৃতিও একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি। ইসলামি সংস্কৃতির পরিধি সমগ্র জীবনব্যাপী বিস্তৃত। এর বৈশিষ্ট্য হলোÑ তাওহিদ বা একত্ববাদ, মানবতার সম্মান, বিশ্ব ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, বিশ্ব শান্তির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বমানের ঐক্য, কর্তব্য ও দায়িত্বানুভূতি, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের মর্যাদা প্রভৃতি। 
আর এ সংস্কৃতির অবকাঠামো হলোÑ এর ব্যবস্থাপনা একটি রাজ্যের ব্যবস্থাপনার মতো। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করা। এটি কোনো জাতীয় (ভৌগোলিক বা ভাষাগত অর্থে) দেশীয় বা গোত্রীয় সংস্কৃতি নয়। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে এ সংস্কৃতি সৎ পবিত্র ও নির্ভুল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]