logo
প্রকাশ: ০৩:৫৫:৫০ PM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
নির্বাচনে অংশগ্রহণ: নানা শর্তে অনড় বিএনপি
রকীবুল হক

সময় এগিয়ে এলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে নানা শর্ত ও দাবিতে অনড় রয়েছে বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে দলটি। সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি নাকচ করে দেওয়া হলেও পিছু হটছে না তারা। বরং জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

তফসিল ঘোষণার পরই স্বল্পমেয়াদি চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে দলটির নিজস্ব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কারাগারে আদালত বসানোর প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সারা দেশে প্রতীকী অনশন করবে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। তবে এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার নিশ্চয়তা চায় দলটি। এজন্য তফসিলের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ; সহায়ক বা যে নামেই হোক, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন; নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন চায় বিএনপি জোট। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। এসব দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপের কথাও বলেছে দলটি। দাবি আদায় না করে তথা সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে তাতে অংশগ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত হবে না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

তবে এসব দাবির ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নেতিবাচক অবস্থানের কারণে আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি। ২০ দলীয় জোটগত অথবা প্রক্রিয়াধীন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এ আন্দোলন হতে পারে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনের কৌশল নিয়ে এরই মধ্যে দল, জোট এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং স্থায়ী কমিটির নেতাদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আতাউর রহমান ঢালী বলেন, বড় দল হিসেবে বিএনপি সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। আলাদা করে প্রস্তুতির দরকার হয় না। তবে এখন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি হচ্ছে— খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন। আমরা এ দাবিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে গোটা জাতির দাবিতে পরিণত করছি। এসব দাবি আদায়ে আমরা ধাপে ধাপে আন্দোলনে যাব। সেটা এককভাবে বা ঐক্যবদ্ধভাবে হতে পারে। দাবি আদায় করেই আমরা আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় দোষী বানিয়ে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রেখে তাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর তীব্র জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আবারও একটি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায় বর্তমান ভোটারবিহীন গণধিকৃত সরকার। কিন্তু জনগণের মিলিত ঐক্যে সেই স্বপ্ন আর কখনোই পূরণ করতে পারবে না সরকার। এর আগেরদিন দলীয় এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে এদেশে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলেই বোঝা যাবে, এ সরকার দেশে নির্বাচন চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সর্বশেষ মনোভাব দেখে অক্টোবরের শুরুতে বা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এজন্য দলকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী সব দলকে নিয়ে প্রক্রিয়াধীন জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজে ব্যস্ত বিএনপি। আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকেও জাতীয় ঐক্য গঠন করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন বিএনপি নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিময় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রক্রিয়া চলছে, আমরা বিশ্বাস করি, এটাতে আমরা সফল হব।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অতিদ্রুত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গোটা জাতি এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করবে।

নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চাই। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যায় না। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। এ দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন করতেই হবে। এ দাবিতে সব বিরোধী দল এক প্ল্যাটফরমে আসবে বলেও তিনি আশা করেন।

এ বিষয়ে বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে যেতেই হবে। এজন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে দলটি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দাবি আদায়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিয়ে যতটুকু সম্ভব দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

আজ প্রতীকী অনশন : কারাগারে আদালত বসানোর প্রতিবাদ এবং খালেদার মুক্তি দাবিতে আজ সারা দেশে প্রতীকী অনশন করবে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে এ অনশন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক পাওয়া গেছে বলে দলটি জানিয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে মহানগর ও জেলা সদরে এ অনশন পালিত হবে বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]