logo
প্রকাশ: ০৫:৪৬:২০ PM, শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
ছিনতাইকারীর হাতুড়িতে রক্তাক্ত রাবি শিক্ষার্থী
রাজশাহী ব্যুরো

ছিনতাইকারীর হাতুড়ির আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসেই এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে গোটা ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কেও। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচলও।

আর আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রক্টরও লাঞ্ছিত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর নাম ফিরোজ আনাম। তিনি রাবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জে। ফিরোজকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাসের নোটপত্র ফটোকপি করতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন ফিরোজ। এ সময় ছিনতাইকারীরা ফিরোজকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এতে ফিরোজের মাথা ফেটে যায়। পরে রক্তাক্ত ফিরোজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর হুমায়ন কবীর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উচ্চ বাক্যে কথা বললে শিক্ষার্থীরা তার উপর চড়াও হন। এ সময় এসআরকে রাজ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী ও কিশোর কুমার নামের আরেক শিক্ষার্থী হুমায়ন কবীরের গায়ে হাত তোলেন। রাজ রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। রাজ দাবি করেন, তিনি সহকারী প্রক্টরকে বাঁচাতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন, গায়ে হাত তোলেননি। কিশোর ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

এদিকে, সহকারী প্রক্টরের গায়ে হাত তোলায় কিশোর কুমারকে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা কিশোরকে না পেলে রাতভর আন্দোলন করার ঘোষণা দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাত চারটায় আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর শনিবার সকাল ১০টা থেকেই ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ, ছিনতাইকারীদের শাস্তিসহ আরো বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

রাবি ছাত্রলীগ, বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগও সমর্থন দিয়ে অংশ নেয়।

এদিকে ফিরোজ আনামকে মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এরা হলেন, রিফাত হোসেন নগরীর তালাইমারী এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন, শিরোইল এলাকার রাকিব আলীর ছেলে রিফাত হোসেন রাকেশ এবং মীর্জাপুর এলাকার খোরশেদের ছেলে পারভেজ।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা তিনজনকে আটক করেছি। তাদেরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। দ্রুতই বাকিদের আটক করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলো অবশ্যই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]