logo
প্রকাশ: ০৭:০৮:১০ PM, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮
আমি নির্বাচন করব না : অর্থমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তার অভিমত প্রকাশের একদিন পর এ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর নির্বাচন করব না। তবে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে পারি সেটাও নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত গ্রামীণ ব্যাংকের লভ্যাংশের চেক গ্রহণকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানিয়েছেন। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল সাহাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমি নির্বাচন না করলেও আমার ছোট ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আব্দুল মোমেন সিলেট থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে যদি দলের মনোনয়ন তাকে দেওয়া হয়।’

ড. কামাল হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব সম্প্রতি যুক্তফ্রন্ট নামে নতুন একটি মোর্চা গঠন করেছেন। তাদের অভিযোগ বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।

যুক্তফ্রন্টের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘তাদের দাবি যুক্তিযুক্ত নয়। ২০০৮ সালে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। তখন সবাই অংশগ্রহণ করেছিল। নির্বাচনের সিস্টেমসহ সবকিছু এখনও ভালো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একটি দল অংশ নেয়নি কিন্তু নির্বাচন হয়েছে। তারা তো কোনো মামলাও করেনি। অল আর বোগাস।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এটা আমার ধারণা যা গতকাল (বুধবার) আমি বলেছি। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের ওপর। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ও ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনী সরকারে থাকব কি না, জানি না। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন সরকার কবে হবে এবং মন্ত্রিসভার আকার কি হবে সেটাও প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। এই সরকারের বিষয়ে যে ঘোষণাটি আগে দিয়েছিলাম, সেটি ছিল আমার নিজস্ব মতামত।

গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সরকার কর্তৃক সরকার প্রদত্ত লভ্যাংশের পরিমাণ ৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালের লভ্যাংশের ছয় কোটি ২৪ লাখ টাকার চেক অর্থমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করে। বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রাপ্য লভ্যাংশ তাদেরকে আলাদাভাবে দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

লভ্যাংশের চেক গ্রহণকালে ড. ইউনূসের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনূস সাহেবকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণে আমেরিকার চোখে বাংলাদেশ এখনও কালো তালিকাভুক্ত। রাশিয়ার কাছেও তাই। গ্রামীণ ব্যাংকে ইউনূস সাহেবের সময় মানুষ টাকা নিয়ে মুরগির ব্যবসা, হাঁসের ব্যবসা ইত্যাদি করত। আর ইউনূস সাহেব সে টাকায় দেশে ২৩টি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজের পদ আকড়িয়ে রাখার জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে সরকারকে ক্রমাগত চাপের মুখে রেখেছিল। বিশেষ করে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এবং বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট তার পক্ষে ক্রমাগতভাবে কথা বলেছেন। ড. ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকে তার আধিপত্য রক্ষার জন্য কোর্টে মামলাও করেছেন। আমরা তাকে একটি সন্মানজনক পদে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলাম তিনি সেটা না মেনে নানাভাবে প্রেসার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আমেরিকার চাপ থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। না হলে যখনই কোনো  সরকারি কাজে আমেরিকা গেছি তখনই কোনো না কোনোভাবে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]