logo
প্রকাশ: ০৭:৩৯:৫০ PM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
রোহিঙ্গারা এখনো ব্যবহার করছে থ্রিজি-ফোরজি নেটওয়ার্ক
সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয়রা ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ভালোভাবে কথা বলতে না পারলেও রোহিঙ্গারা ঠিকই ব্যবহার করছে থ্রিজি-ফোরজি নেটওয়ার্ক। অথচ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 

সোমবার রাত ১০টার দিকে সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠায় বিটিআরসি। নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে থ্রিজি ও ফোরজি সেবা দুর্বল হলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এই সেবা চালু আছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

এ প্রসঙ্গে মধুছড়া ক্যাম্প-৩ এর দিল মোহাম্মদের ছেলে আবু জাফরের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রিপোর্ট লেখাকালীন (সন্ধ্যা ৬টায়) তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক ক্লিয়ার আছে। স্মার্ট ফোন না হওয়ায় ইন্টারনেট সেবার বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।

ক্যাম্প-৭ এর এ-ব্লকের ফয়সাল নামে রোহিঙ্গা যুবক বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা এখনো ঠিক আছে। তবে শুনেছি বন্ধ করে দিবে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বিটিআরসি বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফে থ্রিজি ও ফোরজি বন্ধ রাখে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই নির্দেশনা এখন ২৪ ঘণ্টার জন্য কার্যকর করা হলো।

এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ২জি নেটওয়ার্ক চালু থাকবে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে। সকালে আবার থ্রিজি ফোরজি চালু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর হয়নি, যেহেতু এর মধ্যে নতুন নির্দেশনা এসে গেছে। তাতে করে এখন ওই এলাকায় মোবাইল ফোনে কথা বলা গেলেও মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার কার্যত বন্ধ হলো।

রবি’র জেনারেল ম্যানেজার আশিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মেইলে তথ্য প্রেরণের কথা বললেও মেইল/ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে বিটিআরসি রোহিঙ্গারা যাতে মোবাইল ফোন সেবা না পেতে পারে সে বিষয়ে অপারেটরদের নির্দেশনা পাঠায়।

সম্প্রতি উখিয়ার কুতুপালং ১৭নং ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ক্যাম্প প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান। বৈঠকে ক্যাম্পভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ এবং সিমের ব্যাপারে ব্যবস্থার নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এরই মধ্যে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী, ৩০ জন সিম বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গাদের সিমকার্ড বিক্রি বন্ধ এবং নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও মো: নিকারুজ্জামান বলেন, তিনি সশরীরে ক্যাম্পে গিয়ে নেটওয়ার্ক না পেলেও পরবর্তীতে তার প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখনো উচ্চগতির নেটওয়ার্ক সচল আছে বলে তিনি জানান। তবে বিষয়টি তিনি আরও খতিয়ে দেখছেন বলেও জানিয়েছেন। 

ক্যাম্প-৫, ৮ এবং ডাব্লিউ-১৭ এর ইনচার্জ আবু সালেহ মো: ওবাইদুল্লাহ বলেন, তিনি ক্যাম্পে মোবাইল বা ইন্টারনেট তেমন ব্যবহার করেন না। তাই সে বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে বিটিআরসি’র নির্দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার বিষয়টি জেনেছি। রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন জব্দের কোন নির্দেশনা এখনো পাননি বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন-পুরাতন মিলে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৮-১০ লাখ সিমকার্ড রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের সমাবেশকে ঘিরে বিশাল নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]