logo
প্রকাশ: ০১:০০:৪৭ AM, সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮
বাবা আদম মসজিদ
গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রাচীন নাম বিক্রমপুর। বিক্রমপুর ছিল বাংলার প্রাচীন রাজধানী। বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগে আরব থেকে অনেক সুফি দরবেশ ইসলাম প্রচারের জন্য বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) আগমন করেন। তাদেরই একজন হলেন বাবা আদম শহীদ (রহ.)। 
বাবা আদম শহীদ (রহ.) ১১৪২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আসেন। সেখান থেকে ১১৫২ খ্রিষ্টাব্দে মুন্সীগঞ্জ সদরের প্রাচীন রামপাল নগরে আসেন। মুন্সীগঞ্জ এলাকার কপাল দুয়ার, মানিকেশ্বর ও ধীপুরে তিনটি খানকাহ নির্মাণ করে ইসলাম প্রচার করেন। এ তিনটি খানকায় যথাক্রমে সৈয়দ জোবায়ের (রহ.), শহীদ মুয়াবিয়ান আল বসরী (রহ.) ও শেখ মখদুম আল মুয়াসসিস (রহ.) দায়িত্বে থাকেন। দরগাহ বাড়িতে বাবা আদম শহীদ (রহ.) ১১৭৩ খ্রিষ্টাব্দে খানকাহ নির্মাণ করেণ। অর্থাৎ রাজা বল্লাল সেনের বাড়ির চারপাশেই বাবা আদমের খানকাহ নির্মিত হয়। মুসলমান সুফি ধর্মীয় তৎপরতায় বল্লাল সেন রুষ্ট হন। মুন্সীগঞ্জে দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রাজা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং যুদ্ধ বাঁধে। এদিকে ১১৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকীতে আবদুল্লাহপুরে গরু জবাই করা হয়। এতে রাজা বল্লাল সেন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওইখানকার দায়িত্বে থাকা মুয়াবিয়ান আল বসরীকে অন্ধ কূপে নিক্ষেপ করে শহীদ করেন। এতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে থাকা সুফিরা রাজা বল্লাল সেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। 
১১৭৮ সালের ১০-২০ সেপ্টেম্বর এই দশ দিন প্রচ- যুদ্ধ হয়। বল্লাল সেনের সঙ্গে ধর্মযুদ্ধে বাবা আদম শহীদ হন। রিকাবী বাজার দিঘিরপাড় সড়কের দরগাবাড়ি নামক স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। বাবা আদম (রহ.) শহীদ হওয়ার ৩০০ বছর পর তার স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন আবু জাফর শাহের ছেলে বিক্রমপুরের শাসক মহান মালিক কাফুরশাহ ছয়গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তার মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে ১৪৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান ফাতশাহের শাসনামলে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে ৪৩ ফুট ও পূর্ব পশ্চিমে ৩৬ ফুট। মসজিদে ৩টি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট। মসজিদটির দেয়াল ৮ ফুট চওড়া। চার কোণে চারটি অষ্টাকোনাকৃতির টারেট রয়েছে। টারেটগুলোতে চমৎকার কারুকাজ করা আছে। টারেটগুলো ছাদ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। ছাদ বাংদেশের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে  উত্তর দক্ষিণে ঈষৎ ঢাল রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজাও রয়েছে। মসজিদটি নির্মাণের সময় লাল পোড়া মাটির ১০ ইঞ্চি, ৭ ইঞ্চি, ৬ ইঞ্চি ও ৫ ইঞ্চি মাপের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে দুটি স্তম্ভ রয়েছে। 
মসজিদে প্রবেশের মূল দরজার ঠিক উপরে আরবি ভাষায় একটি শিলালিপি রয়েছে। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়Ñ ‘আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই সব মসজিদ একমাত্র আল্লাহরই। অতএব, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করো না।’ মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়ায় যিনি একটি সমজিদ নির্মাণ করেন, আল্লাহ তায়ালা বেহেশতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’ 
সুলতান আবদুল মুজাফফর ফতেহ শাহের আমলে মহান রাজা মালিক কাফুর ৮৮৮ হিজরির রজব মাসের মাঝামাঝি তারিখে এ জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি শুধু মুন্সীগঞ্জেরই নয়; সমগ্র ভারত বর্ষের মধ্যে একটি দর্শনীয় স্থান। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ মসজিদের ছবি সংবলিত ডাকটিকেট প্রকাশ করে। বাবা আদম মসজিদটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  

তথ্যসূত্র : তাওয়ারিখে ঢাকা- মুনশী রহমান আলী তায়েশ।
মসজিদের ইতিহাস- 
ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]