আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

ডায়ালাইসিসে চুলকানি কমানোর উপায়

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ বা অন্য কোনো কারণে কিডনি নষ্ট বা অথর্ব হয়ে গেলে, কিডনির কাজ কৃত্রিমভাবে মেশিনের সাহায্যে মোটামোটি সারিয়ে নিয়ে অনেকটা ভালো থাকা যায়। আর এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডায়ালাইসিস।
ডায়ালাইসিসে সম্ভাব্য সমস্যাবলি : নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ফলে এসব রোগীর চলাফেরা, কাজকর্ম ও জীবনযাপনে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এলেও, মাঝে মাঝে রক্তচাপ কমে বা বেড়ে যাওয়া, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, শরীর ব্যথা, হাত-পায়ের মাংস টেনে আসা, নিদ্রাহীনতা, দুর্বলতা ও চুলকানিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়ালাইসিসের সময় কিছু জরুরি সমস্যার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করা হলেও বাকিগুলোর জন্য ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ ও নিয়মকানুন মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন।
চুলকানি কমানোর কিছু উপায় : ডায়ালাইসিসকারীর অনেকেরই চামড়ায় চুলকানির সমস্যা হয়। এ সমস্যা ডায়ালাইসিসের সময় বা তার অব্যবহিত পরে, মাঝে মাঝে বা অনবরতও হতে পারে। চুলকাতে গিয়ে অনেকের শরীরে ফোসকা পড়ে যায় এবং তা সারাতেও সময় লাগে। এসব রোগীর শরীরে অতিরিক্ত ফসফরাসের জন্য এমনটি হয়ে থাকে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়। ডায়ালাইসিসের কারণেও চামড়ায় পানি স্বল্পতার জন্য চুলকানি হতে পারে। তাছাড়া ডায়ালাইসিসের সময় কৃত্রিম কিডনিতে (ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত মেশিন) ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি ও রক্তে অতিরিক্ত বর্জ্য পদার্থের জন্যও চুলকানির উদ্রেক হতে পারে। ডায়ালাইসিসকারীদের ঘুম এমনিতেই কম হয়। চুলকানির জন্য নিদ্রাহীনতা আরও বেড়ে যেতে পারে। কিছু নিয়ম মেনে চললে রোগীর চুলকানি লাঘবে অনেকটা উপকার হয়। যেমনÑ
    কিডনি-বান্ধব অল্প ফসফরাসযুক্ত খাদ্য। যেমনÑ শুকনো চেরিফল বা কিশমিশ, স্ট্রবেরি, গাজর, ফুলকপি, শসা, মাছ ও দেশি মুরগির গোশত খাওয়া উচিত।
   নিয়মিত গোসল করা। গোসলে কুসুম গরমের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। গোসলের পর চামড়ায় ময়শ্চারাইজিং ক্রিম, জেল বা লোশন ব্যবহার করা হিতকর।
  নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুতি কাপড় পরা।
   চুলকানির জায়গায় শীতল জলপট্টি দিলে চুলকানি কমে।
    গায়ে নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় সূর্যের আলো লাগিয়েও (১৫-২০ মিনিট) চুলকানি কমানো যায়।
   অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে ও কেলামিলন লোশন লাগালে চুলকানি কমে।
    অতিরিক্ত চুলকানি হলে, অতিবেগুনি রশ্মিযুক্ত ফটোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. নাসির উদ্দীন মাহমুদ 
ইয়ামাগাতা হাসপাতাল, লালমাটিয়া, ঢাকা
 


খবরটি পঠিত হয়েছে ৩৪০ বার