আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৩-২০১৬ তারিখে পত্রিকা

হালাল রুজির বিকল্প নেই

‘যে ব্যক্তি কারও এক বিঘাত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, কেয়ামতের দিন সপ্ত জমিনের অনুরূপ অংশ বেড়ি বানিয়ে তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।’

আল্লাহ তায়ালার সুস্পষ্ট ঘোষণা হলো, ‘আর পৃথিবীতে কোনো বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন।’ (সূরা হুদ : ৬)। ‘আমি জিন এবং মানুষকে আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের থেকে কোনো রিজিক চাই না এবং তাদের থেকে আমি খাবারও চাই না।’ (সূরা জারিয়াত : ৫৬-৫৭)। ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পবিত্র বস্তুসামগ্রী আহার করো, যেগুলো আমি তোমাদের রুজি হিসেবে দান করেছি এবং আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে থাক।’ (সূরা বাকারা : ১৭২)। 
এ আয়াতে হারাম খাদ্য ভক্ষণ করতে যেমন নিষেধ করা হয়েছে, তেমনি হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে এবং তা খেয়ে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি অত্যাবশ্যক। 
প্রকৃত মুসলমান হিসেবে জীবনযাপন করতে হলে হালাল রুজি উপার্জনের কোনো বিকল্প নেই। হালাল পথে উপার্জিত রুজি ভক্ষণে মানুষের স্বভাব-চরিত্র সুন্দর হয়, সুকুমার বৃত্তিগুলো বিকশিত হয় এবং সত্যানুরাগী হতে সহায়তা করে। অন্যদিকে হারাম রুজি মানুষের দেহ-মনের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে, নৈতিক অধঃপতনের প্রেরণা জোগায় এবং বিপথগামী হতে উদ্বুদ্ধ করে। 
তাই আল্লাহর বন্দেগির জন্য পূর্বশর্ত হলো পবিত্র বা হালাল পানাহার। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে রাসুল! তোমরা হালাল খাদ্য গ্রহণ করো এবং নেক আমল করো।’ (সূরা মোমিন : ৫১)। 
এ আয়াতে নেক আমল করার আগে পবিত্র বস্তু খেতে আদেশ করা হয়েছে। এখানে পবিত্র বস্তু বলতে হালাল মাল বোঝানো হয়েছে এবং ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, সৎকর্ম সম্পাদন করা তখনই সম্ভব হবে, যখন মানুষের আহার্য ও পানীয় বস্তু সামগ্রী হালাল হবে।
হালাল খাদ্য গ্রহণ ছাড়া আল্লাহ বান্দার কোনো আমল ও দোয়া কবুল করেন না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি একমাত্র পবিত্র বস্তুকেই কবুল করেন। আল্লাহ রাসুলদের যে আদেশ করেছেন, মোমিনদেরও সেই আদেশ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, ‘হে রাসুল! তোমরা হালাল পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ করো এবং সৎ আমল করো’। তিনি আরও বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আমার দেয়া হালাল পবিত্র রিজিক থেকে খাও।‘ অতঃপর রাসুল (সা.) উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে, তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলাবালি লেগে আছে। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তি উভয় হাত আসমানের দিকে তুলে কাতর স্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং সে হারামই খেয়ে থাকে। এ ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে!’ (মুসলিম : ২৩৯৩)।
অবৈধ সম্পদ দান করে নেকির আশা করাটাও গোনাহের কাজ। এ ব্যাপারে সুফিয়ান সাওরি (রা.) এর উক্তি প্রণিধানযোগ্য, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যে হারাম মাল ব্যয় করে, সে সেই ব্যক্তির মতো, যে আপন বস্ত্র প্রস্রাব দ্বারা পবিত্র করে। অথচ পাক পানি ছাড়া বস্ত্র পবিত্র হয় না। তেমনি হালাল মাল ছাড়া অন্যকিছু গোনাহকে দূর করে না।’ (ইহইয়াউল উলুমুদ্দিন)।
অবৈধ সম্পদ অর্জন করে দুনিয়াতে কোনো বিচারের মোখামুখি না হলেও হাশরের ময়দানে কঠিন আদালতে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।
কেয়ামতের দিবসে কোনো মানুষ নিজের স্থান থেকে এক বিন্দুও সরতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর নেয়া হবে। ‘সে তার জীবনকাল কীভাবে অতিবাহিত করেছে? তার জ্ঞান কী কাজে ব্যবহার করেছে? তার ধনসম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে? আর তার যৌবন কীভাবে কাটিয়েছে।’ (তিরমিজি : ২৪১৭)।
হারাম পথে অর্থ উপার্জন করলে এবং হারাম পথে অর্থ ব্যয় করলে পরকালীন জাহান্নাম অবধারিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারও এক বিঘাত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, কেয়ামতের দিন সপ্ত জমিনের অনুরূপ অংশ বেড়ি বানিয়ে তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।’ (বোখারি : ২৩২১)। ‘ওই শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যা হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত হয়েছে।’ (কানজুুল আমল : ৯২৬০)।