logo
প্রকাশ: ০৭:৩৫:২০ PM, রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
এইচএসসি পরীক্ষায় ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর চমক
কাজী বাবলা, পাবনা

চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় চমক দেখিয়েছে পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্র। তারা অসাধ্যকে সাধন করেছে। প্রমাণ করেছে সমাজের বোঝা নয় তারা। 

শ্রুতি লেখকের সহায়তা নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে অন্ধ হারুনার রশীদ। এছাড়া অন্য ১০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জিপিএ-৪ এর উপরে পেয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যে সবাই ভীষণ খুশি।

পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় চলতি বছল ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্রুতি লেখককের সহায়তায় পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ কেন্দ্র এবং শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়।

যারা ভাল ফলাফল করেছে তারা হলেন, পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার মোক্তার সরকারের পুত্র মোঃ হারুনার রশিদ জিপিএ ৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তরিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মতিন তুষার ৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট, গাজীপুর জেলার গোলজার হোসেনের ছেলে মোঃ মাহমুদুল হাসান শাওন ৪ দশমিক ২৫, নওগাঁ জেলার টিপু সুলতানের ছেলে মোঃ মাহবুব জামান ৪ দশমিক ২৫, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম ৪ দশমিক ৫০, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তৈয়মুর রহমানের ছেলে আব্দুর সবুর ৪ দশমিক ৫০, একই জেলার গোলাম মোস্তফার ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম ৪ দশমিক ২৫, কিশোরগঞ্জ জেলার বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাদিম হোসেন ৪ দশমিক ২৫, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রামের শ্যামল চন্দ্র সুতারের ছেলে ভোলানাথ সুতার ৪ দশমিক ১৭, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজলার সুশিল চন্দ্র ধরের ছেলে চন্দুন কুমার ধর ৪ দশমিক ১৫ এবং পাবনা সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে কাওসার হোসেন ৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। 

জিপিএ ৫ প্রাপ্ত মোঃ হারুনার রশিদ জানান, পরিবারের কাছে সে অবহেলিত ছিল। তার একমাত্র ইচ্ছা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে বড় চাকরি করে বাবা-মায়ের সেবা করা। সেই সঙ্গে পরিবার ও প্রতিবেশী অন্যদের সহায়তা করা।

হারুন আরো বলেন, শুধু অন্ধ হওয়ার কারণে সে পরিবারে বোঝা ছিল। পরিবার তাকে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু সে পরিবারকে ফেলবে না। অন্ধরা যাতে পরিবারের বোঝা না হয়ে সহায়ক হতে পারে সে ন্য তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ জরুরি। এটাই তার জীবনের একমাত্র যুদ্ধ। 

এই ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী (অন্ধ) চলতি বছর পাবনার সেবামূলক প্রতিষ্ঠান মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় এইচএসসি পরিক্ষা দিয়েছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর রয়েছে জীবনের নানা গল্প। তবে তারা সবাই সাহসী এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ব্যাপারে পরিশ্রমী এবং আশাবাদী। 

মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল হোসেন বলেন, এসব অন্ধ সবাই দরিদ্র ঘরের সন্তান। অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। অন্ধদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের, কিন্তু একেকজন শ্রুতি লেখককে সম্মানী দিতে হয় আট থেকে দশ হাজার টাকা। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতি লেখক সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়ার করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা  নেই।

শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা এবং বিভিন্ন বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে পদে পদে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তারপরেও থেমে থাকছে না এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষাজীবন। 

তিনি জানান, এই ১১ জন পরীক্ষর্থীর মত আরো ৮০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টে র আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছে। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পথশিশু প্রাথমিক শিক্ষা ও ২ জন এমএ পড়াসহ মোট ১৮৫ জন বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রফেসর আবুল হোসেন আরো বলেন, সংবাদপত্রে প্রচারের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই প্রতিষ্ঠানের কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবন্ধী ছাত্র ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের প্রতিবন্ধী ছাত্রদের আশ্রয় দিয়ে সম্পূর্ণ খরচমুক্তভাবে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করানো হচ্ছে। ছাত্রদের আবাসনজনিত সংকটের কারণে ৫ তলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন করা, ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং অসহায় প্রবীণদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা তার অন্যতম ইচ্ছা বলে আবুল হোসেন জানান। 

পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা বলেন, প্রফেসর আবুল হোসেন মানবকল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা প্রসারে যে ভূমিকা রাখছেন তা নজিরবিহীন। তার এসব কাজে  সরকারি-বেসরকারিভাবে সবার সহায়তা করা উচিত। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]