logo
প্রকাশ: ০৪:৩২:২৩ PM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
তিস্তা বাঁধে আশ্রিতদের সরে যাওয়ার নোটিশে চোখে-মুখে হতাশা
আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর

তিস্তা বাঁধ রক্ষায় আশ্রিত ছিন্নমূলদের সরে যেতে হবে। তিস্তার বাঁধ রক্ষায় আশ্রিতদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে আশ্রিতদের চোখে-মুখে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে তিস্তা নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে '৮৮-এর বন্যায় তিস্তা নদী রক্ষা বাঁধ ব্যাপকভাবে ভেঙে যায়। '৮৯ সালে বাঁধ সংস্কার করা হয়। পরে আবারও বন্যায় বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়।
 
এদিকে তিস্তা নদীর ভা‌ঙনে বাঁধে আশ্রিতদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। তিস্তা নদীর তীরবর্তী কাউনিয়া থেকে জলঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটারে বাঁধে কয়েক হাজার নদীভাঙা লোকজন আশ্রয় নেন। সহস্রাধিক বাড়ি-ঘরও তৈরি হয়। 

গঙ্গচড়ার বকুলতলা এলাকায় বাঁধে আশ্রিত তবারক, তমা, মিনারা আর্তনাদ করে বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে এ বাঁধে ৬ সন্তান, নাতি-পুতি নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের কারও কারও স্বামী মারা গেছে। এখন তাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে। এটি শুধু মিনারা-তমার কথা নয়, বাঁধে আশ্রিত বুলবুলি, হাজেরা, সুফিয়া, গোলসেনা, আয়না, নুরী, আনোয়ারা, রোকেয়া, লতিফ, সাদেকুল, এরশাদ, বিপুলসহ শত শত নারী-পুরুষের আর্তনাদ, আমাদের পুনর্বাসন চাই। 

ওদিকে বাঁধ থেকে তাদের ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়ায় আশ্রিতদের চোখে-মুখে এখন হতাশার ছাপ। এলাকাবাসীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, ভাসমান, ছিন্নমূল মানুষদের  পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলেও এ এলাকার তিস্তা বাঁধে আশ্রিতদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

পাউবো সূত্র জানায়, বাঁধ থেকে আশ্রিত ঘর-বাড়ি মানুষজন না সরালে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি মাথায় রেখেই তাদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। 

বুধবার কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার ৯নং বকুলতলা, উত্তর ঠাকুরদাস বাজার এলাকা গিয়ে একদিকে বাঁধের সমস্যা, অপরদিকে বাঁধে আশ্রিত মানুষদের সমস্যা দেখা দেয়। এলাকার ইজারাদার মিন্টু মিয়া, চায়ের দোকানদার এরশাদুল ইসলাম  জানান, তিস্তা নদীর তীরবর্তী হারাগাছ থেকে মীরবাগ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটারে সহস্রাধিক বাড়ি-ঘর রয়েছে। বাঁধে আশ্রিত মানুষজন ৪ থেকে ৫ যুগ ধরে ঘর-বাড়ি করে বসবাস করছে। তাদের মৌলিক চাহিদা শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন নেই বলেই চলে। পুনর্বাসন না করে তাদের সরে যেতে বলা যেমন অমানবিক, পাশাপাশি তারা বাঁধে আশ্রয় গ্রহণ করায় যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে এ অঞ্চলের শতাধিক গ্রামসহ রংপুর অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

এলাকার কাউন্সিলর মাহবুব রহমান  বলেন, বাঁধে আশ্রিতদের পুনর্বাসনের জন্য মেয়রকে জানানো হয়েছে। হারাগাছ পৌরসভার মেয়র আব্দুল হাকিবুর মাস্টার বলেন, বাঁধে আশ্রিত মানুষদের সরে যেতে হবে। আশ্রিতদের জন্য হারাগাছ পৌর এলাকার খাসজমিতে ঘর-বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন মাপা প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এএএম মুনীর চৌধুরী বলেন, তিস্তার বাঁধে আশ্রিত ছিন্নমূলদের অস্থায়ীভাবে হলেও পুনর্বাসন করতে হবে।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে বাঁধে আশ্রিতদের সরিয়ে নেয়ার জন্য দফায় দফায় পত্র দেয়া হয়েছে। তারা বাঁধ ছেড়ে যায় নেই। বহুদিন চেষ্টার পরে বর্তমান সরকার তিস্তা বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে তিস্তা নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কারের টেন্ডার করা হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসের দিকে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হবে। বাঁধ প্রশস্ত করা হবে। তাই ওই এলাকার বাঁধে আশ্রিত জনগণকে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিতেই হবে।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাঁধে আশ্রিতদের ব্যাপারে তদন্ত করে পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]