logo
প্রকাশ: ০৭:৪৭:৫৪ PM, শনিবার, মে ২৫, ২০১৯
কৃষকদের নিয়ে কাদেরের মন্তব্যে ফখরুলের নিন্দা
অনলাইন ডেস্ক

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কৃষকদের নিয়ে করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের ন্যায্য দাবির কথা কানেও নিচ্ছে না। বরং সরকারের একজন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কৃষকদের এই বিক্ষোভকে ‘স্যাবোটেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কৃষকদের বাস্তব এই সেন্টিমেন্টকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতার এহেন মন্তব্যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এদেশের কৃষকদের বর্তমানে যে দুরাবস্থা তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন।

কৃষক পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ এমন কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা।

কৃষকের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে খাদ্য শস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের কৃষককুল তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বহু স্থানে ধানের জমিতে আগুন দিয়ে রাস্তায় ধান ফেলে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যে বিশেষ করে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬২ লাখ টন। অথচ এই সময়ে সরকারি চ্যানেলে বা ব্যবস্থায় খাদ্য শস্য আমদানি হয়েছে ৯৭.৭ লাখ মে. টন, যার মধ্যে চাল ৩৮.৯ লাখ মে. টন এবং গম ৫৮.৮ লাখ মে. টন।

তিনি বলেন, একই সময়ে বেসরকারি চ্যানেলে খাদ্য আমদানির পরিমাণ ৮৩.৮ লাখ মে. টন; যার মধ্যে চাল ৩০.১ লাখ মে. টন এবং গম ৫৩.৭ লাখ মে. টন। অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারিভাবে মোট খাদ্যশস্যের আমদানি ছিল (২০১৭-১৮) ১৮১.৫ লাখ মে. টন, এর মধ্যে চাল আমদানির পরিমাণ ৬৯ লাখ মে. টন। (সূত্র-বাংলাদেশ ইকোনোমিক রিভিউ ২০১৭-১৮)। গত ১০ মাসে ৩ লাখ ৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে ৯৭ হাজার টন চাল। (সূত্র-দৈনিক প্রথম আলো ১৭ মে ২০১৯ ও ২৩ মে ২০১৯)।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত বছরের উৎপাদনকে হিসেবে নিলে বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ২ কোটি মে. টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬.৫ শতাংশ। আমাদের দাবি ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করা হোক। এতে বেশি পরিমাণ কৃষককে সহায়তা দেয়া যাবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপিঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এই খেলাপিঋণ গ্রহীতাদের জন্য সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে। যদিও এই ছাড় মহামান্য হাইকোর্ট আটকে দিয়েছে। সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছেন। অথচ এই খেলাপিঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মে. টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা উপকৃত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]