আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৪-২০১৬ তারিখে পত্রিকা

রায় বদলাতে আর্থিক লেনদেনও হয়েছিল -বিচারপতি শামসুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার আপিলের রায় বদলাতে আর্থিক লেনদেনও হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আপিল বিভাগ থেকে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাড়িতে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে দেয়া বক্তব্যে তিনি ওই অভিযোগ করেন।
বৈঠকে আলোচনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, এক থেকে দেড় মাস খুব যাতনায় ভুগেছি। দুইজন মন্ত্রী দ-িত হয়েছেন। এ দন্ড আমাদের জন্য আশীর্বাদ। ওনারা দন্ডিত, আমরা গর্বিত। আই ওউন ইট। এর পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই ঘটনার জন্যই মীর কাসেমের এ রায় এসেছে। না হলে রায় অন্যদিকে চলে যেত। কত টাকার যে লেনদেন হয়েছে। কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকা- নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, তনু হত্যা সম্পর্কে চিফ জাস্টিস যা বলেছেন, তা যদি রাস্তার কোনো লোক বলত, মানা যেত। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বর্তমান আইনে তনু হত্যার বিচার করা সম্ভব নয়। এটা কেমন কথা হতে পারে? দেশের সর্বোচ্চ বিচারকের কাছ থেকে এ ধরনের কথা আসায় তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য কোনো বিচারকের কাছ থেকে আশা করা যায় না। আইনপ্রণেতারা অজ্ঞ- প্রধান বিচারপতির এ কথাটাও সঠিক নয়। আমাদের সংসদে অনেকেই আছেন, যারা বিশ্বমানের। সে কারণেই সিপিএ এবং আইপিইউতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংসদে কোনো আইন তৈরি হয় না। সংসদে আইন আসে খসড়া হিসেবে। এটা তৈরি করেন আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা। সংসদ সদস্যদের বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। উনি (প্রধান বিচারপতি) কীভাবে এটা বললেন! এটা বোঝার জন্য সংবিধানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।
গোলটেবিল বেঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্দেশদাতা হিসেবে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিচার হলে একই অপরাধে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ারও বিচার করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই মানুষ হত্যাসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। এ কারণেই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। একই অপরাধে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান নেতা খালেদা জিয়ারও বিচার হওয়া উচিত। কারণ জিয়ার নির্দেশেই প্রহসনের বিচারের নামে শত শত মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর খালেদা এখন নির্দেশ দিয়ে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ মেরেছে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে বিদেশিরা দ্বৈতনীতি অবলম্বন করছে- উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক নীতি এবং বাংলাদেশের সংবিধান মেনেই বিচার করা হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে দাবি করে ইনু বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার যেমন চেষ্টা হয়েছে, তেমনি শফিক রেহমানের পক্ষ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতা তার (শফিক রেহমান) অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি মহল তার (শফিক রেহমান) অপরাধকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অলিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ, সাবেক মেজর জেনারেল শিকদার আহমেদ প্রমুখ।