logo
প্রকাশ: ১২:৩৮:৫৩ AM, সোমবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৯
ইখলাস ছাড়া আমল ফুটো থলিতে মাছ রাখার মতো
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব আমলের মধ্যে শুধু সে আমলটুকুই কবুল করেন, যা ইখলাসের সঙ্গে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়।’ (নাসাঈ : ৩১৪২)। আল্লাহ হলেন অন্তরযামী। আপনার, আমার মনের খবর মানুষ জানে না, আল্লাহ সব জানেন। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক আকার-আকৃতি এবং ধন-সম্পত্তির দিকে দৃষ্টিপাত করেন না, বরং তিনি দৃষ্টিপাত করেন শুধু তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে।’ (মুসলিম : ৬৫৪৩) 

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দোয়া-দরুদÑ যে আমলই আমরা করি না কেন, তা যত ছোট আমলই হোক না কেন, সব আমলের নেপথ্যে ইখলাস থাকতে হবে। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য থাকতে হবে। আল্লাহকে খুশি করার নিয়ত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে সে  আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
ইখলাসহীন আমল হলো ফুটো থলিতে মাছ রাখার মতো। এ ধরনের অসংখ্য আমল নিয়ে বান্দা আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। অথচ তার  কোনো আমলই রব্বে করিম গ্রহণ করবেন না। কারণ সব আমলই ছিল লোক দেখানো, মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য। তাই মানবজীবনে ইখলাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইখলাস কী ধরনের হতে হবে এবং তার মাত্রা কতখানি হওয়া চাই তা মসনবিতে বর্ণিত একটি কাহিনীতে জানা যায়। 
হজরত আলী (রা.) যুদ্ধে একবার একজন কাফেরের  সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। অনেকক্ষণ পর তিনি সেই কাফেরকে কাবু করে ফেলেন। ধরাশায়ী করার পর তিনি তার বুকের ওপর বসে পড়লেন এবং তার শিরñেদের ইচ্ছা করলেন। এমন সময় কাফের লোকটি হজরত আলীর (রা.) মুখম-লে থুতু মারল। হজরত আলী (রা.) তাকে হত্যা না করে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিলেন। লোকটি হতবাক হয়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করল এ পর্যন্ত আপনি আমার সঙ্গে যুদ্ধরত ছিলেন। অবশেষে আমাকে পরাজিত করার পর হত্যা না করে ছেড়ে দিলেন কেন? হজরত আলী (রা.) বললেন, এতক্ষণ তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কিন্তু যখনই তুমি আমার মুখে থুতু দিয়েছ তখন তোমার প্রতি আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ এসে গেছে। এমতাবস্থায় যদি আমি তোমাকে হত্যা করি তবে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতো না। আমার ব্যক্তিগত ক্রোধের আক্রোশে তোমার মৃত্যু হতো, যা আমি চাইনি। 
যতটা সম্ভব লোকচক্ষুর অন্তরালে আমল করা উত্তম। তাহলে লোক দেখানোর ভাব আসার সম্ভাবনা কম থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই শয়তান মানুষকে দুনিয়ার সম্মান অর্জনের পথে উসকে দেয়। আমি ও আমার আমিত্ব, আমার কর্ম, আমার আমল বলতে উৎসাহিত করে। নিজেকে জাহিরের এ প্রচেষ্টা ধ্বংস ডেকে আনে। মনের গহিনে অহংকার এনে দিতে পারে। 
হজরত মুসা (আ.) নিজেকে সবচেয়ে জ্ঞানী ভেবেছিলেন। আল্লাহ তাকে খিজির (আ.) এর কাছে পাঠান। এমন কিছু জ্ঞান খিজির (আ.) এর ছিলÑ যা মুসা (আ.) জানতেন না। আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ) কে বুঝালেন, তোমার চেয়েও বড় জ্ঞানী আছে। অতএব নিজেকে বড় মনে করার কোনো কারণ নেই। 
ইখলাস ছাড়া আমল আল্লাহর দরবারে কবুলই হয় না। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব আমলের মধ্যে শুধু সে আমলটুকুই কবুল করেন, যা ইখলাসের সঙ্গে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়।’ (নাসাঈ : ৩১৪২)। 
আল্লাহ হলেন অন্তরযামী। আপনার, আমার মনের খবর মানুষ জানে না, আল্লাহ সব জানেন। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক আকার-আকৃতি এবং ধন-সম্পত্তির দিকে দৃষ্টিপাত করেন না, বরং তিনি দৃষ্টিপাত করেন শুধু তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে।’ (মুসলিম : ৬৫৪৩)। এর অর্থ হলো, সৃষ্টিকর্তাকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো পথ মানুষের নেই। বরং তার গোলামি ও দাসত্বের মধ্যেই বান্দার মুক্তি। ইহকাল-পরকালের শান্তি ও সমৃদ্ধি। তাই আমল করার পাশাপশি তাতে যেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য থাকে, সে বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক, সচেতন থাকা অবশ্য কর্তব্য।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]