logo
প্রকাশ: ১১:০৪:২০ PM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮
শিক্ষিত বেকারদের আয়ের মাধ্যম সৃষ্টির উদ্যোক্তা পাপ্পু
মো. মোশারফ হোসেন

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ-তরুণীদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেরপুরের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। আয়ের নতুন পথ খোঁজে পেয়েছেন তারা। আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন হাজারো শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী। তারা নিজের ঘরে বসেই ডলার আয় করছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করতে তাদের আগ্রহের নতুন জায়গা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিংয়ে ডলার আয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের শিক্ষা গুরুতে পরিণত হয়েছেন শেরপুরের স্বপ্নবাজ পাপ্পু।

অনেক তরুণ ও তরুণী মফস্বল শহর বা নিজের ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করে সফল হচ্ছেন। এমন এক তরুণ উদ্যোক্তা শেরপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকার ইফতেখার হোসেন পাপ্পু। ‘ভাগ্য সর্বদাই কর্মঠ ও সাহসীদের পক্ষে’ এই কথাটি মনেপ্রাণে ধারণ করেন এই তরুণ। তাই তো অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলছেন ২২ বছর বয়সি স্বপ্নবাজ তরুণ ইফতেখার হোসেন পাপ্পু।
পাপ্পু শেরপুর জেলা শহরের কালীগঞ্জ এলাকার নিজ বাসায় ২০১৪ সালে গড়ে তুলেন ‘বিডি আইটি জোন’ নামের একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান। শত শত শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। যে বয়সে তরুণরা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটকে বিনোদনের অনুষঙ্গ মনে করে থাকেন, ওই বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন ডলার আয় করার বেকার যুবসমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তি।
আইটি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই প্রথমে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের টিউটরিয়ালের সহযোগিতা নিয়ে তিনি কাজ শেখা শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেন। যেখানে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করতে পারেন। এতে ফ্রি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নতুনদের শেখানোর লক্ষ্যে ওয়েব ও ইউটিউবে ভালো টিউটরিয়াল থাকা জরুরি মনে করেই তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের পরিবর্তনে পাপ্পু এখন সফল ডেভেলপার ও জেলার শত শত বেকার তরুণ-তরুণীর অনুকরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এবং তার প্রশিক্ষণার্থীরা মিলে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি বিদেশি অনেক কোম্পানির অর্ডার নিয়ে হাজার হাজার ডলার আয় করছেন। তাদের দেখে উৎসাহিত হয়ে নিজ জেলাতে তো বটেই; বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা এ পেশার মাধ্যমে আয়ের প্রতি ঝুঁকছেন। ইফতেখার হোসেন পাপ্পু হয়ে উঠেছেন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আয়ের মাধ্যম সৃষ্টির শিক্ষা গুরু।
বিডি আইটি জোনের প্রধান নির্বাহী পাপ্পু জানান, তিনি ছোটকাল থেকেই সেই দিনের স্বপ্ন দেখতেন, যেদিন ফেইসবুক শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়; বরং গ্রামীণ তরুণরা যেন এটাকে আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সময়ের ব্যবধানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করার উপায় যুক্ত করেছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এখন প্রয়োজন শুধু মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের স্থান দখলে আনা।
তিনি আরও বলেন, যারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে আপওয়ার্ক, বিল্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে পারেননি, তাদের উচিত ফেইসবুকে পর্যাপ্ত মার্কেটিং করা। আর তাতে করে ঘরে বসে মাসে ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। পাপ্পু তার বিডি আইটি জোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই দিয়ে যাচ্ছেন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন আইটি সেবা। স্বপ্ন দেখছেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।
ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডোমেইন-হোস্টিং সেবা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিং, মুঠো টিভি-রেডিওর ডিজাইন, মোবাইল অ্যাপস তৈরি, বাল্ক এসএমএস এবং আইপি ফোন সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে এসব সেবার পাশাপাশি তারা যে-কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট রি-ডিজাইন ও আইটি সল্যুশনের কাজ করে যাচ্ছেন। এতে সব খরচ বাদে ইফতেখার হোসেন পাপ্পু ও তার বিডি আইটি টিমের এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ মিলে মাসিক আয় করছেন ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা। এ ব্যবসার উন্নতি ও দেশব্যাপী বিস্তারের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা। তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী সরকারিভাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতারা। তারা বলেন, প্রশিক্ষণসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ দেশের লাখো শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী হতে পারে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব ঘুচবে, অন্যদিকে আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]