logo
প্রকাশ: ১১:৩৬:৫১ AM, সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯
অপূর্বর ছোট ভাইয়ের আত্মহত্যার পিছনে যে কারণ
অনলাইন ডেস্ক

‘গতকাল রাতে দীপু ফেসবুক লাইভে এসেছিল। কিছুই বলেনি। ক্যামেরার সামনে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। এরপর ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। মনে হচ্ছে, এরপরই ঘটনাটা ঘটেছে।’এ কথা বললেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় নায়ক জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তাঁর ছোট ভাই জাহেদুল ফারুক দীপু (৩৫) আত্মহত্যা করেছেন। 

গত বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দীপুর লাশ উদ্ধার করেছে আদাবর থানার পুলিশ।এই ভাড়া বাসায় স্ত্রী ডলি আর সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে অংশকে নিয়ে থাকতেন দীপু। তিনি আইটি প্রতিষ্ঠান টমেটো ওয়েবে চাকরি করতেন; পাশাপাশি গান গাইতেন, নাটক ও টেলিছবির আবহ সংগীত করতেন।

শেখেরটেকের ওই বাসায় নিজের একটি স্টুডিও ছিল দীপুর। সেখানেই তিনি গানের চর্চা এবং নাটক ও টেলিছবির আবহ সংগীতের কাজও করতেন।সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান মসজিদে দীপুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেই কবরস্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়।ভাইকে দাফন করে এসে অপূর্ব বলেন, ‘দীপুর সঙ্গে এবার রমজান মাসে একবার দেখা হয়েছিল। আমার বাসায় একসঙ্গে ইফতার করেছিলাম। ঈদের দিন কিংবা ঈদের পরে ও আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। শুনেছি, গতকাল রাতে ও অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। এরপর নিজের স্টুডিওতে গিয়ে ঢোকে।’

অপূর্ব বলেন, ‘দীপু সাত বছর আগে বিয়ে করেছে। তখন থেকেই ও আলাদা থাকছে। ওর স্ত্রী এখন সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।আত্মহত্যার আগে দীপু একটি চিরকুট লিখে গেছে। তাতে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। অংশ, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।” দীপুর মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য বিরাট ধাক্কা।’তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান জানান, দীপুর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকক্ষণ দীপুর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ ওই স্টুডিওর দরজা ভেঙে স্ত্রী তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশ গিয়ে ভোরে দীপুর লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দীপুর মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। দীপুর বাবা ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, দীপু স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকত। অনেক দিন থেকেই সে হতাশায় ভুগছিল। জীবনে আশানুরূপ উন্নতি না করার কারণে তার মধ্যে এই হতাশা তৈরি হয়। ছেলের এই মানসিক সমস্যার কথা বাবা জানতেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]