logo
প্রকাশ: ০৬:২৪:০৭ PM, মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮
আন্দোলনেই সমাধান দেখছে বিএনপি
রকীবুল হক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ সরকার গঠনসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। বিষয়গুলো নিয়ে সংলাপে বসার আহ্বানও জানিয়ে আসছিল দলটি। রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এ সব দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে বেশ হতাশা দেখা দিয়েছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে মাথায় নিয়ে আগামী দিনের জন্য করণীয় ঠিক করছে বিএনপি। এক্ষেত্রে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করানোর বিষয়টিকে শেষ ভরসা ও সমাধান হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

বিএনপির দাবি-দাওয়া প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গোটা জাতিকে হতাশ করেছে। এখন তিনি যে পথে এগোচ্ছেন, সেই পথটা হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা। জনগণের রায় নেওয়ার কোনো পথ আমরা দেখতে পাচ্ছি না এবং তার কোনো ইচ্ছাও নেই। তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন পথ জনগণ। জনগণই এর উত্তর দেবে।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ তারা নেবেন না। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়েও সরকারের করার কিছু নেই। বিএনপি না এলেও নির্বাচন করে ফেলার পক্ষপাতি শেখ হাসিনা এটাও বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।

এসব বিষয়ে সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুলের কাছে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের যেসব ‘ইভিল ডিজাইন’ আছে, তাদের পরাজিত করবে। তিনি বলেন, যেটা গোটা দেশের মানুষের দাবি; সেই দাবিগুলোকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নাকচ করে দিয়েছেন। বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী সবকিছু হবে। সংবিধান তো মানুষের তৈরি করা। এর আগে যে সংবিধান ছিল, সেটা তো তারাই পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান তো অসংখ্যবার কাটছাঁট করে তারা তাদের সুবিধামতো করে নিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। এটা তো বিএনপির দাবি নয়, এটা জনগণের দাবি— আমরা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই, জবাবদিহিমূলক সংসদ চাই, সবাই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে জনগণের কাছে। সেই পার্লামেন্ট তৈরি করার জন্যই আজকে আমরা কথা বলছি, আন্দোলন করছি, দাবি করছি। এর জন্যই আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে এবং এর জন্যই তারেক রহমান দেশের বাইরে, হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে আছেন। তারা তো সব বিএনপির নেতাকর্মী নন। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য জনগণই তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জনগণই এ কথাগুলোর জবাব দেবে।

দলীয় সূত্র মতে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ছিল বিএনপি। এর পাশাপাশি দাবি আদায়ে বাধ্য করতে শেষ মুহূর্তে আন্দোলনেরও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এক্ষেত্রে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলটি এখনও আন্দোলনের দিকেই চূড়ান্ত মোড় নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যেসব দাবি জানানো হচ্ছে, তা বিএনপির একার দাবি নয়; এসব দাবির সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক মহল একমত পোষণ করেছে। এসব দাবি সরকার মেনে নেবে বলে বিএনপি এখনও বিশ্বাস করে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি দাবি না মেনে একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনের চিন্তা সরকার করে, তাহলে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির সামনে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আগামীতে বিএনপি যে আন্দোলনে নামবে, তাতে সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার রক্ষায় যোগ দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, যখন শান্তিপূর্ণ উপায়ে কোনো সমঝোতা বা সমাধান না হয়, তখন আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান করতে হয়। বিএনপির দাবি জনগণেরই দাবি। সরকার যখন এসব দাবি নাকচ করে দেয়, তখন জনগণের সামনে একটাই পথ— আন্দোলন। বিএনপি জনগণের দল হিসেবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আগামীতে আন্দোলনে নামবে।

যুব সমাজকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান ফখরুলের : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুব সমাজকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্টে’ শীর্ষক অনুষ্ঠাকে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ সদস্য অংশ নেন। তারা উন্মুক্ত এ অনুষ্ঠানে সংসদের আদলে বিভিন্ন বিষয়ে নানা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

ইয়ুথ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জিএম রাব্বানীর (নয়ন বাঙালি) কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, নয়ন বাঙালিকে যুবকদের কথা বলতে গিয়ে, একটা সৃজনশীল সমাজের কথা বলতে গিয়ে, একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলতে গিয়ে নির্যাতিত হতে হয়েছে। জীবনের হুমকির কারণে তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। এটা শুধু নয়ন বাঙালির ক্ষেত্রে নয়, সারা দেশে অসংখ্য যুবকের ক্ষেত্রে ঘটেছে, ঘটছে। অনেকে গুম হয়ে গেছেন, অনেকে খুন হয়ে গেছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন, অনেকে পুত্র হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছে।

বিদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইয়ুথ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নয়ন বাঙালি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম মুনির এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সোহান হাফিজ শাহর নেতৃত্বে নতুন কমিটির ঘোষণা দেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]