আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-১১-২০১৬ তারিখে পত্রিকা

২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব। এ বছরের বড় আয়োজন ‘করপোরেট গ্লাডিয়েটরস’, যাতে অংশ নেয় সারা দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি দল

বাণিজ্যের বাড়তি অধ্যয়ন

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব

২০১২ সালের কথা। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কিছু তরুণ ভাবলেন নতুন কিছু করবেন। ২০০৩ সালে ভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তখনও গড়ে ওঠেনি কোনো বিজনেস ক্লাব। ফলে তারা চিন্তা করলেন বিজনেস ক্লাব গড়ে তুলবেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথাও বললেন। শিক্ষকরা এ বিষয়ে ছিলেন খুবই আগ্রহী। ফলে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলী হাসান অর্ণবের নেতৃত্বে ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব। সে সময় ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৮। এ ১৮ জনকে নিয়েই শুরু হয় তাদের পথচলা। সময়ের পরিক্রমায় এটিই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাব।
প্রথম থেকেই এ ক্লাব কিছু নিয়মিত প্রোগ্রাম আয়োজন করে আসছে। ক্লাবের প্রথম প্রোগ্রাম ছিল ‘মার্কেটিং সামুরাই’। যেটা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। প্রতিযোগিতাটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে। মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও ৩৬০ ডিগ্রি নামে একটি প্রোগ্রাম তারা নিয়মিত আয়োজন করে থাকে। মূলত বিবিএ’র ছাত্রদের জন্যই তারা এটা করে থাকে। প্রতি ৬ মাস অন্তর তারা এ প্রোগ্রামটি করে থাকে। সেখানে বিভিন্ন বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা আসেন। যারা কর্মক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। প্রত্যেক ট্রাই সেমিস্টারে ‘কফি উইথ ফ্যাকাল্টি’ নামে একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেন। তাদের মনের কথা শেয়ার করেন। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা জানতে চান।
এ প্রোগ্রাম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ক্লাবের সদস্য ইশতিয়াক রব্বানি, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণত খুব একটা ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো হয় না। কিন্তু এ প্রোগ্রামটিতে আমরা শিক্ষকদের খুব কাছে পাই। তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা শেয়ার করি, যা হয়তো ক্লাসরুমে বলা সম্ভব নয়। তারাও তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে সেসব সমস্যার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেন।’
‘মিট দ্য করপোরেট ইউআইইউইয়ানস’ নামে আরেকটি প্রোগ্রাম আয়োজন করে থাকে এ ক্লাবটি। ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা পাস করে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এখন ভালো পদে চাকরি করছেন, তাদের আমরা এ অনুষ্ঠানে ডেকে থাকি। কারণ তারাই আমাদের ছাত্রদের সুবিধা-অসুবিধা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। তারা কাজের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে সেগুলো কাটিয়ে উঠা যায়Ñ এসব তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।’ এভাবেই এ প্রোগ্রামের বর্ণনা দেন ক্লাবের সভাপতি শোয়েব মাহমুদ পিয়াস।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব আয়োজিত সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম ছিল এ বছরের জুলাইয়ে আয়োজিত ‘করপোরেট গ্লাডিয়েটরস’। এ প্রোগ্রামে সারা দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি দল অংশগ্রহণ করে। যেহেতু এটি পুরো ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ নিয়ে হয়েছিল তাই তিন রাউন্ডে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। প্রথম রাউন্ডে ৫৬টি থেকে ২৪টি দল বাছাই করা হয়, এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে ২৪টি থেকে আটটি দল ফাইনাল রাউন্ডে যায়। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল।
এ প্রতিযোগিতা নিয়ে ক্লাবের সাবেক সভাপতি তারেক পলিন বলেন, ‘এটিই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম। অন্যান্য প্রোগ্রাম সাধারণত ব্যবসায় প্রশাসনের যে কোনো একটা দিক নিয়ে হয়; কিন্তু আমাদের এ প্রোগ্রামে আমরা মার্কেটিং, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং সব বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত রেখেছিলাম। ফলে সব বিভাগের শিক্ষার্থীই এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিল।’
এ ক্লাব শুধু বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনই করতে চায়, তা নয়। তারা চায় তাদের সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে। যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে ভালো করেন। করপোরেট জগতে নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেন। এ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত না হলে হয়তো এখানকার অনেক সদস্যেরই করপোরেট জগৎ নিয়ে ধারণাই পাওয়া হতো না এমনটাই মনে করেন ক্লাবের সহ-সভাপতি এস কে মুনাব্বির হাসান। ক্লাবের সদস্যরা একদিন দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন, দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন এমনটাই স্বপ্ন দেখেন ক্লাবের সবাই। 


খবরটি পঠিত হয়েছে ৩৫৬৪০ বার