logo
প্রকাশ: ১২:৪৪:৪১ AM, রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
ইহরাম অবস্থায় যা কিছু নিষিদ্ধ
জুবায়ের রশীদ

হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তি হজের নিয়তে ইহরামের পোশাক পরিধান করার সঙ্গে তার উপর নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়, যা আগে বৈধ ছিল। যার কোনোটি করলে হজ বাতিল হয়ে যায়, আবার কোনোটি করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। সেগুলো হলোÑ এক. বিয়ে করা, করানো বা বিয়ের প্রস্তাব কোনোটিই করা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেন, ইহরাম অবস্থায় কেউ বিয়ে করবে না, বিয়ে দিবে না এবং বিয়ের প্রস্তাবও দিবে না। (মুসলিম : ১৪০৯)। যদি কেউ এমনটি করে তাহলে সে গোনাহগার হবে এবং ওই বিবাহ বাতিল বলে বিবেচিত হবে। তবে এর জন্য কোনো ফিদিয়া বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। দুই. সহবাস বা সহবাসে উদ্বুদ্ধ করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না। যদি কেউ হজ থেকে হালাল হওয়ার পূর্বে এ জাতীয় কাজ করে তাহলে তার হজ বাতিল হয়ে যাবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি উট জবাই দিবে। পুনরায় হজটি আগামী বছর কাজা করবে। তিন. পুরুষের জন্য জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ি ও মোজা পরিধান না করা। দলিল হচ্ছেÑ নবী (সা.) কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছে মুহরিম কী পরিধান করবে; তখন তিনি বলেন, ‘মুহরিম ব্যক্তি জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে যে ব্যক্তির পরার মত লুঙ্গি নেই নবী (সা.) তাকে পায়জামা পরার অনুমতি দিয়েছেন এবং যার জুতা নেই তাকে মোজা পরার অনুমতি দিয়েছেন।’ পাশাপাশি মহিলারা নিকাব, স্কার্ফ বা হাতমোজা পরবে না। হাদিসে এসেছে, ইহরাম অবস্থায় কোনো মহিলা নিকাব পরবে না এবং হাতমোজাও লাগাবে না। (বোখারি : ১৭১৪)। চার. মাথার চুল কামানো বা উপড়ানো। মহান আল্লাহ বলেন, আর যতক্ষণ হদি তার স্থানে না পৌঁছবে ততক্ষণ তোমরা তোমাদের মাথা মু-িত করো না।’ (সূরা বাকারা : ১৯৫)। আলেমরা মাথার চুলের সঙ্গে শরীরের অন্যান্য পশম ও নখকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পাঁচ. গায়ে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো। ইহরাম অবস্থায় সব ধরনের সুগন্ধি, সেন্ট, আতর, পারফিউম থেকে বিরত থাকা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা এমন কাপড় পরিধান করো না যাতে জাফরান ও ওয়ারস (সুগন্ধি বিশেষ) মাখানো রয়েছে।’ (বোখারি : ১৩৪)। এগুলোর কোনোটি করলে ক্ষতিপূরণ বাবদ তিনটি রোজা অথবা একটি ছাগল বা দুম্বা, কিংবা ছয়জন মিসকিনকে তিন সা পরিমাণ খাবার দেওয়া। এক সা পরিমাণ কমপক্ষে ২০৪০ গ্রাম। ছয়. শিকার না করা। হজের যাবতীয় কাজ থেকে মুক্ত হওয়ার আগে জলে বা স্থলে কোনোকিছু শিকার করা নিষেধ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ। তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার করো না।’ (সূরা মায়েদা : ৯৫) পুরুষ ও মহিলা সবাইকে শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি শিকার করে তাহলে শিকারকৃত প্রাণীর অনুপাতে ক্ষতিপূরণ দিবে। তবে উল্লেখ্য, যদি কেউ ভুলে, কিংবা অজ্ঞতাবশত এ নিষিদ্ধ কাজগুলোর কোনোটি করে ফেলে তাহলে তার উপর কোনো দায় বা ক্ষতিপূরণ নেই। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘কোনো বিষয়ে তোমাদের বিচু্যুতি ঘটে গেলে তাতে কোনো গুনাহ নেই, তবে আন্তরিক ইচ্ছাসহ হলে ভিন্ন কথা।’ (সূরা আহজাব : ৫)। তেমনিভাবে কাউকে যদি জবরদস্তি করে এর কোনোটি করতে বাধ্য করা হয় তাহলে তার উপরও কোনো দায় বা ক্ষতিপূরণ বর্তাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে, তবে যাকে কুফরি করতে জবরদস্তি করা হয়েছে, অথচ তার অন্তর ঈমানে ভরপুর সে নয়Ñ কিন্তু যে ব্যক্তি কুফুরির জন্য হৃদয়ের দুয়ার খুলে দিয়েছে; তাদের উপর আল্লাহর গজব, তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি।’ (সূরা নাহল : ১০৬)। কাউকে জবরদস্তি করে কুফুরি করালে যদি এ বিধান হয় তাহলে কুফুরির চেয়ে নিম্ন কাজ করলে তো অবশ্যই এ বিধান প্রযোজ্য হবে। মহান আল্লাহ আমাদের হজ আদায়ে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। হজে মাবরুর নসিব করুন; যার বিনিময় একমাত্র জান্নাত।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]