logo
প্রকাশ: ১২:৪০:৫১ AM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
মেঘ নেমেছে কাশবনে
আবু নাঈম ফয়জুল্লাহ

মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে দেখি এই রোবট যুগেও শরৎ আসে। ঝলমলে সুন্দররা বেড়াতে আসে। আসে এই শহরের মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য। জলবায়ুর বিনাশী প্রভাব থেকে বের করে একটুখানি স্নিগ্ধতার পরশ বোলানোর জন্য

এ দেশের বৃষ্টিধোয়া আকাশে শরৎ আসে সাদা মেঘের পাল উড়িয়ে। প্রকৃতিতে সুন্দরের লাবণ্য ছড়িয়ে। উজ্জ্বলতার রং জড়িয়ে। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পথঘাট, আকাশ কালো করা ঘন মেঘ ও মনখারাপের যাবতীয় উপকরণকে দূরে ঠেলে। 

শরতের আকাশটা একটু বেশিই উদার হয়। সুন্দরের ঝাঁপি খুলে হাসি ছড়ায় পুুরো শরৎকাল। তার বিশাল বুকে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘেরা নীলিমা ভ্রমণে বের হয়। কখনও উটের সারির মতো, কখনও ছোট ছোট পাহাড়ের মতো, কখনও ঝাঁকবাঁধা সাদা পায়রার মতো, কখনওবা আঁচল উড়ানো গাঁয়ের বধূূর মতো ঘুুরে বেড়ায় পুুুরো আকাশে। 
শরতের ঝলমলে রোদেলা বিকেলগুলোয় মেঘের সে কী বাহারি রূপ! অসম্ভব মুগ্ধতায় ভরে তোলে আকাশের আঙিনা। যেন বিশাল নীল উঠোনে নকশিকাঁথার মেলা। কোনোটা সোনার ঝালর পরা, ধূূূসর রঙের। কোনোটা রুপার নূপুর পরা কিশোরীর মতো চপল। কোনোটা আবার দুধে আলতা রমণীর মতো অসম্ভব আকর্ষণের আকর। আকাশজুুড়ে বাহারি রঙের, নানা রূপের ও বিভিন্ন আকারের মেঘ। কোথাও মেঘেরা পাহাড়ের মতো স্থির। কোথাও দখিনা বাতাসের মতো গতিশীল। কোথাও ঢেউ তোলা ধানক্ষেতের মতো মসৃণ। কোথাও আবার মনে হয় এ বুঝি মেঘগুলো সাদা সাদা ডানা মেলে উড়াল দেয়। শরতের রহস্যময় অসীম নীলিমা এবং সেখানে ঘুুুরে বেড়ানো এসব মেঘপুঞ্জ মহান স্রষ্টার ঘোষিত অমোঘ সত্যকেই স্মরণ করিয়ে দেয়Ñ ‘নিশ্চয়ই আকাশের সৃষ্টি, ...বাতাসের প্রবাহ এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে ঝুলন্ত মেঘরাজির মধ্যে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা বাকারা : ১৬৪)। 
শরতে নদীর তীরে শুভ্রতার আড্ডা জমে। মেঘেরা বেড়াতে আসে কাশবনে। কাশফুল হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চায় মেঘের আঁচল। নদী কলকলিয়ে হেসে ওঠে। দখিনা বাতাস এসে শরতের আস্তিনে নাড়া দেয়। ঢেউ ওঠে শুভ্রতার সামিয়ানায়। হেলেদুলে কাশফুল হাসে। সবুজ ঘাসেরা লজ্জায় মুখ লুকায়। শিউলির ঘ্রাণে মুখর হয় জেলেপাড়ার মাঠঘাট। 
শরতের গ্রাম সাজে গ্রাম্য বধূর মতোই বাহারি সাজে। গায়ে সাদা পাড়ের নীল শাড়ি। নাকে শিউলি ফুলের দুুল। কানে সোনালি আবিরমাখা গয়না। চুলের খোঁপায় পদ্মফুলের হাসি। বিলজুড়ে শাপলার জড়াজড়ি। দিগন্ত প্রসারী মাঠজুড়ে ঢেউতোলা সবুজের মায়াবী কোলাহল। দখিনা হাওয়ার নাচানাচি। মেঠোপথের বাঁকে বাঁকে সাদা সাদা ঘাসফুলের গড়াগড়ি। ঝিরঝিরে বাতাস। স্নিগ্ধ রূপালি ভোরে শিউলির মাতাল করা সুবাস। ঝলমলে সোনালি বিকেলে স্বর্র্ণের ঝালর পরা আকাশ। 
ইট-পাথরের শহরেও শরতের রূপ উপচে পড়ে। মহাসড়কের পাশেও কৃষ্ণচূড়ার হাসি দেখা যায়। জ্যামে পড়া লেগুনার জানালায়ও চুপি চুপি ঢুকে পড়ে দখিনা হাওয়া। রংপড়া পুরানো দালানগুলোও শরৎগোধূূলীর সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে। সুুখের পায়রারা বিদ্যুতের তারে এসে বসে। ফ্ল্যাটের জানালায় এলোমেলো সুন্দরেরা টিপ্পনী কেটে যায়। পেঁজা তুলার মতো মেঘরা শুভ্রতার ফেরি করে বেড়ায় নগরের আকাশজুড়ে। শরতের রূপ দেখে মন ভরে না। যতই দেখি শরৎ তার রূপের ঝাঁপি ততই উপুড় করতে থাকে। তখন শুধু কোরআনের এ আয়াতটির কথা মনে পড়েÑ ‘অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাতে থাক, তোমার দৃষ্টিশক্তি (শেষে) ক্লান্ত ও পেরেশান হয়ে তোমার দিকেই ফিরে আসবে।’ (সূরা মুলক : ৪)।
আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে দেখি এই রোবট যুগেও শরৎ আসে। ঝলমলে সুন্দররা বেড়াতে আসে। আসে এই শহরের মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য। জলবায়ুর বিনাশী প্রভাব থেকে বের করে একটুখানি স্নিগ্ধতার পরশ বোলানোর জন্য। আর এ হিংস্র সভ্যতার থাবা এড়িয়ে পৃথিবীটা আরও অনেক দিন বেঁচে থাকাবেÑ এ পয়গাম শোনানোর জন্য। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]