logo
প্রকাশ: ০৭:৩৬:৪৮ AM, শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
অর্থসম্পদের ভালো-মন্দ
শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ

সম্পদে বিপদ ও পরীক্ষাও আছে, কোরআন যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ বলেন ‘সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে। এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।’ (সূরা আলাক : ৬-৭)। আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন ‘আর জেনে রাখ, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি অকল্যাণের সম্মুখীনকারী। বস্তুত আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা সওয়াব।’ (সূরা আনফাল : ২৮)। অন্যত্র বলেন ‘অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্য তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা তাগাবুন : ১৬-১৮)

এক অদ্ভুত জিনিস আল্লাহ যাকে নিজ প্রজ্ঞায় জীবনের মৌলিকতা, পূর্ণতা, সৌভাগ্য ও সম্মানের অবলম্বন বানাতে চেয়েছেন। এমন বস্তু যা দিয়ে মানুষ খায় ও পান করে এবং পরে ও বাস করে। যা দিয়ে সে প্রস্তুত করে নিজের খাবার ও পোশাক, নিজের বাসস্থান ও সামগ্রী। এমন জিনিস যার প্রয়োজন সুস্থতা অর্জনে ও শিক্ষা আহরণে, শক্তি সঞ্চয়ে ও আবাস নির্মাণে এবং নগর গঠনে ও ক্ষমতা অর্জনে। তা হলো মাল বা অর্থসম্পদ। 
আল্লাহর রীতি এভাবেই চলমান যে, সম্পদ জীবনের স্নায়ু ও জীবিতদের জীবিকা। আল্লাহ একে বানিয়েছেন মানবজীবনের অবলম্বন। তিনি এরশাদ করেছেন ‘আর যে সম্পদকে আল্লাহ তোমাদের জীবনযাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিও না।’ (সূরা নিসা : ৫)। কোনো কিছুর অবলম্বন তা-ই, যার ওপর বস্তু টিকে থাকে ও সুরক্ষিত হয়। সুতরাং সম্পদ জীবনের অবলম্বন। সরকারি ও বেসরকারি প্রয়োজন পূরণের পাথেয়। এসব কারণেই আল্লাহর শরিয়তে সম্পদ সংরক্ষণ অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং দ্বীনে ইসলামে মৌলিক পাঁচ চাহিদার একটি। 
আল্লাহর বাণীগ্রন্থ আল-কোরআনে মাল-সম্পদ শব্দটি আশির অধিক জায়গায় এসেছে। আল্লাহ মালকে খায়র বা মঙ্গল শব্দে ব্যক্ত করেছেন। যেমন এরশাদ হয়েছে ‘এবং সে নিশ্চিতই মঙ্গল তথা ধনসম্পদের ভালোবাসায় মত্ত।’ (সূরা আদিয়াত : ৪)। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, তারা কী ব্যয় করবে? বলে দাও যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়-আপনজনের জন্য, এতিম-অনাথদের জন্য, অসহায়দের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা যে কোনো মঙ্গল বা সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালোভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে।’ (সূরা বাকারা : ২১৫)। আল্লাহ মহান অন্যত্র বলেন ‘তোমাদের কারও যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু মঙ্গল তথা ধনসম্পদ ত্যাগ করে যায়; তবে তার জন্য অসিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ইনসাফের সঙ্গে পরহেজগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সবকিছু শোনেন ও জানেন।’ (সূরা বাকারা : ১৮০)। 
অর্থসম্পদের রয়েছে স্বতন্ত্র পবিত্রতা ও মর্যাদা। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে : ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তির মাল তার অনুমতি ব্যতিরেকে হালাল নয়। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য স্বজ্ঞানে মিথ্যা কসম করে, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে তাকে অসন্তুষ্ট করা অবস্থায়।’ (বোখারি ও মুসলিমে ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণনা)। আরও বর্ণিত হয়েছে ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়; সে শহীদ।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজিতে সাঈদ বিন জায়েদের বর্ণনা)। 
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর সম্পদের অনুগ্রহের কথা বলেছেন। নিজ দয়া ও কৃপায় সম্পদকে বানিয়েছেন নেকি অর্জন ও কল্যাণ হাসিলের উপায়। নুহ (আ.) এর ভাষায় তিনি বলেছেন ‘অতঃপর বলেছি : তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সূরা নুহ : ১০-১২)। আরও এরশাদ করেনÑ ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃৃতির পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সূরা তালাক : ২-৩)। আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বলেছেন ‘তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।’ (সূরা দোহা : ৮)।
একইভাবে নবী (সা.) আমর বিন আস (রা.) এর উদ্দেশে বলেছেন ‘কতই না উত্তম ভালো ব্যক্তির হাতে ভালো সম্পদ।’ (বর্ণনায় আহমাদ)। নবী (সা.) আরও বলেন ‘আবু বকরের সম্পদের মতো আর কোনো সম্পদ আমার এত উপকার করেনি।’ (বর্ণনায় আহমাদ ও ইবনে হিব্বান)। সহিহ হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে ‘ধনীরাই তো বেশি নেকির অধিকারী হয়ে গেল।’ (বোখারি ও মুসলিম)। ‘উঁচু হাত (দাতার হাত) নিচু হাত (গ্রহীতার হাত) থেকে উত্তম।’ (বোখারি ও মুসলিম)। 
আল্লাহর কিতাবের বৃহত্তম আয়াতটি নাজিল হয়েছে সম্পদ নিষ্পত্তি, নথিকরণ, নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ তথা সম্পদ-ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘হে মোমিনরা! যখন তোমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও...।’ (সূরা বাকারা : ২৮২)। 
অতএব উঁচু ও উচ্চতম প্রভুর মহান এ দান নিয়ে চিন্তা করুন : ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি। এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, যয়তুন, খর্জূর, ঘন উদ্যান, ফল এবং ঘাস। তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।’ (সূরা আবাসা : ২৪-৩২)। আরেক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেন ‘আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্বারা বাগান ও শস্য উদ্গত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়। লম্বমান খর্জূর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জূর। বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ।’ (সূরা কাফ : ৯-১১)। তেমনি পবিত্রতম প্রভু আল্লাহর দেওয়া রিজিক তালাশে বিচরণকারীদের কথা বলেছেন আল্লাহর পথের মুজাহিদদের সঙ্গে। এরশাদ হয়েছে ‘(তিনি জানেন তোমাদের) কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদে লিপ্ত হবে।’ (সূরা মুজ্জাম্মিল : ২০)। 
সম্পদ বান্দার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির নিদর্শন। একইসঙ্গে (কারও ক্ষেত্রে) সেটি আল্লাহর অসন্তুষ্টির আলামত। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন ‘আবু বকর, ওমর, ওসমান, জুবাইর ও আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) প্রমুখ সব সাহাবির মধ্যে বিশেষ মর্যাদাবান ছিলেন তাদের পর্যাপ্ত প্রাচুর্যের সুবাদে। ইসলামে তাদের অগ্রাধিকার ও অগ্রগণ্যতা আহলে সুফফার (দরিদ্রদের) চেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পদ বিনষ্ট করতে বারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নিজ ওয়ারিশদের ধনী হিসেবে রেখে যাওয়া দরিদ্র হিসেবে রেখে যাওয়ার চেয়ে শ্রেয়। আরও জানিয়েছেন বিত্তবান ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির তালাশে যা-ই ব্যয় করবে, বিনিময়ে তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে।’ 
অর্থ-বিত্তের এতসব মর্যাদা ও গুরুত্ব আছে বলেই বান্দাকে তার মাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে। বস্তুত সম্পদ মূল উদ্দেশ্য নয়। এ তো ব্যয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উপকার লাভ, রিজিক সন্ধান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের মাধ্যম মাত্র। আল্লাহ বলেন ‘যাতে ধনৈশ্বর্য শুধু তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।’ (সূরা হাশর : ৭)। সম্পদ তো আল্লাহরই : ‘আল্লাহ তোমাদের যে অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদের দান কর।’ (সূরা নুর : ৩৩)। সম্পদে মানুষের স্বত্ব আসলে আমানতের স্বত্ব : ‘তিনি তোমাদের যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর।’ (সূরা হাদিদ : ৭)। 
যে কেউ বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে, আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন। সম্পদ উপেক্ষাযোগ্য নয়, বরং এতে রয়েছে কল্যাণের বহু দিক। নবী (সা.) বলেন ‘দুনিয়া চার ব্যক্তির জন্য, (তাদের মধ্যে একজন ওই ব্যক্তি) যে বান্দাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান উভয়টি দান করেছেন। সে সম্পদে নিজের রবকে ভয় করে। এ দিয়ে নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। এতে সে আল্লাহর হক আছে জ্ঞান করে। এটি (সম্পদশালীর) শ্রেষ্ঠতম স্তর।’ (বর্ণনায় আহমাদ ও তিরমিজি)।  
আল্লাহ সম্পদকে বানিয়েছেন শরীর সুরক্ষার উপকরণ। শরীর সুরক্ষাকে বানিয়েছেন আত্মা সুরক্ষার উপকরণ। আর আত্মা হলো আল্লাহর মারেফাত বা পরিচয় লাভ, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর রাসুলের সত্যায়ন ও ভালোবাসা এবং তাঁর আনুগত্যের আধেয়। সুতরাং সম্পদ আসলে দুনিয়া-আখেরাত উভয় নির্মাণের মাধ্যম। সম্পদ নিন্দনীয় সেটাই, যা বিপথে অর্জিত হয় এবং অন্যায় স্থানে ব্যয়িত হয়। যে সম্পদ ব্যক্তিকে দাস বানিয়ে নেয়, তার আত্মার মালিক হয়ে যায় এবং তাকে আল্লাহ ও পরকাল থেকে বিমুখ করে দেয়। অতএব নিন্দনীয় যেটা কুপথে নেয় এবং সুপথ থেকে বিচ্যুত করে। নিন্দা আসলে সম্পদশালীর, সম্পদের নয়।
সম্পদে বিপদ ও পরীক্ষাও আছে, কোরআন যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ বলেন ‘সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে। এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।’ (সূরা আলাক : ৬-৭)। আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন ‘আর জেনে রাখ, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি অকল্যাণের সম্মুখীনকারী। বস্তুত আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা সওয়াব।’ (সূরা আনফাল : ২৮)। অন্যত্র বলেন ‘অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্য তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা তাগাবুন : ১৬-১৮)। তিনি আরও বলেন ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ। যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে। সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সঙ্গে থাকবে!’ (সূরা হুমাজাহ : ১-৩)। মানুষ লোভী ও কৃপণ। ‘আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।’ (সূরা মাআরিজ : ২১)। 

১২ সফর ১৪৪১ হিজরি মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত 
ভাষান্তর আলী হাসান তৈয়ব

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]