logo
প্রকাশ: ০৬:৩৪:২৫ PM, সোমবার, জুলাই ২৯, ২০১৯
আমি অনেক আশাবাদী মানুষ
ফাহাদ মোহাম্মদ

"Only dead fish goes with the flow."

স্রোতের বিপরীতে সাঁতার না কাটার সুপরামর্শ বেশিরভাগ সহকর্মী, অনেক আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু বান্ধব দিয়েছেন। খরস্রোতা নদীতে সাঁতার কাটতে কেমন কষ্ট হয় সেটা নদী মাত্রিক দেশের মানুষ হিসেবে আমরা সবাই কম বেশি জানি।

প্রথম দিকে বেশিরভাগ মানুষই স্রোতের বিপরীতে চলতে চেষ্টা করেন, কিন্তু স্রোতের তীব্রতা তাদের সমুদ্রে ফেলে দেয় যেখানে বড় রাঘব বোয়ালরা তাদের গিলে ফেলে। সেখান থেকে কেউ বেড় হয়ে আসতে পারে আবার কেউ আসতে পারে না। সেই রাঘব বোয়ালের নাম হলো লোভ। অনেকটা গুড়ের পাত্রে বসা মাছির মতো। এতো বেশি গুড় খায় যে গুড়ের পাত্রেই তার মৃত্যু হয়।

আবার কেউ কেউ স্রোতের ভয়ে সাঁতার কাটতে সাহস পান না। তারা ডাঙ্গায় উঠে বসে থাকেন কবে স্রোত থামবে। কিন্তু চির বহমান এই স্রোত কখনো থামেনা আর তারাও নদীতে নামতে পারেন না। অনন্তকাল ধরে তারা অপেক্ষায় অপেক্ষায় অবসরে চলে যান। তাদের নিয়ে সেই ডেড ফিশদের সমস্যা হয় না। কারণ তারা বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে শুধু নীতি নৈতিকতার গল্প বলেন। ডেড ফিশদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

ডেড ফিশদের সব থেকে বড় শত্রু স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা কিছু চেলাপাতা মাছ। এই মাছেরা সারাজীবন সাঁতার কেটে যায়। কোথাও বোয়াল, কোথাও শোল, এমনকি মাঝে মধ্যে ভেটকিমাছও গিলে খেতে চায় সুযোগ পেলে। কেন খেতে চায়? শুধু ডেড ফিশেরাই জানে। আর জানে সেই চেলাপাতা মাছ।

যারা স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দেয় তাদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। স্বকীয়তা বলে তাদের চরিত্রে কিছু নেই। সারাজীবন তারা লোভের সাগরে ঢুবে থাকে আর তেলবাজি করে জীবন কাটিয়ে দেয়। অন্যের পা চ্যাটে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।    

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এখন সেই ডেড ফিশদের ধরতে শুরু করেছে। কেউ একজন বলেছিল বাংলাদেশের নিজের টাকায় দশটা পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সম্ভব যদি রাঘববোয়ালদের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তার বড় প্রমাণ কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি সাহেব।

আমি অনেক আশাবাদী মানুষ। স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে যারা বাংলাদেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, দুদক তাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে আনবে। এবার সে পুটি মাছ হোক বা বোয়াল মাছ হোক। আর যারা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছে তারা সেই সময় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলবেন, সাঁতার কাটা শরীর স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো তেমনি সম্মানের জন্যেও ভালো।

লেখক- ফাহাদ মোহাম্মদ, ট্রাফিক সার্জেন্ট, বাংলাদেশ পুলিশ।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]